kalerkantho


গরুর চামড়ার দর কমল

ঢাকায় ৪৫-৫০ বাইরে ৩৫-৪০ টাকা নির্ধারণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



ঢাকায় ৪৫-৫০ বাইরে ৩৫-৪০ টাকা নির্ধারণ

মালিকদের সঙ্গে দুই দফা বৈঠক শেষে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম গতবারের চেয়ে বর্গফুটে পাঁচ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এবার ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, ঢাকার বাইরে এটি হবে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। খাসির চামড়া সারা দেশে ১৮ থেকে ২০ টাকা বর্গফুট এবং বকরির চামড়া ১৩ থেকে ১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে কোরবানির পশুর চামড়ার মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত এক বৈঠকে সরকার ও চামড়া ব্যবসাসংশ্লিষ্ট চারটি ব্যবসায়ী সংগঠনের যৌথ বৈঠকে দর নিয়ে আলোচনা করা হয়। আনুষ্ঠানিক বৈঠকে দাম নির্ধারণ সম্ভব না হওয়ায় পরে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পৃথক আরেকটি বৈঠক করেন। সেখানে দাম নির্ধারণ শেষে তা ঘোষণা করা হয়।

গত বছর ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট চামড়া ৫০-৫৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৪০-৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ ছাড়া প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়া ২০-২২ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৫-১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘এবার কাঁচা চামড়ার দাম গতবারের তুলনায় কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, সাভার বিসিক চামড়া শিল্প নগরীর কমপ্লায়েন্স ইস্যু, ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার প্রবণতা এবং গত বছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীদের টিকিয়ে রাখতেই এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মূল্য বাস্তবসম্মত। সবার স্বার্থ রক্ষা হবে।’ সরকার ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হয়ে যাচ্ছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার ব্যবসায়ীদের বন্ধু। কারণ ব্যবসায়ীরাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের ভূমিকার কারণেই দেশের ধারাবাহিক উন্নয়ন হচ্ছে। ফলে সরকার যদি তাদের উৎসাহিত না করে তাহলে তারা নিরুৎসাহ হয়ে পড়বে। এখানে জিম্মি বলাটা সঠিক নয়।

বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন পাঠায়। প্রতিবেদনে ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দর ৫৫-৬০ এবং ঢাকার বাইরে ৪৫-৫০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া সারা দেশে খাসির চামড়া ২৫-২৭ টাকা এবং বকরির চামড়া ২০-২২ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করে। তবে মূল্য নির্ধারণী বৈঠকে ব্যবসায়ীরা কাঁচা চামড়ার দাম গত বছরের তুলনায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমানোর দাবি জানায়।

গত বছর ঢাকাসহ সারা দেশে চামড়ার দাম নির্ধারণের সময় আগের বছরের মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হয়। যদিও ট্যারিফ কমিশন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দর ও চাহিদা দুটোই বেড়েছে। গত বছরও সাভার বিসিক চামড়া শিল্প নগরীর কমপ্লায়েন্স ইস্যু তুলে দাম বাড়ানো হয়নি।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, এখন ট্যানারি মালিকদের গুদামে গত বছরের ৪০ শতাংশ চামড়া স্টক রয়েছে। ক্রেতা না পাওয়ায় এগুলো বিক্রি করা যায়নি। এসব চামড়ার মানও এখন দিন দিন কমে যাচ্ছে। তা ছাড়া নানা কারণে ট্যানারি মালিকরা গত বছরের চামড়া কেনায় ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ এখনো পরিশোধ করতে পারেনি। ফলে চলতি বছর ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রেও এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই চামড়ার বিদ্যমান দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এতে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবে। তবে চামড়া যাতে পাচার হতে না পারে, সে বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

দ্রব্যমূল্য সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি সারা দেশে স্বাভাবিক ও সহনীয় আছে। কোরবানিতেও দাম স্থিতিশীল থাকবে। কোনো পণ্যে ঘাটতি নেই। পাইকারি ও খুচরা বাজারে যাতে পণ্যমূল্যের পার্থক্য যৌক্তিক হয়, সে বিষয়ে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে।



মন্তব্য