kalerkantho


দিনাজপুরের বীরগঞ্জে দুই খুন

হত্যাকারীকে পুড়িয়ে হত্যা

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

১০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



হত্যাকারীকে পুড়িয়ে হত্যা

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা এবং ঘটনাস্থলে থাকা এক পিতা ও তাঁর শিশুপুত্রকে কুপিয়ে জখম করার জেরে তিন ঘণ্টার ব্যবধানে বিক্ষুব্ধ জনতা সন্দেহভাজন হত্যাকারীকে পিটুনি দেওয়ার পর আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। জনতা সন্দেহভাজন ওই হত্যাকারীর বসতবাড়িতেও আগুন দেয় এবং পাঁচ ঘণ্টা সড়কও অবরোধ করে রাখে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

নিহতরা হলেন বীরগঞ্জ উপজেলার পৌর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জগদল হাটপুকুর জেলখানা মোড় এলাকার মৃত কাশেম আলীর ছেলে ভ্যানচালক সুরুজ আলী (৪০) এবং তাঁকে হত্যায় সন্দেহভাজন একই এলাকার তারা মিয়ার ছেলে রবিউল ইসলাম (৩২)। আহতরা হলেন বীরগঞ্জ উপজেলার হাটখোলা এলাকার মৃত মধু মিয়ার ছেলে নৈশপ্রহরী শরিফ শহিদ (৫০) ও তাঁর ছেলে একরামুল হক শামিম (৩)। তাদের প্রথমে বীরগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সুরুজ আলী হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টায় শালবাগান সাব-জেলখানা গেট নামক এলাকায়। আর হত্যাকারী সন্দেহে রবিউলকে লোকজন পুড়িয়ে হত্যা করেছে সকাল ৮টায়। বিক্ষুব্ধ জনতা সকাল ১০টা পর্যন্ত দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, ভোরে স্থানীয় মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার সময় প্রথমে হামলার শিকার হন ভ্যানচালক সুরুজ মিয়া। ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান তিনি। এ ঘটনার পরপরই সেখানে থাকা একই এলাকার একটি মুরগি ফার্মের নৈশপ্রহরী শরিফ শহিদ এবং তাঁর তিন বছর বয়সী শিশুপুত্র একরামুল হক শামিমকে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম। হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে জনতা ভোর ৫টার সময় থেকে গাছ ফেলে এবং আগুন জ্বালিয়ে দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। সকাল ৮টার দিকে রবিউলের বাড়ি থেকে রক্তমাখা জামাকাপড় উদ্ধার করে এলাকাবাসী। পরে  রবিউলকে ১৩ মাইল গড়েয়া এলাকা থেকে ধরে ঘটনাস্থলে এনে গণপিটুনি দিয়ে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

সকাল ৯টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর সকাল ১০টায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের সহায়তায় আগুন নিভিয়ে রবিউলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

সন্দেহভাজন হত্যাকারী রবিউল ইসলামের বসতবাড়িতেও আগুন দেয় এবং ভাঙচুর করা হয়। এ সময় পুলিশ রবিউলের মা রওশনারা বেগম ও বোন সুলতানাকে আটক করে নিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন জানায়, অভিযুক্ত রবিউল দুই মাস আগে সুরুজ মিয়ার ভাতিজা চা দোকানদার বসির উদ্দিনকেও কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। এ ছাড়া আরো কয়েক ব্যক্তিকে সে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। 

স্থানীয় কয়েকজন জানায়, রবিউল একজন মাদকাসক্ত যুবক। তার বিরুদ্ধে রাস্তার ধারে ঝোপেঝাড়ে লুকিয়ে থেকে স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীদের জাপটে ধরে চুমু দেওয়াসহ শ্লীলতাহানি করার অভিযোগ রয়েছে। এ রকম এক ঘটনায় উত্তেজিত গ্রামবাসী রবিউলকে ধরে একবার পুলিশেও সোপর্দ করে। সে সময় পুলিশ ১২ ঘণ্টা থানায় আটক রাখার পর তাকে ছেড়ে দেয়। এতে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী থানা ঘেরাও করে রবিউলকে গ্রেপ্তার ও শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছিল।

বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শাকিলা পারভীন দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনা তদন্ত ছাড়া এ সম্পর্কে এখনই কিছু পরিষ্কার করে বলা যাবে না।

দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, এই ঘটনায় দুটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ দুটি দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

 



মন্তব্য