kalerkantho


কালের কণ্ঠ-ওরিয়ন গ্রুপ গোলটেবিল আলোচনা

ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের নানা রোগের প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের নানা রোগের প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে

কালের কণ্ঠ’র আয়োজনে ও ওরিয়ন গ্রুপের সহযোগিতায় গতকাল ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের সম্মেলন কক্ষে ‘বক্ষব্যাধি চিকিৎসা পরিস্থিতি : প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বায়ুদূষণের প্রভাবে দেশে মানুষের ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের নানা রোগের প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। এ রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতার পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার পরিধি বৃদ্ধি, দক্ষ জনবল সৃষ্টি ও মানসম্পন্ন ওষুধ আরো সহজলভ্য করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গতকাল শনিবার কালের কণ্ঠ’র আয়োজনে ও ওরিয়ন গ্রুপের সহযোগিতায় ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের সম্মেলন কক্ষে ‘বক্ষব্যাধি চিকিৎসা পরিস্থিতি : প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় দেশের চিকিৎসা খাতে নানা উন্নয়ন, অগ্রগতি, সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে সুপারিশ ও পরামর্শও উঠে আসে।

কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলনের সঞ্চালনায় ওই গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কালের কণ্ঠ’র নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা কামাল ও ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেডের গ্রুপ প্রডাক্ট ম্যানেজার গোলাম জিলানী মাহবুবে আলম।

আলোচনা করেন ‘বাংলাদেশ চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশন’ এবং ‘বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর অনকোলজি অ্যান্ড ইন্টারভেনশনাল পালমোনোলজি’র সভাপতি অধ্যাপক ডা. মির্জা মোহাম্মদ হিরণ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এমবিডিসি) অধ্যাপক ডা. সামিউল ইসলাম সাদী, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের  পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. শাহেদুর রহমান খান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসপিরেটরি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোশাররফ হোসেন, ‘বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর অনকোলজি অ্যান্ড ইন্টারভেনশনাল পালমোনোলজি’র মহাসচিব ডা. মো. সাইদুল ইসলাম, বাংলাদেশ চেস্ট অ্যান্ড হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ও শ্যামলী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বক্ষব্যাধি হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আবু রায়হান, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের থোরাসিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ কে এম একরামুল হক এবং মুগদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের বক্ষব্যাধি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আদনান ইউসুফ চৌধুরী।

বৈঠকে কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘জাতীয় দৈনিক হিসেবে কালের কণ্ঠ অনেক বিষয় নিয়ে কাজ করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতের উন্নয়ন ও মানুষকে সচেতন করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি আমরা।’

ইমদাদুল হক মিলন বলেন, “একটা সময় প্রচলিত ছিল, ‘যার হয় যক্ষ্মা, তার নাই রক্ষা’। তখন আমরা সত্যিই যক্ষ্মা রোগীদের বাঁচাতে পারতাম না। কিন্তু এখন সেই অবস্থা নেই। বক্ষব্যাধির মধ্যে আরো অনেক প্রাণঘাতী অসুখ-বিসুখ রয়েছে। আমরা তার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গঠনের কাজ করছি। কিছুদিন আগেও বক্ষব্যাধির চিকিৎসা পাওয়া ছিল বেশ দুষ্কর। এখন বক্ষব্যাধির চিকিৎসা সুলভ হয়েছে বলা যায়। বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসকদের কাছে গেলে আরোগ্য পাওয়া যায়। আমরা বিশ্বাস করি, সচেতন হলে বক্ষব্যাধি ও হৃদরোগসহ নানা রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায়। সচেতনতাই হলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা তাই জনসচেতনতা গঠনের জন্য নানা কিছু করছি।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের বক্ষব্যাধি বাড়ছে। আজকাল কিন্তু আমরা ঘরের জানালা খুলি না। সব সময় বন্ধ থাকার কারণে বাইরের আলো প্রবেশ করে না। সারাক্ষণ ঘরে এসি চালানোর ফলে আমাদের অনেকগুলো রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বায়ুদূষণ ও পরিবেশদূষণের মধ্য দিয়ে এ পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠছে।’

ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের চিকিৎসক ও জনবল এখনো যথেষ্ট নয়। এ বিষয়ে আমাদের নজর আছে। সরকার জনবল বাড়াতে একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে। এখন চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। সারা দেশে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে চিকিৎসক সংকট।’

কালের কণ্ঠ’র নির্বাহী সম্পাদক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘জন্মলগ্ন থেকেই কালের কণ্ঠ বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে স্বাস্থ্য খাতকে। আমাদের নিয়মিত স্বাস্থ্যবিষয়ক আয়োজন রয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতের বিভিন্ন খবরাখবর আমরা গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করি। আমাদের দেশে বক্ষব্যাধির মূল কারণ হলো বায়দূষণ। বায়ুদূষণের ক্ষেত্রে পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ শহরে পরিণত হয়েছে ঢাকা শহর। এখানে বায়দূষণের মাত্রা অনেক বেশি, যার প্রভাবে মানুষ নানা অসুখ-বিসুখে ভুগছে।’

অধ্যাপক ডা. মির্জা মোহাম্মদ হিরণ বলেন, ‘বক্ষব্যাধির চিকিৎসায় আমরা এখন অনেক এগিয়ে গেছি। দেশেই এখন উন্নত মানের অনেক চিকিৎসা প্রযুক্তি রয়েছে। জনবলের সংকট থাকলেও সরকারি ব্যবস্থাপনায় সারা দেশেই কাজ চলছে। তার পরও বলব, এখনো এই চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাকে আরো জোরদার করতে বিভিন্নমুখী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সচেতনতার মাত্রাকেও আরো বাড়াতে হবে। ওষুধের দাম ও মানের দিকেও নজর দিতে হবে।’

ওরিয়ন ফার্মার গ্রুপ প্রডাক্ট ম্যানেজার গোলাম জিলানী মাহবুবে আলম বলেন, ‘বক্ষব্যাধির অন্যতম কারণ হলো ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ, পরিবেশদূষণ ও ধূমপান। এ অবস্থায় বক্ষব্যাধি রোগীর সংখ্যা বেড়েছে আগের চেয়ে বেশি। বক্ষব্যাধির চিকিৎসায় উন্নত ওষুধ এবং এ বিষয়ে গবেষণাকাজ করছে ওরিয়ন ফার্মা। আমরা বিশ্বাস করি, উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশও বক্ষব্যাধি নিয়ন্ত্রণে ও চিকিৎসায় বেশ এগিয়ে যাবে।’



মন্তব্য