kalerkantho


তিন সিটির নির্বাচন

বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্বের সুবিধা নিতে চায় আওয়ামী লীগ

আবদুল্লাহ আল মামুন   

২০ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্বের সুবিধা নিতে চায় আওয়ামী লীগ

সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সামনে রেখে রাজশাহী, সিলেট ও বরিশালে বড় দুই দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নতুন করে প্রকাশ্যে এসেছে। তবে অন্তর্দ্বন্দ্বে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে বিএনপি। আর শাসক দলটির শীর্ষ মহল তিন সিটিতে প্রতিপক্ষের অন্তর্দ্বন্দ্বের এই দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে মেয়র পদপ্রার্থীদের জয়ী করে আনার হিসাব কষছে। সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দলীয় সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানিয়েছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের শক্তি জনগণ। আমরা দেশের উন্নয়ন করেছি। সে জন্য ভোটাররা আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ভোট দেবে। অন্যদিকে বিএনপির নিজেদের মধ্যেই দ্বন্দ্ব আছে। ২০১৪-১৫ সালে তারা যেভাবে মানুষকে হত্যা করেছে, জ্বালাও-পোড়াও করেছে, তা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। তা ছাড়া বিএনপি একটি দুর্নীতিপরায়ণ দল। ওই দলে দলাদলি থাকবে, এটাই স্বাভাবিক।’

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সঙ্গে নেই সাবেক মেয়র ও দলের কেন্দ্রীয় নেতা মিজানুর রহমান মিনুর সমর্থক নেতাকর্মীরা। মিনু সার্বক্ষণিক বুলবুলের পাশে থাকলেও এ নির্বাচন করার ব্যাপারে তাঁরই সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল বলে জানা গেছে। ২০ দলীয় জোটের শরিক বিএনপির মিত্র জামায়াতের নেতাকর্মীরাও বুলবুলকে সমর্থন করছে না। চাওয়া আর না পাওয়ার হিসাব কষেই তারা দূরে সরে আছে। এটা বিএনপির মেয়র প্রার্থীর জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে।

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বিষয়ে বলেন, ‘তাদের মধ্যে দলাদলি আছে। অনেকে নির্বাচন থেকে সরে আছে। নির্বাচনে এটা অবশ্যই আমাদের মেয়র প্রার্থীর জন্য একটি ইতিবাচক দিক।’

সিলেটে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যস্থতায় বিদ্রোহী মেয়র পদপ্রার্থী ও মহানগর বিএনপির বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম গতকাল বৃহস্পতিবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এখানে বিএনপির সব নেতা দলীয় মেয়র পদপ্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে কাজ করছেন না। এর প্রধান কারণ তাঁদের মধ্যে আরিফুল হক মেয়র থাকার সময়ের চাওয়া-পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। এ ছাড়া এখানে বিএনপির মিত্র জামায়াতের মেয়র প্রার্থী রয়েছেন। সব মিলিয়ে সিলেটেও বিএনপি বেশ সংকটজনক অবস্থায় রয়েছে।

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিলেটে বিএনপির মধ্যে যে দ্বন্দ্ব তা দীর্ঘদিনের। অন্যদিকে আমাদের দল সুসংহত। এ অবস্থায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জয়ী হবেন।’

বরিশালে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে মজিবর রহমান সরোয়ারের মনোনয়নে খুশি নন সদ্য সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামাল। এ ছাড়া সিটি নির্বাচনে বরিশাল দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি এবায়দুল হক চান ও কেন্দ্রীয় নেত্রী বিলকিস আক্তার শিরীনও প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। তা থেকে ভেতরগতভাবে একটা বিরোধ রয়েই গেছে।

বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্বের উল্লেখ করে বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম আব্বাছ চৌধুরী দুলাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা আমাদের কাজে লাগবে। তবে এ নিয়ে উত্ফুল্ল নই। সুবিধা নিতে পারলে ভালো।’

 



মন্তব্য