kalerkantho


স্বপ্নপূরণের অপেক্ষায় পগবা

১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



স্বপ্নপূরণের অপেক্ষায় পগবা

ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোর স্লোগান, ‘ফ্রান্স ইজ ব্যাক’। ফুটবলে দিদিয়ের দেশমের দলের বেলায় দারুণভাবে মিলছে সেটা। আবারও সোনালি দিন ফিরে এসেছে ফরাসি ফুটবলে। দুই বছর আগে ইউরোর ফাইনালে পৌঁছেছিলেন আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান, পল পগবারা। শিরোপা জেতা হয়নি দুর্ভাগ্যে। দুই বছর পর মঞ্চটা আরো বড়, বিশ্বকাপ ফাইনাল। ১৯৯৮, ২০০৬ সালের পর এ নিয়ে তৃতীয়বার। ’৯৮-এ জিনেদিন জিদান, দিদিয়ের দেশম, লিলিয়ান থুরামরা এনে দেন স্বপ্নের বিশ্বকাপ। ২০ বছরের খরা এবার কাটাতে পারবেন কি গ্রিয়েজমান, পগবার দল?

ভরসা দিচ্ছেন মিডফিল্ডার পল পগবা। ইউরোর মতো ফাইনাল হারতে চান না তিনি। সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার স্বপ্নপূরণের অপেক্ষায় ফ্রান্সের মাঝমাঠের প্রাণ, ‘আমরা একটা স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলাম। সেটা পূরণ করতে হবে। কাজ শেষ হয়নি এখনো।’ ১৯৯৮ সালের সঙ্গে ফরাসি দৈনিক লেকিপ মেলাতে শুরু করেছে বর্তমান দলটির। তখনকার গোলরক্ষক বার্থেজ এখনকার লরি। ব্লঁ-দেশাই হচ্ছেন ভারানে-উমিতিতি। জিদানের সঙ্গে মিল খোঁজা হচ্ছে গ্রিয়েজমানের। তখনকার অধিনায়ক ও বর্তমান কোচ দেশমের সঙ্গে মেলানো হচ্ছে পগবাকে। দেশম ছিলেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। পগবা সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হলেও খেলতে পারেন অ্যাটাকিং ও ডিফেন্সিভ দুই মিডফিল্ডারের ভূমিকায়। বেলজিয়ামের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ছিলেন আবার মাঠজুড়ে।

পগবাকে ঘিরে তাই মাতামাতি ফ্রান্স। অথচ বিশ্বকাপ শুরুর আগে খোদ ফরাসি দর্শকরা দুয়ো দিয়েছিলেন তাঁকে। ইতালির বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে পগবা মাঠ ছাড়ার সময় দুয়ো দিচ্ছিলেন দর্শকরা। দুয়ো শোনার সেই যন্ত্রণা এখনো পোড়ায় পগবাকে। সেটা লুকালেন না তিনি, ‘আবারও বলছি কারো কাছে কিছু প্রমাণের নেই আমার। আমি উঠে এসেছি...থাক বলতে চাই না। অবশ্যই কোনো শিরোপাও জিতিনি। এর পরও একটাই কাজ করতে পারি, হৃদয় দিয়ে ফুটবল খেলা। ফুটবল আমার ভালোবাসা, প্রথম ভালোবাসা। ভালো কথা শুনতে পারি, খারাপ কথাও শুনতে পারি। কিন্তু আমার ভালোবাসার জন্য লড়াই করে যাব। জানি সব সময় সেরাটা খেলতে পারব না। কখনো কখনো আবার পারব। এভাবেই জীবন এগিয়ে চলে আর মানিয়ে নিতে হবে আমাকে।’

২০১৩ সালে ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জিতেছিলেন পগবা। জুভেন্টাসের হয়ে জিতেছেন চারটি সিরি ‘এ’ আর দুটি ইতালিয়ান কাপ। ২০১৬ সালে পুরনো ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেন তখনকার রেকর্ড ১০৫ মিলিয়ন ইউরো ট্রান্সফার ফিতে। সাফল্য বলতে ২০১৬-১৭ মৌসুমের ইউরোপা লিগ। এবার বিশ্বকাপ জয়ের সামনে পগবা। আর ফাইনালে পৌঁছেই যে ফ্রান্স শিরোপা জিতে যায়নি স্মরণ করিয়ে দিলেন সবাইকে, ‘বলছি না এখনো তরুণ আছি। আবার বুড়োও হয়ে যাইনি। আরো উন্নতি করতে পারি আমি। চেষ্টাও করছি। তবে নিজেদের ফেভারিট বলছি না আমি। ভুলিনি বিশ্বকাপের আগে ফ্রান্সের সামর্থ্য নিয়ে সন্দেহ করার কথা। এখনো কিছুই জিতিনি আমরা। ফাইনালে দুটি দল খেলবে আর শিরোপা একটাই। ক্রোয়েশিয়া আমাদের চেয়ে ৯০ মিনিট বেশি খেলেছে (নক আউটে তিনটি ম্যাচই গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে)। জানি না এটা ওদের কিছুটা পিছিয়ে রাখবে কিনা অথবা জয়ের জন্য ক্ষুধার্ত করবে আরো।’

লুকা মডরিচ দুর্দান্ত খেলে ক্রোয়েশিয়াকে নিয়ে এসেছেন সেমিফাইনালে। পগবা অবশ্য শুধু ভয় পাচ্ছেন না তাঁকেই, ‘ওদের রাকিটিচ, পেরিসিচ এমনকি ডিফেন্ডাররাও ভয়ংকর। একজনের ওপর নির্ভরশীল দল নয় ক্রোয়েশিয়া।’ লেকিপ

 



মন্তব্য