kalerkantho


হেরেও গর্বিত ইরান

রাহেনুর ইসলাম   

২২ জুন, ২০১৮ ০০:০০



হেরেও গর্বিত ইরান

দূর্ভাগ্য, নির্মম, নিষ্ঠুর- এই শব্দগুলোয় সান্ত্বনা খুঁজছে ইরান। লাল জার্সিতে ‘লাল দূর্গ’ গড়ে স্পেনকে প্রায় ঠেকিয়েই দিয়েছিল এশিয়ার দলটি। হতাশার এক গোলে পিছিয়ে পড়লেও সমতা ফেরায় দারুণ দৃঢ়তায়। ৬২ মিনিটে সাঈদ এজাতোলাহি বল জালে জড়িয়ে মাতলেন উল্লাস। সঙ্গে পুরো দল। সেটা মিলিয়ে গেল কয়েক সেকেন্ড পর! ভিএআরে রেফারি নিশ্চিত হলেন অফসাইড ছিলেন এজাতোলাহি। বীরের মত খেলেও বুক ভাঙ্গে ইরানের। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডের দ্বারপ্রান্তে স্পেন। তবে হেরেও গর্বিত ইরানি কোচ কার্লোস কুইরোজ,‘ আমরা ১ গোলে হেরে মাঠ ছেড়েছি তবে শ্রদ্ধা অর্জন করেছি পুরো বিশ্বের। আমি নিশ্চিত সমর্থকরা গর্বিত এমন পারফর্ম্যান্সে।’

৫৪ মিনিটে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করা ডিয়েগো কোস্তাও মেনে নিচ্ছেন স্পেনের জয়টা এসেছে সৌভাগ্যে,‘ গোলের সময় কিছুটা সৌভাগ্যের ছোঁয়া পেয়েছি। ম্যাচটা কঠিন ছিল, এমন গোলে তাই খুশি আমি।’

স্পেনের বলের দখল ৭৮ শতাংশ। প্রায় পুরোটা সময় ইরানের অর্ধে থেকে গোলের দেখা পাচ্ছিল না ২০১০-এর চ্যাম্পিয়নরা। বাছাইপর্বে ১ হাজার ১২১ মিনিট গোল না খেয়ে রেকর্ড গড়েছিল ইরান। কেন, সেটা বোঝাল গতপরশু। ইনিয়েস্তা, ইসকোরা পাস খেলেছেন ৫০০’র মত কিন্তু রক্ষণে হুল ফোটানোর মত ছিল না সেগুলো। ইরানের প্রতিরোধ ভাঙ্গে ৫৪তম মিনিটে। আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার ডিফেন্স চেড়া পাস পেয়ে ছোট্ট টার্ন করেছিলেন কোস্তা। সঙ্গে লেগেছিল দুই ডিফেন্ডার। মজিদ হোসেইনি সেটা ক্লিয়ার করতে গেলে কোস্তার হাঁটুতে লেগে জড়িয়ে যায় জালে। এই আসরে এটা কোস্তার তৃতীয় গোল।

আসলে ভাগ্যটাই পক্ষে ছিল না ইরানের। নইলে ৪৯ মিনিটে করিম আনসারিফার্দের বুলেট শট বার ঘেঁষে গিয়ে আছড়ে পড়ে স্পেনের সাইড নেটে। ৬২ মিনিটে বল জালে জড়ালেও ভিএআরে বাতিলই-বা হবে কেন? ইরান পোস্টে শট নিয়েছিল ৭টি, এর একটিও লক্ষ্যে ছিল না। বিশ্বকাপে খেলা তাদের ১৪ ম্যাচে এমন ব্যর্থতা এই প্রথম। তারপরও গর্বিত কোচ কার্লোস কুইরোজ,‘ যে কারও সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে পারি, আরও একবার দেখালাম আমরা।’ জয়ের পর স্প্যানিশ কোচ ফের্নান্দো হিয়েরোর খুশি হওয়াটা স্বাভাবিক,‘ বিশ্বকাপে কেউ সহজে জয় পায় না। বিরতির সময় পরিকল্পনা বদলাই আমরা। এটা কাজে দিয়েছে।’ বিরতির আগে বারবার মাঝখান দিয়ে আক্রমণ করতে ইরানের রক্ষণে আটকে গেছে স্পেন। পরের অর্ধে উইং দিয়ে আক্রমণে জোড় দিয়ে পেয়েছে সাফল্য।

গতপরশু পর্যন্ত ২০ ম্যাচ হয়েছে এই আসরে। কোন ম্যাচই শেষ হয়নি গোলশুন্য ড্রতে। সবশেষ ১৯৫৪ বিশ্বকাপে ঘটেছিল এমনটা। সেবার ২৬ ম্যাচের টুর্নামেন্টে গোলখরায় ভুগেনি একটিও খেলা। কোস্তার সৌভাগ্যের গোল গতপরশু ড্র থেকে বাঁচাল স্পেনকে।

 

 

 

 

 

 



মন্তব্য