kalerkantho


ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ

এরশাদ আমলের সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করছে সরকার

আশরাফুল হক   

২৮ মে, ২০১৮ ০০:০০



এরশাদ আমলের সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করছে সরকার

শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতি বন্ধ করার যে সিদ্ধান্ত এরশাদ সরকারের আমলে নেওয়া হয়েছিল তা থেকে সরে আসছে সরকার। এসংক্রান্ত একটি বিষয় মন্ত্রিসভা বৈঠকের এজেন্ডা বা আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠক হবে।

একাধিক সিনিয়র মন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে এরশাদ ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার জন্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি তাঁর দলের ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রসমাজের রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে সব রাজনৈতিক দলকে তাদের ছাত্রসংগঠনের রাজনীতি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। মন্ত্রিসভা বৈঠকে তখন সিদ্ধান্ত হয়েছিল, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতি থাকবে না সেসব প্রতিষ্ঠানে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে। এ ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কী কী সুবিধা পেতে পারে তা খুঁজে বের করার জন্য তৎকালীন শিক্ষাসচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়েছিল। কিন্তু এসংক্রান্ত প্র্রতিবেদন জমা হয়নি আজও। মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্ত অবাস্তবায়িত থাকলে তা মন্ত্রিসভাকে জানাতে হয়। প্রতি তিন মাস পর পর সেই প্রতিবেদন মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করে অনুমোদন নিতে হয়।

সম্প্রতি এ বিষয়টি মন্ত্রিসভা বৈঠকে আলোচনা হয়। বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেওয়া হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটিতে উপস্থাপন করে বিষয়টি। সেখানে বলা হয়, মন্ত্রিসভা বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত বদলে দেওয়ার এখতিয়ার সচিব কমিটির নেই। এর পরই বিষয়টি মন্ত্রিসভা বৈঠকে তোলার সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

জানা যায়, শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতির বিষয়ে দুটি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব অনুমোদনের বিষয়টি মন্ত্রিসভা বৈঠকের এজেন্ডায় দেখে অনেক মন্ত্রীই অবাক হয়েছেন। একজন বর্ষীয়ান মন্ত্রী বলেন, ‘আমলাদের খেয়ে-দেয়ে আর কাজ নেই। পুরনো একটি ইস্যু তুলে বিতর্ক সৃষ্টি করছে। আগামীকাল রাত থেকেই টক শো শুরু হবে। পত্রিকাগুলো বিশেষ কলাম লেখা শুরু করবে।’  তিনি আরো বলেন, ‘সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত একটি স্ট্যান্ডবাজি ছিল। কারণ তাঁর জাতীয় পার্টির ছাত্র সংগঠন মাঠে ছিল না। নিজের ছাত্র সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ করে তিনি তৎকালীন বিরোধী দলগুলোকে ফাঁদে ফেলতে চেয়েছিলেন।’

একজন প্রতিমন্ত্রী বলেন, কারণ উচ্চ আদালত বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে। এই অবস্থায় ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করার সুযোগ নেই। তা ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্টুডেন্ট কেবিনেট গঠন করে শিক্ষার্থীদের গণতন্ত্রের প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হয়। এ সবকিছুই ছাত্র রাজনীতির অংশ।

আজকের মন্ত্রিসভা বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতির বিষয়টি ছাড়াও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন, জাতীয় পাটনীতির খসড়া অনুমোদন ইত্যাদি রয়েছে।

 

 


মন্তব্য