kalerkantho


সংবাদ সম্মেলনে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া

রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য হৃদয় খুলে দিন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৫ মে, ২০১৮ ০০:০০



রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য হৃদয় খুলে দিন

‘আপনাদের ক’জনের শিশুসন্তান আছে? হাত তুলুন।’—কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে ঢাকায় ফিরে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করলেন বলিউড-হলিউডের সুপারস্টার প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। লা মেরিডিয়ান হোটেলে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রায় অর্ধেক হাত তুললেন। তাঁদের মধ্যে একজন ফিসফিস করে বললেন, ‘আপনার আছে?’ বিষয়টি প্রিয়াঙ্কার কান এড়াল না। তিনি বললেন, ‘স্মার্ট প্রশ্ন। আপনারা জানতে চাচ্ছেন আমার সন্তান আছে কি না। আপনারা হয়তো জানেন না যে আমার সন্তান নেই।’

পরক্ষণেই প্রিয়াঙ্কা বললেন, ‘আমি যে শিশুদের নিয়ে কাজ করছি তারা সবাই আমার সন্তান।’

এবার পাল্টা প্রশ্ন ছুড়লেন প্রিয়াঙ্কা, ‘আপনার কয়টি আছে? আপনি কি চাইবেন আপনার সন্তানরা এমন পরিস্থিতিতে পড়ুক যেখানে দেশে বোমা পড়ছে, লোকজনকে মেরে ফেলা হচ্ছে; যদি আপনার সন্তানদের ক্ষেত্রে এটি হয় তাহলে কি আপনি চাইবেন না কেউ তাদের সহযোগিতা করুক?’

জাতিসংঘের জরুরি শিশু তহবিল ইউনিসেফেরে শুভেচ্ছাদূত প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘শিশু শিশুই। সে কোথা থেকে এলো, তার অভিভাবক কী করেছিল, তার কী ধর্ম—এসব প্রশ্ন অর্থহীন। বিশ্বের প্রতিটি শিশুকে রক্ষার দায়িত্ব এই বিশ্বের এবং আমাদের মতো ব্যক্তিদের।’

তিনি বলেন, ইতিহাস, ভূগোল, ভৌগোলিক অবস্থান—এগুলো শিশুদের কাছে তুচ্ছ। প্রতিটি শিশুই তার ভবিষ্যৎ চায়। প্রতিটি শিশুই মানবতার সেবায় ভূমিকা রাখার সুযোগ প্রত্যাশা করে।

এই বার্তাটি বিশ্বের কাছে ছড়িয়ে দিতেই সফরে এসেছিলেন বলে জানান প্রিয়াঙ্কা। রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের চোখ দিয়ে বিশ্বকে দেখা এবং তাদের প্রতি আরো সদয় হওয়া ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করাই ছিল তাঁর চার দিনের এ সফরের লক্ষ্য।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বলেন, বর্ষা আসছে। বিশুদ্ধ পানি, আশ্রয়—কিছুই নেই এই শিশুদের। তারা তো কেউ পছন্দ করে এই পরিবেশে আসেনি। তাই রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন শেষে বিশ্বের কাছে তাঁর বার্তাটি হলো, ‘এই শিশুদের জন্য আপনারা আপনাদের হৃদয় খুলে দিন, সহমর্মিতা ছড়িয়ে দিন।’

মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টিতে বা এই ইস্যুতে ভারতকে আরো সক্রিয় হতে ভূমিকা রাখবেন কি না—এমন প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন ভারতীয় নাগরিক প্রিয়াঙ্কা। তিনি বলেন, ‘আমি শিশুদের পক্ষে এখানে এসেছি। আমি রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার মতো উপযুক্ত নই। আমি হয়তো সব জানিও না। আমি দোষারোপে বিশ্বাস করি না। আমি শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবি।’

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে রাজনৈতিক উদ্যোগ নেবেন কি না—এমন প্রশ্ন উঠলে একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘যেদিন রাজনীতিবিদ হব সেদিন সব করব। আমি এখন ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে শিশুদের পক্ষে কাজ করছি। যখন আমি প্রধানমন্ত্রী হব তখন সব করব।’

একজন সাংবাদিক মন্তব্য করেন, ‘আপনি তো শিশুদের প্রধানমন্ত্রী।’ তাত্ক্ষণিকভাবে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘আমি সারা বিশ্বের শিশুদের প্রধানমন্ত্রী হতে চাই। আমাকে আপনারা শিশুদের প্রধানমন্ত্রী বানাবেন?’

তিনি বলেন, “আমি যখন প্রধানমন্ত্রীর (শেখ হাসিনা) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি তিনি আমাকে তাঁর বাবার লেখা একটি বই দিয়েছেন, যার ওপরে কার্ডে লেখা ছিল ‘প্রাইম মিনিস্টার অব বাংলাদেশ’ (বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী)। যখন আমার কার্ড হবে তখন তাতে লেখা থাকবে ‘প্রাইম মিনিস্টার, চিলড্রেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ (বিশ্বের শিশুদের প্রধানমন্ত্রী)।”

 

 


মন্তব্য