kalerkantho


বিশুদ্ধ ইফতার

স্বাস্থ্যসম্মত ইফতারির আয়োজনে শেষ মুহূর্তের ভিড়, দাম চড়া

শেখ শাফায়াত হোসেন   

১৮ মে, ২০১৮ ০০:০০



স্বাস্থ্যসম্মত ইফতারির আয়োজনে শেষ মুহূর্তের ভিড়, দাম চড়া

বৈচিত্র্যে ভরা চাল থেকে তৈরি চিঁড়া মুড়িতে বাজার সয়লাব। ছবি : কালের কণ্ঠ

রমজান মাস শুরুর আগের দিন হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাজার ছিল মূলত ইফতারসামগ্রীকেন্দ্রিক। আজ প্রথম রোজায় ছুটির দিন থাকায় বাসায় স্বাস্থ্যসম্মত ইফতার করার জন্যই ছিল এই তোড়জোর।

গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজারে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের কর্মকর্তা আদম আলী। বেছে বেছে বেশ কিছু ইফতারসামগ্রী কিনলেন।

রোজার প্রথম দিনটিতে সরকারি ছুটি থাকায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাসায় ইফতার করবেন জানিয়ে আদম আলী বলেন, ‘এগুলো গিন্নি বাসায়ই তৈরি করেন। বেসন কিনলাম, বেগুন কিনলাম। এ ছাড়া শরবতের জন্য বেছে বেছে কিছু লেবু কিনলাম। চিঁড়া-গুড়ও থাকবে সঙ্গে। এবার গরমের সময় রোজা পড়ায় ইফতারে রসালো কিছু ফল খাওয়া যাবে।’

স্বাস্থ্যসম্মত ইফতারির আয়োজন করতে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে আদম আলীর মতো অনেকেই গতকাল ভিড় করেছেন রাজধানীর কাঁচাবাজার ও মুদিপণ্যের দোকানগুলোতে। এ কারণে নিয়মিত সবজি বিক্রি করেন এমন অনেক বিক্রেতা গতকাল কেবল সালাদের আইটেম নিয়ে বসেছিল। তবে সালাদের আইটেমের পাশাপাশি ইফতারসামগ্রীতে প্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের দাম ছিল চড়া।  

তবে বছরের অন্যান্য সময়ে তেমন একটা চাহিদা থাকে না এমন পণ্যের কাটতি বেড়ে গেছে রোজা উপলক্ষে। এর মধ্যে রয়েছে খেজুর অন্তত ১০ থেকে ১৫ পদের, লাল চিঁড়া, সাদা চিঁড়া, চিকন চিঁড়া, খেজুর ও আখের গুড়। সেই সঙ্গে দেশি জাতের খিরাই, কাগজি লেবু, হাতে ভাজা মুড়ি, তোকমা দানা, ইসুপগুলের ভুসিসহ বেশ কিছু পণ্য সামনের দিকে সাজিয়ে রেখে ক্রেতা ধরতে চেষ্টা করছিল বিক্রেতারা।

টমেটো, পুদিনা পাতা, ধনে পাতা, কাঁচা মরিচের দোকানগুলোতে যেমন ক্রেতা সমাগম ছিল, তেমনি ছিল কলা, তরমুজ, আম, আনারস, ফুটিসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফলের বাজারেও।

এ ছাড়া ছোলা, বেসন, রেডি হালিম মিক্সসহ অনেক ধরনের ইফতারি পণ্যের ক্রেতাদের ভিড় ছিল গতকাল খুচরা ও পাইকারি বাজারে। এর মধ্যে নারী ক্রেতাদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রায় প্রত্যেক ক্রেতাকে ইফতারের আইটেম নিয়ে বাজার ছাড়তে দেখা গেছে।

তবে চাহিদা বেশি থাকায় রোজাকে সামনে রেখে কিছু কিছু নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বিক্রেতারা। কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, লেবু প্রতি ডজন ৩০ থেকে ৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। শসা প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

এ ছাড়া গত সপ্তাহে যে বেগুনগুলো ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে গতকাল সেগুলোই ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। লম্বা বেগুনের দাম সবচেয়ে বেশি। শসা ৪৫-৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। কাঁচা মরিচ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা ছিল গত সপ্তাহে, এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি। আলুর দামও কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। পেঁয়াজের দাম আগের মতোই রয়েছে। দেশি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি এবং আমদানীকৃত ভারতীয় পেঁয়াজ ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে।

এদিকে সারা মাসের নিয়মিত কিছু ইফতারি আইটেমের বিক্রিও বেড়েছে। কারওয়ান বাজারের মুড়ি বিক্রেতা মো. শাহাবুদ্দিন বস্তাভর্তি মুড়ি-চিঁড়া নিয়ে বসেছিলেন রাস্তার এক পাশে। বিক্রির সুবিধার্থে ছোট বড় পলিথিনের প্যাকেটে মুড়ি ভরে সাজিয়ে রেখেছিলেন। শাহাবুদ্দিন জানান, মেশিনে ভাজা মুড়ি প্রতি কেজি ৬৫-৭০ টাকা এবং হাতে ভাজা মুড়ি প্রতি কেজি ১১৫ থেকে ১২০ টাকা বিক্রি করছেন। চিঁড়া ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি।

বেসরকারি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘প্রথম রোজায় বাসায় ইফতার করার ইচ্ছা রয়েছে। ইফতারে অন্যান্য আইটেমের মধ্যে আমার পছন্দ হালিম।’ এখন অনেক কম্পানির রেডি হালিম মিক্স পাওয়া যায় জানিয়ে তিনি বাসায়ই স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে হালিম তৈরি করা হবে বলে জানালেন।

এ ছাড়া আরেক ক্রেতা বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক মাহমুদুন নবী বলেন, ‘ঘরোয়া পরিবেশে ইফতার করতে আমি পছন্দ করি। বাইরে থেকে কেবল খেজুরটাই কিনি।’

গতকাল রাজধানীর প্রধান প্রধান ফলের বাজারসহ ব্যস্ততম সড়কের পাশের ফুটপাতে বা ভ্যানগাড়িতে করেও খেজুর বিক্রি করতে দেখা গেছে। খেজুর প্রতি কেজি ২০০ টাকা থেকে শুরু করে এক হাজার ৫০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। সৌদি আরব, তিউনেশিয়া, আলজেরিয়া থেকে এসব খেজুর আমদানি করা হয়েছে বলে জানায় বিক্রেতারা।

কারওয়ান বাজারে পাইকারি দরে গুড় কিনতে এসেছিলেন হাতিরপুল বাজারের খুচরা বিক্রেতা আব্দুর রহিম। তিনি বলেন, ‘আমি সারা বছরই গুড় বিক্রি করি। এখন গুড়ের চাহিদা বেশি। একবারে মণখানেক গুড় কিনলাম। আশা করি, প্রথম রোজাতেই এগুলো বিক্রি হয়ে যাবে।’

ওই বাজারে খেজুরের গুড় ১০০ টাকা কেজি এবং আখের গুড় ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এ ছাড়া পাড়া বা মহল্লায় মসজিদের সামনে ছোট ছোট টেবিলে কালোজিরা, তোকমা দানা, ইসুপগুলের ভুসিসহ নানা ধরনের ভেষজ উপাদানের গুড়া প্যাকেটে ভরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। এই গুড়গুলো শরবতের জন্য ব্যবহার হয়।

এদিকে ছুটির দিনে বিনোদনকেন্দ্র ও বিপণিবিতানগুলোর আশপাশের নামি-দামি রেস্তোরাঁগুলোরও ইফতারের জন্য বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে।



মন্তব্য