kalerkantho


রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের বিচার এক বছরেও শেষ হয়নি

আশরাফ-উল-আলম   

১৭ মে, ২০১৮ ০০:০০



রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের বিচার এক বছরেও শেষ হয়নি

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ১৮০ দিনের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করার বিধান রয়েছে। কিন্তু রাজধানীর বনানীর রেইনট্রি হোটেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এক বছর পার হলেও এখনো নিষ্পত্তি হয়নি মামলাটি।

দুই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি বিচারাধীন ছিল ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এ। ২০০১ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের (সংশোধিত ২০০৩) ৯ (৪) ধারায় দায়ের করা এই মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয় গত বছরের ১৩ জুলাই। অভিযোগ গঠনের পর ১৮০ দিন পার হয়েছে গত ১৩ জানুয়ারি। কিন্তু মামলায় ৪৭ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। বিচার শেষ হতে আরো কত দিন সময় লাগবে তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারেনি। এরই মধ্যে মামলাটি আবার নতুন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ফলে মামলাটি নিষ্পত্তির বিষয় এখন অনিশ্চিত।

মামলার নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, আইনে বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার শেষ করার কোনো লক্ষ্য ছিল না। তবে সাধারণভাবে মামলায় যেভাবে ধার্য তারিখ দেওয়া হয়, এই মামলায়ও ঘন ঘন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (বিশেষ পিপি) আলী আকবর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা করছি। আইনে ১৮০ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হলেও ওই সময়ে কোনো মামলার বিচার শেষ হয় না। এই মামলায় অনেক সাক্ষী। ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে ছয় মাসে। এটা অনেক অগ্রগতি।’

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০ ধারায় বলা হয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ১৮০ দিনের মধ্যে মামলার বিচার শেষ করতে হবে। সম্প্রতি হাইকোর্টের এক আদেশেও ১৮০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ধর্ষণের ঘটনার ৪০ দিন পর গত বছর ৬ মে বনানী থানায় পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেন ধর্ষণের শিকার হওয়া এক শিক্ষার্থী।

মামলার এজাহারে বলা হয়, সাফাতের জন্মদিনের পার্টিতে অংশ নিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন তাঁরা। বনানীর দ্য রেইনট্রি হোটেলের দুটি কক্ষে আটকে রেখে তাঁদের ধর্ষণ করা হয়।

গত বছর ২৮ মার্চ রাত ৯টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত আসামিরা মামলার বাদী এবং তাঁর বান্ধবী ও বন্ধু শাহরিয়ারকে আটকে রাখে। অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও গালাগাল করে। বাদী ও তাঁর বান্ধবীকে পৃথক কক্ষে নিয়ে যায় আসামিরা। বাদীকে সাফাত আহমেদ একাধিকবার এবং তাঁর বান্ধবীকে নাঈম আশরাফ একাধিকবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে।

গত বছর ৮ জুন আদালতে পাঁচ আসামিকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের পুলিশ পরিদর্শক ইসমত আরা এমি। একই বছরের ১৯ জুন সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফ ওরফে আবদুল হালিমের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং সাফাতের বন্ধু সাদমান সাফিক, গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলীর বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগ আমলে নেন একই ট্রাইব্যুনাল। এরপর ১৩ জুলাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এই মামলায় আসামিরা (রহমত আলী ছাড়া) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে ধর্ষণের ঘটনা স্বীকার করেছে আদালতে।

বিচার বিলম্বিত হলে আসামিরা জামিন পেয়ে যেতে পারে : মামলার বিচার বিলম্বিত হলে আসামিরা জামিন পেয়ে যেতে পারে। এরই মধ্যে এই মামলার তিন আসামি সাদমান সাফিক, বেলাল ও রহমতকে জামিন দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ না থাকলেও সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই মামলার বিচার যথাসময়ে নিষ্পত্তি না হলে আসামিরা সুবিধা পাবে বলে আইনজীবীরা মনে করেন। ঢাকার আদালতে ফৌজদারি মামলা পরিচালনাকারী সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ আহমেদ গাজী কালের কণ্ঠকে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার শেষ না হলে আসামিরা জামিনের সুবিধা পেতে পারে। এটা প্রথা। তবে তিনি মনে করেন, এই ঘটনার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।

মামলা স্থানান্তর হচ্ছে অন্য ট্রাইব্যুনালে : ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এ বিচারাধীন এই মামলা আজ বৃহস্পতিবার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছিল। কিন্তু গত ৫ এপ্রিল সরকার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারের এখতিয়ার পরিবর্তন করে গেজেট প্রকাশ করেছে। ওই গেজেট অনুযায়ী বনানী থানার মামলা ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এ বিচার হবে। মামলাটি এরই মধ্যে ৭ নম্বর ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে মামলার পিপি আলী আকবর জানান। নতুন ট্রাইব্যুনালে এই মামলার বিচার কবে শেষ হবে তা অনিশ্চিত। কারণ নতুন ট্রাইব্যুনালে এখনো কোনো পিপি নিয়োগ হয়নি।

 



মন্তব্য