kalerkantho


ঝড়ে গাছ উপড়ে পথে যান সংকটে ভোগান্তি

রাজধানীসহ ১৪ জেলায় কালবৈশাখী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



ঝড়ে গাছ উপড়ে পথে যান সংকটে ভোগান্তি

দুই দিনের ভাপসা গরমের পর গতকাল বুধবার আবারও তীব্র কালবৈশাখীর কবলে পড়ে রাজধানী ঢাকাসহ ১৪ জেলা। সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে প্রথমে দমকা হাওয়া, ঝড়-তুফান এবং পরে হয় মুষলধারে বৃষ্টি। শিলাবৃষ্টিও হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। ঝড়বৃষ্টির সময় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চলে যায় বিদ্যুৎ; বহু গাছ উপড়ে পড়ে সড়কের ওপর। অনেক স্থানে হেলে পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি; আবার অনেক রাস্তায় জমে যায় পানি। ফলে অনেক রাস্তা হয়ে যায় যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী। রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় রাজধানীবাসীকে, বিশেষ করে অফিসফেরত মানুষকে। 

ঢাকার আগারগাঁও আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সন্ধ্যার পর থেকে রাজধানীতে কয়েক দফা কালবৈশাখী বয়ে গেছে। ঝড়ের গতিবেগ রেকর্ড করা হয়েছে ঘণ্টায় ৭৪ কিলোমিটার। নদীবন্দরগুলোকে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ঝড়, বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। 

রাত ১০টার দিকে সরেজমিনে রাজধানীর বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক এলাকায় গাছপালা ভেঙে রাস্তা ও বাসাবাড়ির ওপরে পড়ে আছে। থেমে থেমে বৃষ্টি পড়ছে। বৃষ্টি একটু থামার পরই ঢাকা মহানগর পুলিশের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা রাস্তা থেকে গাছ সরানোর কাজ শুরু করেন। ঝড়ের তোপে পড়ে অনেক  মোটরসাইকেলচালক গাড়ি থামিয়ে রাস্তায় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়। যানবাহন সংকটে ভুক্তভোগী অনেক যাত্রী ছাউনি, দোকান বা গাছের নিচে আশ্রয় নেয়। অনেককে বৃষ্টিতে ভিজে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

রাজধানীর নাখালপাড়া এলাকার বাসিন্দা তরিকুর রহমান জানান, ঝড়ের কবলে পড়ে ইন্দিরা রোড এলাকার একটি দোকানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন তিনি। ওই সময় ঝড়ের তোড়ে ওই এলাকার একটি গাছ ভেঙে রাস্তায় পড়ে যায়। গাছটি সরাতে না পারায় রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত ওই রাস্তা দিয়ে যান চলাচল বন্ধ থাকে। তেজগাঁওয়ের অনেক রাস্তার ওপরই ভাঙা অথবা উপড়ানো গাছ পড়ে থাকতে দেখা যায়।  

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এপ্রিল সময়টায় হঠাৎই কালবৈশাখী আসে। গতকাল কালবৈশাখীর শুরু রাজশাহী অঞ্চল থেকে। পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ঢাকা, মাদারীপুর, ফরিদপুর, নোয়াখালী, কুমিল্লা, যশোর, কুষ্টিয়াসহ দেশের ১৪ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যায় কালবৈশাখী। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস কালের কণ্ঠকে জানান, আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী হতে পারে। এ সময় বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টিও হতে পারে। ঢাকায় গতকাল রাত পর্যন্ত ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা, ঝোড়ো হাওয়া, বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টি, বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে।

গত রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকাসহ দেশের ১৫ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যায় তীব্র কালবৈশাখী। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে, এ বছর প্রথম তীব্র কালবৈশাখী হয়েছে রবিবার সন্ধ্যায়। ওই দিন সন্ধ্যায় ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮৩ কিলোমিটার। সেদিনের কালবৈশাখী কতটা ভয়াবহ ছিল তা দেখা যায় চন্দ্রিমা উদ্যানের দিকে তাকালে। পুরো চন্দ্রিমা উদ্যানকে লণ্ডভণ্ড করে দেয় কালবৈশাখী। ওই দিন ঝড়ে তিন শতাধিক গাছ উপড়ে যায়। গাছের ডালপালা ভেঙে বিজয় সরণি মোড় থেকে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র পর্যন্ত সড়ক বেশ কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। গতকালও ছিল প্রায় একই চিত্র। ৭৫ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের তাণ্ডবে গাছের ডালপালা ভেঙে এসে পড়ে সড়কের ওপর। কালবৈশাখীতে উদ্যানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ঢাকার বাইরে থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন স্থানে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধান ও আম-লিচুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিকেলে ময়মনসিংহ, জামালপুর ও নাটোরে ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। জামালপুর সদর ও বকশীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় আধাঘণ্টা ধরে শিলাবৃষ্টি হয়। এতে উঠতি পাকা বোরো ধান এবং আম, লিচুসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

 

 



মন্তব্য