kalerkantho


মাঠে জাহাঙ্গীর, ছিলেন না আজমত, ব্যস্ততা বিএনপি কার্যালয়ে

শরীফ আহেমদ শামীম, গাজীপুর ও মো.মাহবুবুল আলম, টঙ্গী   

২৫ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



মাঠে জাহাঙ্গীর, ছিলেন না আজমত, ব্যস্ততা বিএনপি কার্যালয়ে

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতীক পাওয়ার পর আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম টঙ্গী এলাকায় প্রচার চালান। তবে তাঁর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আজমতউল্লাহ খানকে তাঁর সঙ্গে দেখা যায়নি। মামলার কাজে আদালতে ব্যস্ত থাকায় তিনি থাকতে পারেননি বলে জানিয়েছেন আজমতউল্লাহর ঘনিষ্ঠ আওয়ামী লীগের একজন নেতা।

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার গতকাল প্রচারে নামেননি। আজ বুধবার থেকে তিনি প্রচারে নামবেন বলে জানিয়েছেন। অবশ্য টঙ্গীতে বিএনপি কার্যালয়ে ছিল নেতাকর্মীদের ব্যাপক ব্যস্ততা।

গতকাল সকাল ১০টার আগেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা গাজীপুরে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে উপস্থিত হন মেয়র পদপ্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। রিটার্নিং অফিসার রকিব উদ্দিন মণ্ডল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তাঁর হাতে নৌকা প্রতীক তুলে দেন।

প্রতীক হাতে পেয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘নৌকা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির প্রতীক, নগরবাসীর মুক্তির প্রতীক। আধুনিক ও পরিকল্পিত নগর গড়তে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নকাজে শরিক হতে ভোটারদের আহ্বান জানাব। নৌকা প্রতীক বিজয়ী হলে গাজীপুর মহানগর হবে দেশের একটি অন্যতম আধুনিক মহানগর ইনশাআল্লাহ।’

রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে বের হয়ে জাহাঙ্গীর আলম জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও গাজীপুর মহানগরের সভাপতি আবদুস সাত্তার মিয়ার নগরীর চান্দনা চৌরাস্তার বাসায় যান। তিনি নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে জাতীয় পার্টিকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। সাত্তার মিয়া তাঁকে পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দিয়ে হাতে হাত মিলিয়ে মাঠে থাকার ঘোষণা দেন। এ সময় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা সাবেক সচিব এম এম নিয়াজ উদ্দিনসহ দুই দলের বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

সেখান থেকে বের হয়ে জাহাঙ্গীর আলম গাড়িবহর নিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাসন সড়ক, ছয়দানা, মালেকের বাড়ি, সাইনবোর্ড, বোর্ডবাজার, গাছা সড়ক, বড়বাড়ী, গাজীপুরা হয়ে টঙ্গীর ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের দত্তপাড়া হাউস বিল্ডিং এলাকায় যান। সেখানে তিনি বাসায় বাসায়, দোকান দোকানে ও পথচারীদের মাঝে প্রচারপত্র বিলি করে ভোট ও দোয়া চান। তিনি বিকেল ৩টা পর্যন্ত বনমালা রেলগেট ও আলম মার্কেট এলাকায় নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে গণসংযোগ করেন। পরে তিনি হাজী মার্কেট এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা মো. আবুল বাশারের বাড়িতে একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

গণসংযোগ চালানোর সময় জাহাঙ্গীরের সঙ্গে ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার কাজী মোজাম্মেল হক, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মো. ইলিয়াস আহমেদ প্রমুখ। তবে ছিলেন না তাঁর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আজমতউল্লাহ খান। আজমতউল্লাহর অনুসারীদের কাউকেও দেখা যায়নি। এ বিষয়ে কথা বলতে আজমতউল্লাহ খানের মোবাইল ফোনে কল করলে তিনি ধরেননি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ আওয়ামী লীগের একজন নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, মামলার কাজে ব্যস্ত থাকায় আজমতউল্লাহ আনুষ্ঠানিক প্রচারের প্রথম দিন জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে থাকতে পারেননি।

এরপর বিকেল থেকে জাহাঙ্গীর আলম নির্বাচনী এলাকার ২০টি কেন্দ্রে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করেন।

টঙ্গী বিএনপি কার্যালয়ে ব্যস্ততা : টঙ্গীর বিএনপি কার্যালয়ে দীর্ঘদিন পর আবার নেতাকর্মীদের ব্যস্ততা দেখা গেল গতকাল। কাদেরিয়া টেক্সটাইল মিলসসংলগ্ন বিএনপি কার্যালয়ে দুপুর থেকে নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়তে থাকে।

তবে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার গতকাল প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর প্রচারে নামেননি। সকাল ১০টার দিকে গাজীপুরে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যান তিনি। দুপুর দেড়টার দিকে ফিরে আসেন টঙ্গীতে।

হাসান উদ্দিন সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, তিনি আজ বুধবার বাসায় মিলাদ পড়াবেন। এরপর প্রচার শুরু করবেন।

হাসান সরকার প্রচারে না নামলেও বিএনপি নেতাকর্মীরা তৎপর ছিল। টঙ্গীতে বিএনপির দলীয় কার্যালয় পরিণত হয় মিলনমেলায়। নগরীর ৫৭টি ওয়ার্ডের ৪২৫টি কেন্দ্রের কমিটির নেতাকর্মীরা পোস্টার-লিফলেট নিতে আসে।

৫৭ টিম গঠন : আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের পক্ষে প্রচারের জন্য ৫৭টি টিম করেছে দলটি। এসব টিম গাজীপুর নগরের ৫৭টি ওয়ার্ডে নির্বাচনীকাজ, গণসংযোগ ও প্রচার চালাবে। গতকাল বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক বৈঠকে এসব টিম গঠন করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনে দলের সমন্বয়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও নির্বাচনে দলের সদস্য সচিব ফজলুল হক মিলনসহ অন্য আরো বেশ কয়েকজন নেতা।

 



মন্তব্য