kalerkantho


ত্রিশালে বাল্যবিয়ের চাপে আত্মহত্যার চেষ্টা স্কুলছাত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ   

২৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



ত্রিশালে বাল্যবিয়ের চাপে আত্মহত্যার চেষ্টা স্কুলছাত্রীর

পরিবারের দারিদ্র্য জয় করে জেএসসিতে জিপিএ ৫ পাওয়া ছাত্রী। স্বপ্ন ওর অনেক বড় হওয়ার। বাল্যবিয়ে নিয়েও সে সচেতন। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই এই সামাজিক ব্যাধির চাপ ওর ওপর। বাল্যবিয়েতে রাজি না হওয়ায় মা-বাবার নির্যাতনও তাকে সইতে হচ্ছে।

নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়ে এসে মেয়েটির স্বপ্নের পথে আবারও বাধা হয়ে দাঁড়ালেন মা-বাবা। বিয়েতে রাজি করাতে তার ওপর চলল শাসন, নির্যাতন। এবার আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি মেয়েটি। উচ্চ রক্তচাপের ২০টি ট্যাবলেট একসঙ্গে গিলে ফেলে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। বর্তমানে সে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

দুঃখজনক এ ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ধানীখলা গ্রামে। মেয়েটি অভিমান করে শনিবার রাত ১০টার দিকে ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। রবিবার সকালে তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যালে নিয়ে আসেন ওর বান্ধবী ও শিক্ষকরা। দুঃখজনক ব্যাপার হলো, হাসপাতালে আনার সময়ও পরিবারের কেউ মেয়েটির সঙ্গে আসেনি। বান্ধবী ও শিক্ষকরাই সব কিছু দেখভাল করছেন। ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও (ইউএনও) মেয়েটির পাশে দাঁড়িয়েছেন।

হাসপাতালে মেয়েটির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সে ত্রিশাল ধানীখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। বাবা গ্রামের খাল-বিলে মাছ ধরে সংসার চালান। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে ছয়-সাত বছর আগেই। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই বিয়ের জন্য ওকে চাপ দিচ্ছেন মা-বাবা ও ভগ্নিপতি। সম্প্রতি আবারও বিয়ের জন্য মেয়েটিকে মারধর শুরু করেন মা-বাবা। তাঁদের কোনোভাবেই বোঝাতে না পেরে শনিবার রাতে বাড়ির পাশের ফার্মেসি থেকে প্রেসারের বড়ি কিনে এনে রাতে ২০টি বড়ি একসঙ্গে গিলে ফেলে। এরপর সে নিজের দুঃখের কথা এক বান্ধবীকে মোবাইল ফোনে জানায়।

পরদিন ভোরে ওই বান্ধবী আরো কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে মেয়েটির বাড়িতে এসে দেখে সে নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে। স্কুলশিক্ষক নাজমুল ইসলামও বিষয়টি অবহিত হন। পরে ওকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ধানীখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাজমুল ইসলাম বলেন, মেয়েটি মেধাবী। এর আগেও মা-বাবা ওকে জোর করে বিয়ে দিতে চেয়েছেন। বারবার চাপ আর মারধর করার কারণে এবার সে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি জানান, স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইকবাল বাহার এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুল্লাহ আসাদও মেয়েটির খোঁজখবর নিচ্ছেন।

হাসপাতালে মেয়েটির পাশে থাকছে ওর বান্ধবী ও সহপাঠী তানিশা সিদ্দিকা জবা। সে জানায়, ছাত্রী ব্রিগেডের কারণে এখন তারা সবাই বাল্যবিয়ে নিয়ে সচেতন। পরিবারের লোকজন এর আগেও তার বান্ধবীকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। তারা তখন স্কুলের শিক্ষকদের বলে সেই চেষ্টা বন্ধ করে।

ভর্তির সময় পরিবারের কেউ সঙ্গে না এলেও গতকাল সোমবার হাসপাতালে আসেন মেয়েটির মা। তিনি দাবি করেন, তারা বিয়ের জন্য মেয়েকে কোনো চাপ দেননি।

বিষয়টিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে ইউএনও আবু জাফর রিপন জানান, তাঁরা পাশে আছেন। চিকিৎসার ব্যাপারেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

ময়মনসিংহ মেডিক্যালে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানান, মেয়েটির শারীরিক অবস্থা ৭২ ঘণ্টা পর নিশ্চিত করে বলা যাবে।



মন্তব্য