kalerkantho


নৌকা পেতে জোর ‘লড়াই’ প্রচারে নেই বিএনপি

আব্দুল আজিজ শিশির, শরীয়তপুর   

২৩ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



নৌকা পেতে জোর ‘লড়াই’ প্রচারে নেই বিএনপি

ঢাকার অদূরে পদ্মা ও মেঘনা নদীবেষ্টিত শরীয়তপুর সদর ও জাজিরা উপজেলা নিয়ে শরীয়তপুর-১ সংসদীয় আসন। ১৯৯১ সাল থেকে আসনটি আওয়ামী লীগের কবজায়। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে নেমে পড়েছেন। এ সময়ে এসে ক্ষমতাসীন দলে গ্রুপিংও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। চলছে অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগ। সুবিধা পাননি—এমন কোনো কোনো নেতা বলছেন, শরীয়তপুর আওয়ামী অধ্যুষিত এলাকা হওয়া সত্ত্বেও উন্নয়নের তেমন কোনো ছোঁয়া লাগেনি। জেলাটি রাজধানীর অতি নিকটে হলেও সে অনুযায়ী বিদ্যুতায়ন ও রাস্তাঘাটের দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন নেই।

এ ছাড়া ক্ষমতাসীন দলে এলাকাকেন্দ্রিক বিরোধও আছে। অর্থাৎ সদর উপজেলার নেতাকর্মীরা বলছে, অনেক দিন ধরেই সদরের কাউকে নৌকার প্রার্থী করা হচ্ছে না। সে কারণে তাদের মধ্যে ক্ষোভ আছে। কারণ শরীয়তপুর-১ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে যিনি নির্বাচন করবেন তাঁর জয় প্রায় নিশ্চিত।

অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপিও এখন বহুধাবিভক্ত। দলটির কর্মকাণ্ড চোখে পড়ে না। নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রচারেও নেই দলের নেতাকর্মীরা। অবশ্য দলটির স্থানীয় নেতারা বলছেন, পুলিশের বাধার কারণে তাঁরা দলীয় কর্মসূচি পালন করতে পারেন না।

শরীয়তপুর-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। আগামী নির্বাচনেও তিনি দলের একজন শক্তিশালী প্রার্থী। মোজাম্মেল হক ছাড়াও এ আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা মো. রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল, দলের জেলা শাখার সাবেক সহসভাপতি শিল্পপতি মোবারক আলী সিকদার, শরীয়তপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা দলের সহসভাপতি আবুল হাসেম তপাদার।

বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও পৌরসভার সাবেক মেয়র জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার এ কে এম নাসির উদ্দিন কালু, জেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক মিন্টু সওদাগর।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টির জেলা কমিটির সভাপতি মাসুদুর রহমান মাসুদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ-ইনু) কেন্দ্রীয় নেতা ও জেলা কমিটির সভাপতি আবদুল মালেক।

প্রসঙ্গত, নব্বইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কে এম হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গজেব সংসদ সদস্য হন। ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য হন দলের বর্ষীয়ান নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আবদুর রাজ্জাক। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ আওরঙ্গজেব বিজয়ী হন। ২০০৮ সাল থেকে এ আসনের সংসদ সদস্য বি এম মোজাম্মেল হক।

আওয়ামী লীগ : ক্ষমতাসীন দলটির নেতাকর্মীরা বলছে, এ আসনে আওয়ামী লীগের রাজনীতি বর্তমানে তিনটি ভাগে বিভক্ত। এক ভাগের নেতৃত্বে আছেন সংসদ সদস্য বি এম মোজাম্মেল হক। আরেকটি পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ইকবাল হোসেন অপু। অন্যটির নেতৃত্বে রয়েছেন জাজিরা উপজেলা চেয়ারম্যান মোবারক আলী সিকদার। ২০১০ সালের পর থেকে শরীয়তপুর সদর ও জাজিরা উপজেলায় আওয়ামী লীগের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকেন্দ্রিক বিরোধের জের ধরে হামলা-সংঘর্ষে অন্তত ১০ নেতাকর্মী নিহত হয়েছে। এ সময় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে দুই শতাধিক। ২০ গ্রামে সাড়ে ছয় শতাধিক ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। বোমা বানাতে গিয়ে আহত হয়েছে অন্তত ৫০ ব্যক্তি।

প্রভাবশালী এই তিন নেতা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। নির্বাচনকে সামনে রেখে বি এম মোজাম্মেল হক ঘন ঘন এলাকায় আসছেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে বসছেন এবং নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। সেখানে ভোটারদের সামনে সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরছেন।

এসব ব্যাপারে কথা বলতে সংসদ সদস্য বি এম মোজাম্মেল হকের সঙ্গে যোগা করার চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে ইকবাল হোসেন অপু ও মোবারক আলী সিকদারের সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জেলা যুবলীগের সভাপতি এম এম জাহাঙ্গীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শরীয়তপুর-১ আসনে ব্যক্তি ইমেজে ভোট হয় না। মার্কা দেখে মানুষ ভোট দেয়। নব্বই দশকের পর সদর উপজেলার লোক এমপি না হওয়ায় জেলা সদরের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগের তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি।’

শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে মনোনয়ন দেন, তাহলে আমি বিপুল ভোটে বিজয়ী হব। জনগণের প্রতি আমার আস্থা আছে।’

বিএনপি : জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার এ কে এম নাসির উদ্দিন কালু বলেন, ‘এ সরকারের আমলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে মনে হয় না। যদি দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাহলে আমি বিএনপির প্রার্থী হতে চাই। আমি দলের দুর্দিনে পাশে ছিলাম, বর্তমানেও আছি, ভবিষ্যতেও থাকব। সবদিক চিন্তা করে দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

অন্যান্য : বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মনোনয়ন চান দলের শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি মাসুদুর রহমান মাসুদ। তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচন করবে। এ জন্য পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আমাদের কাজ করতে বলেছেন। আমরা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি।’

জাসদের মনোনয়ন প্রত্যাশী মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক বলেন, ‘আমি দলের পক্ষে এ আসনে মনোনয়ন চাই। মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করব।’

 

 


মন্তব্য