kalerkantho


রাজধানীর সড়কে বিশৃঙ্খলায় ৮৭% বাস-মিনিবাস

শৃঙ্খলা ফেরাতে ১০ দফা সুপারিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



রাজধানীর সড়কে বিশৃঙ্খলায় ৮৭% বাস-মিনিবাস

দুই বাসের চাপায় অঙ্গ, এমনকি প্রাণহানির ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। একইভাবে রাজীবের মৃত্যু নাড়া দিয়ে গেছে সবাইকে। সেই তাজা স্মৃতির মাঝেই গতকাল রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় চোখে পড়ে ভয়াবহ এমন দৃশ্য। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা দরজা-জানালায় বাদুড়ঝোলা হয়ে যাচ্ছে বিআরটিসি বাসে। ছবি : শেখ হাসান

রাজধানীতে ৮৭ শতাংশ বাস-মিনিবাস সড়কে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতি। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘সড়ক নৈরাজ্য ও অব্যবস্থাপনা উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তারা এ তথ্য দেয়।

সংগঠনটির সড়ক দুর্ঘটনা পর্যবেক্ষণ সেলের তথ্যমতে, সারা দেশে গত জানুয়ারি থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত এক হাজার ৭৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে  এক হাজার ৮৪১ জনের প্রাণহানি হয়েছে।

যাত্রীকল্যাণ সমিতি বলেছে, দেশের সড়ক ব্যবস্থাপনা ও সড়কের শৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে। সড়ক ব্যবহারকারী, চালক, মালিক, ট্রাফিক পুলিশ বা হাইওয়ে পুলিশ, যে যার মতো সড়কে চলছে। প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিবিধান থাকলেও তার প্রয়োগ না থাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে গাড়িচালকরা।

আলোচনায় মূল প্রবন্ধে এসব সমস্যা তুলে ধরে তা সমাধানে বাসে-বাসে প্রতিযোগিতা বন্ধে কম্পানিভিত্তিক বাস সার্ভিস চালুসহ ১০ দফা সুপারিশ করেন যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। আরো উপস্থিত ছিলেন গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, ইকবাল হাবিব, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম তালুকদার প্রমুখ।

রাজধানীসহ সারা দেশের গণপরিবহনে নৈরাজ্য চলছে বলে উল্লেখ করে বক্তারা নৈরাজ্যের নানা দিক তুলে ধরেন। এসবের মধ্যে রয়েছে বাসে-বাসে রেষারেষি করে বেপরোয়া চলাচল ও যত্রতত্র বাস থামানো, চলন্ত অবস্থায় মাঝপথে গতি কমিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন, রাস্তার মোড়ে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো, যাত্রী ধরার জন্য বাসে বাসে ভয়ংকর প্রতিযোগিতা এবং নানাবিধ অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলা।

যাত্রীকল্যাণ সমিতির এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বর্তমানে সারা দেশে নিবন্ধিত ৩১ লাখ যানবাহনের সঙ্গে অনিবন্ধিত, ভুয়া নম্বরধারী ও অযান্ত্রিক যান মিলে প্রায় ৫০ লাখ যানবাহন রাস্তায় চলছে। এসবের ৭২ শতাংশ ফিটনেসহীন। চলাচলের প্রায় অযোগ্য। অন্যদিকে সারা দেশে ৭০ লাখ চালকের মধ্যে বিআরটিএ লাইসেন্স আছে মাত্র ১৬ লাখ চালকের হাতে। রাজধানীতে ৮৭ শতাংশ বাস-মিনিবাস ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করে বেপরোয়া চলাচল করে। ফলে এসব বাসের দুর্ঘটনায় কারো হাত, কারো পা, কারো মাথা বা কারো জীবন চলে যাচ্ছে।

সড়কে নৈরাজ্য বন্ধে যাত্রীকল্যাণ সমিতি যে ১০ দফা সুপারিশ করেছে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—নগরীতে বাসে-বাসে প্রতিযোগিতা বন্ধে কম্পানিভিত্তিক একই রঙের বাস সার্ভিস চালু করা; উন্নত বিশ্বের আদলে পেশাদারিসম্পন্ন গণপরিবহন সার্ভিস অথরিটির নামে টিম গঠন করা; ট্রাফিক বিভাগের কার্যক্রম জবাবদিহির আওতায় আনা; চালকের হাতে দৈনিক জমাভিত্তিক বাস ইজারা দেওয়া বন্ধ করা; বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা জনবান্ধব করা; ট্রাফিক পুলিশের মামলার জরিমানার অর্থ সরাসরি ব্যাংকে জমা দেওয়ার বিধান নিশ্চিত করা এবং সড়কে চাঁদাবাজি, টোকেন বাণিজ্য, দখলবাজি বন্ধ এবং হকারসহ অন্যদের সড়ক ব্যবহার বন্ধ করা।

 


মন্তব্য