kalerkantho


নৌকায় নৌমন্ত্রীর শক্ত অবস্থান ধানের শীষ চায় অনেকে

আয়শা সিদ্দিকা আকাশী, মাদারীপুর   

২১ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



নৌকায় নৌমন্ত্রীর শক্ত অবস্থান ধানের শীষ চায় অনেকে

রাজৈর উপজেলা ও সদর উপজেলার ১১ ইউনিয়ন নিয়ে মাদারীপুর-২ সংসদীয় আসন, যা আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবেই পরিচিত। বিগত বেশ কয়েকটি নির্বাচনের ফলাফল বলছে, বিপুল ভোটের ব্যবধানেই বিজয়ী হয়ে আসছেন দলটির প্রার্থী।

নির্বাচনী এলাকার রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ এগিয়ে থাকলেও গ্রুপিং আছে। সংসদের বাইরে থাকা বিএনপিতেও আছে কোন্দল।

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এরই মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের কর্মকাণ্ড শুরু হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে বর্তমান সংসদ সদস্য নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানকেই এগিয়ে রাখছে দলের নেতাকর্মীরা। দলের আরো দুই নেতা আছেন আলোচনায়। অবশ্য বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকা এর চেয়ে দীর্ঘ। কয়েকজনের নামই আলোচনায় আসছে।

আওয়ামী লীগ : মাদারীপুর-২ আসন থেকে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন শাজাহান খান। এর মধ্যে একবার জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে, পাঁচবার আওয়ামী লীগের টিকিটে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি শাজাহান খানের বাবা মৌলভি আচমত আলী খান ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর সদর থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

শাজাহান খান পর পর দুইবার মন্ত্রী হয়েছেন। তিনি নিয়মিত এলাকায় আসেন। আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ও নানা ধরনের সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। দলের স্থানীয় নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে রয়েছে তাঁর সুসম্পর্ক। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও তিনি এগিয়ে আছেন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, শাজাহান খান মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে তাঁর সংসদীয় এলাকায়, বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়নে বেশ নজর দেন। প্রতিটি এলাকায় রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, স্কুল-কলেজ, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। মরা কুমার নদ খনন করে তিনি সর্বমহলের প্রশংসা পেয়েছেন। শাজাহান খানের একক প্রচেষ্টায় হবিগঞ্জ সেতু, সেখপুর শম্ভুক সেতু, শ্রীনদী-কবিরাজপুর সেতু, রাজৈর পৌর ভবন, রাজৈর থানা ভবন, মাদারীপুর কাজিরটেক আচমত আলী খান সেতু, মাদারীপুর শিল্পকলা ভবন, মাদারীপুরে ২৫০ শয্যা হাসপাতাল, নার্সিং ইনস্টিটিউট, ইকো পার্ক হয়েছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয়টি বিবেচনা করলে জনগণ শাজাহান খানকে ভোট দেবে বলে এলাকাবাসীর বিশ্বাস। এ ছাড়া তাঁর প্রতি রয়েছে শ্রমিক সংগঠনের অকুণ্ঠ সমর্থন। এসব কারণে আওয়ামী লীগ তাঁকেই মনোনয়ন দেবে বলে তাঁর কর্মী সমর্থক ও এলাকাবাসী জোরেশোরে প্রচারণা চালাচ্ছে।

মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পাভেলুর রহমান শফিক খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ আসনে বরাবরই নৌপরিবহনমন্ত্রী বর্তমান সংসদ সদস্য শাজাহান খান আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পান এবং আশা করছি এবারও পাবেন। তিনিই বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবেন।’

জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রুবেল খান বলেন, ‘মাদারীপুর জেলাবাসীর নয়নমণি হচ্ছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিতভাবে আসেন এবং গরিব-দুঃখী সবার কথা শোনেন। একজন ভিক্ষুক এলেও তাঁকে চেয়ারে বসিয়ে তাঁর কথা শোনেন। তাই এ আসনের মানুষ শাজাহান খানকে খুবই পছন্দ করে এবং ভালোবাসে। এবারও তিনি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।’

এ ছাড়া মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দলের জেলা শাখার সহসভাপতি গোলাম মাওলা দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী বলে জানা যায়। তবে তাঁদের তেমন উল্লেখ্যযোগ্য কোনো প্রচারণা বা কর্মকাণ্ড চোখে পড়ছে না। সেই কারণে মনে করা হচ্ছে, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ছাড়া আওয়ামী লীগে বিকল্প প্রার্থী নেই।

সংসদ সদস্য শাজাহান খান বলেন, ‘নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দায়িত্ব। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়ার জন্য একটি বোর্ড রয়েছে। সেখান থেকেই প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি মনোনয়ন চাইব এবং আমার বিশ্বাস মাদারীপুর-২ আসনে দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে।’

বিএনপি : এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ও সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সদস্য হেলেন জেরিন খান, দলের মাদারীপুর জেলা শাখার সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক আবু মুন্সী, সাধারণ সম্পাদক জাহান্দার আলী জাহান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য, ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান কাওসার হাওলাদার, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত সিরাজুল ইসলাম বাচ্চু ভূঁইয়ার ছেলে জেলা বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম তুষার ভূঁইয়া।

হেলেন জেরিন খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল যদি অংশগ্রহণ করে এবং আমাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়, তাহলে আমি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।’ দেশের জনগণ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তাহলে বিএনপি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে বলে মনে করেন তিনি।

আবু বক্কর সিদ্দিক আবু মুন্সী বলেন, ‘দল যদি আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়, তাহলে আমি দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী। আশা করি দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।’

জাহান্দার আলী জাহান বলেন, ‘বিগত দিনে সংকটের সময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সক্রিয়ভাবে বিএনপির রাজনীতি করেছি। ভবিষ্যতেও জনগণের পাশে থেকে রাজনীতি করে যেতে চাই। সে ক্ষেত্রে দল যদি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।’

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য বলেন, ‘গত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে রাজৈর থেকে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি। মানুষ যেভাবে আমাকে ভোট দিয়েছে, তা আপনারা দেখেছেন। জনগণের ভোট পেয়েও ফলাফলের রাজনীতিতে বিজয়ী হতে পারিনি। এলাকার মানুষ রাজনৈতিক নেতার পরিবর্তন চায়। মানুষের ভালোবাসার কারণে আমি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। তবে নির্বাচনের সব কিছুই নির্ভর করছে দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর। কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে আমি তা মেনে নেব।’

উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হয়নি বলে সমালোচনা করেন মিল্টন বৈদ্য। তিনি বলেন, ‘পরিবর্তন দরকার। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিলে, আমরাও অংশ নেব এবং সদরের চেয়ে রাজৈরে ভোট বেশি থাকায় সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমাদেরই জয় হবে।’

তরুণ নেতা মনিরুল ইসলাম তুষার ভূঁইয়া বলেন, ‘দলের কাছে মনোনয়ন চাইব। দল যদি মনোনয়ন দেয়, তাহলে নির্বাচনে অংশ নেব। জনগণের ভোটে যদি আমি নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে প্রথমে শিক্ষা বিস্তারের জন্য কাজ করব। জেলায় মাদকের ভয়াবহতা বেড়েছে তাই মাদক ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়েও ব্যাপকভাবে কাজ করে যেতে চাই।’

আগামী নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন জানিয়ে হাবিবুর রহমান কাওসার হাওলাদার বলেন, ‘বিএনপি অংশ নেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। দল নির্বাচনে অংশ নিলে এবং আমাকে দলীয় মনোনয়ন দিলে আমি নির্বাচন করব।’

অন্যান্য : এই আসনে জাতীয় পার্টির তেমন কোনো কার্যক্রম নেই বললেই চলে। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি তাদের কিছু কার্যক্রম চোখে পড়ছে। জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি জাকারিয়া অপুর নাম দলের একক প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে।

এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক লোকমান হোসেন জাফরী এই আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা যায়।

 

 

 



মন্তব্য