kalerkantho


আওয়ামী লীগ নিশ্চিন্ত অপেক্ষায় বিএনপি

আয়শা সিদ্দিকা আকাশী, মাদারীপুর   

২০ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



আওয়ামী লীগ নিশ্চিন্ত অপেক্ষায় বিএনপি

নির্বাচনী রাজনীতিতে মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে এগিয়ে আছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এলাকাটি এই দলের ঘাঁটি বলেই পরিচিত। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের নূর-ই-আলম চৌধুরী (লিটন চৌধুরী)। আগামী নির্বাচনেও তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হবেন—এটা নিশ্চিত বলে মনে করছে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল বিএনপি। সংসদের বাইরে থাকা দলটি আগামী নির্বাচনে এ আসনে কাকে প্রার্থী করবে, সেটা নিয়েও আছে দ্বিধাবিভক্তি। মনোনয়ন পেতে পারেন, এমন কয়েকজনই আলোচনায় আছেন। স্থানীয় নেতারা বলছেন, সময় হলেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না হলেও এরই মধ্যে মাদারীপুরে বিভিন্ন দলের তৎপরতা শুরু হয়ে গেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা গণসংযোগ করছেন। বড় বড় হাট-বাজারে রংবেরঙের পোস্টার-ব্যানার চোখে পড়ছে তাঁদের। এখানেও এগিয়ে আছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগ : শিবচর আসনে টানা পাঁচবারের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের নূর-ই-আলম চৌধুরী। এলাকার রাজনীতির নেতৃত্বেও আছেন তিনি।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এ আসনটিকে আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক বলা হয়। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করে আসছেন।

দলের নেতাকর্মীরা বলছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলেও আওয়ামী লীগ খুব বড় ব্যবধানে জয়লাভ করবে।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় বোনের বাড়ি শিবচরের দত্তপাড়ায়। এ কারণে ওই এলাকায় বঙ্গবন্ধুর বিচরণ ছিল। ফলে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে এ এলাকায় অত্যন্ত শক্তিশালী। মাদারীপুরে দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী। সবার কাছে দাদাভাই হিসেবে পরিচিত ইলিয়াস আহমেদ ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে শিবচর এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি মারা যাওয়ার পর উপনির্বাচনে বিজয়ী হন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র নূর-ই-আলম চৌধুরী। বর্তমান সংসদেও নূর-ই-আলম এলাকার প্রতিনিধিত্ব করছেন। একই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সম্পাদক। একসময় হুইপও ছিলেন।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, নূর-ই-আলম চৌধুরী আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে হওয়ায় এ আসনে দলের অন্য কেউ মনোনয়ন চান না। সেই একই কারণে তিনি শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগকেও ঢেলে সাজাতে সক্ষম হয়েছেন। উপজেলা থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত দল ও দলের সব সহযোগী সংগঠনের শক্তিশালী কমিটি রয়েছে। উপজেলাজুড়ে ব্যাপক উন্নয়নও হচ্ছে। পদ্মা সেতুর এপারে শিবচর উপজেলার অবস্থান হওয়ায় এখানে চলছে নানা উন্নয়নকাজ। এলাকার রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, স্কুল-কলেজ-মাদরাসা, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। শিবচর এখন একটি উপশহরে পরিণত হয়েছে। এসব কারণে নূর-ই-আলম চৌধুরী ব্যাপক জনপ্রিয়। আগামী নির্বাচনে তিনি বিশাল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবেন বলে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করে।

স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মী জানায়, এ আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হলেন বর্তমান সংসদ সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরী। তারা আশা করছে, এবারও তিনিই বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়ে সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন।

শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক এ কে এম নাসিরুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিবচর উপজেলায় আমাদের এমপি নূর-ই-আলম চৌধুরী ছাড়া আওয়ামী লীগের অন্য কোনো প্রার্থী নেই। তাঁর বিকল্পও কেউ নেই। তাঁর হাত ধরেই এই উপজেলার সব উন্নয়ন হয়েছে।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহদপ্তর সম্পাদক শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এখানে আওয়ামী লীগ বলতেই আমরা নূর-ই-আলম চৌধুরীকে বুঝি। তাঁর নিষ্ঠা ও সফল নেতৃত্বের কারণে শিবচরে আওয়ামী লীগের কোনো গ্রুপিং নেই। তাই এই আসনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হলেন নূর-ই-আলম।’

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আয়শা সিদ্দিকা মুন্নি বলেন, ‘শিবচর উপজেলা এখন উপশহরে পরিণত হয়েছে। উপজেলাজুড়েই উন্নয়নের জোয়ার বইছে। আর তা সম্ভব হয়েছে বর্তমান সংসদ সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরীর জন্যই। তাই একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হলেন নূর-ই-আলম চৌধুরী। তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবেন বলে আমরা উপজেলাবাসী মনে করি।’

বিএনপি : এই আসনে বিগত দিনগুলোতে বিএনপির অবস্থান ভালো থাকলেও কয়েক বছর ধরে নেতৃত্বে শূন্যতার কারণে অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে। শিবচরেও বিএনপি সাংগঠনিকভাবে খুবই দুর্বল। জেলা বিএনপির কোন্দলের ঢেউ শিবচরে আছড়ে পড়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব যেকোনো সময় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে বলে দলটির  বেশির ভাগ নেতাকর্মীর আশঙ্কা।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে দলটির একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শিবচর উপজেলা বিএনপির নেতা জামান কামাল নুরুদ্দিন মোল্লা, শিবচর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি আব্দুল হান্নান মিয়া, নিউ নেশন ও ইত্তেফাক পত্রিকার সাবেক সম্পাদক মোতাহার হোসেন সিদ্দিকীর ছেলে বিএনপি নেতা সাজ্জাদ হোসেন লাভলু সিদ্দিকীর নাম শোনা যাচ্ছে। অবশ্য তাঁদের কাউকে নির্বাচনী মাঠে দেখা যাচ্ছে না। জামান কামাল নুরুদ্দিন মোল্লা ২০০৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।

কয়েকজন নেতাকর্মী জানায়, এলাকাবাসী এখন আগের চেয়ে অনেক সচেতন হয়েছে। সাধারণ ভোটাররা বুঝেশুনেই ভোট দেবে। বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ নেয় আর ভোট প্রয়োগ যদি সুষ্ঠুভাবে হয় তাহলে খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে তারা মনে করে।

মাদারীপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জামিনুর হোসেন মিঠু বলেন, আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য এখনো প্রার্থীর ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সময় হলে নিয়মমতো দল থেকেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

বিএনপির টিকিটে নির্বাচন করতে আগ্রহী কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি আব্দুল হান্নান মিয়া বলেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। রাজনীতির কারণে জীবনে অনেক ত্যাগ শিকার করতে হয়েছে। সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছি। এলাকার মানুষও এ কারণে আমাকে ভালোবাসে। তাই যদি দল আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে আমি নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। সুষ্ঠুভাবে ভোট হলে আর দল আমাকে মনোনয়ন দিলে ইনশাআল্লাহ নির্বাচিত হতে পারব।’

অন্যান্য : এ আসনে জাতীয় পার্টির তেমন কোনো কার্যক্রম নেই। তবুও জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম পার্টির সদস্য ও মাদারীপুর জেলা জাতীয় পার্টির সহসভাপতি জহিরুল ইসলাম মিন্টু নির্বাচন করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। গত নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন দাখিল করলেও দলের সিদ্ধান্তে পরে প্রত্যাহার করে নেন।

এ ছাড়া শিবচর আসনে ইসলামী আন্দোলনের নেতা হাফেজ মোহাম্মদ জাফর দলটির সম্ভাব্য প্রার্থী। তাঁর মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।


মন্তব্য