kalerkantho


কোটা নিয়ে নির্দেশনা নেই মতামত চাচ্ছে সরকারি সংস্থা

আশরাফুল হক   

১৯ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



কোটা নিয়ে নির্দেশনা নেই মতামত চাচ্ছে সরকারি সংস্থা

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের ঘোষণা এলেও এ নিয়ে সরকারের কোনো নির্দেশনা নেই। বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থা কোটা বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ কোনো উত্তর দিতে পারছে না। কারণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো এসংক্রান্ত প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাড়া পাচ্ছে না।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ গত ১০ এপ্রিল জেলা কোটা নির্ধারণের বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনা চায়। কিন্তু মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দিতে পারেনি।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৪৩টি পদ পূরণের জন্য তাঁরা দুটি নিযোগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। প্রথম বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হয় গত বছরের ২৭ নভেম্বর। দ্বিতীয়টি একই বছরের ৫ ডিসেম্বর। প্রথম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আবেদন যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে। আগামী ২৭ এপ্রিল বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) পদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আবেদন যাচাই-বাছাই শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেই জেলা কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব পদের মধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ৫৭টি শূন্য পদে সরাসরি জনবল নিয়োগের জন্য ছাড়পত্র দেয়। ৫৭টি পদের মধ্যে ১৫টি পদ নিয়ে আদালতে রিট হয়। অবশিষ্ট ৪২টি পদে জনবল নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে জেলা কোটা নির্ধারণ করে এসব পদে নিয়োগ দেওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কাছে মতামত চেয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোটা নিয়ে যে অবস্থা চলছে সেখানে অধিদপ্তরকে তাঁরা কী মতামত দেবেন, বুঝতে পারছেন না। কারণ সরকারের কোনো দপ্তরেরই কোনো নির্দেশনা নেই। কোটার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তাদের কাছ থেকেই কোনো নির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে না। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বিষয়টির সঙ্গে আগে সরাসরি সংশ্লিষ্ট না হলেও এখন জড়িয়ে গেছে। কারণ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে কমিটি করে কোটা নিয়ে মতামত দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছ থেকেও কোনো নির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে না।

শুধু বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষই নয়, সরকারের আরো কয়েকটি অধিদপ্তর নিয়োগ নিয়ে জটিলতায় পড়েছে। খাদ্য অধিদপ্তর কিছু পদে জনবল নিয়োগ দেওয়ার জন্য সম্প্রতি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেয়েছে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁরা বুঝতে পারছেন না এই নিয়োগের জন্য কোটা পদ্ধতি কার্যকর হবে কি না। তাঁরা মন্ত্রিপরিষদসচিবকে উদ্ধৃত করে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে কোটা বাতিলের কথা বলার পর এটি বাতিল হয়ে গেছে। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’ যদি বাতিল হয়েই থাকে তাহলে সেটা কবে থেকে কার্যকর হবে। সেটা কি সংসদে ঘোষণা দেওয়ার দিন থেকেই কার্যকর হবে, নাকি প্রজ্ঞাপন জারির দিন থেকে কার্যকর হবে, তা স্পষ্টভাবে জানতে চাচ্ছেন তাঁরা।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে গতকাল বুধবার পর্যন্ত কোটার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত পৌঁছায়নি। সংসদ সচিবালয় বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তারা কোনো লিখিত নির্দেশনা পায়নি।

মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা এখনো কোনো নির্দেশনা পাইনি। নির্দেশনা পেলে কাজ শুরু হবে।’

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, কোটা বাতিলের বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারিসহ অন্যান্য বিষয়ে কিভাবে কাজ এগোবে, সে বিষয়ে তাঁরাও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন। সরকারপ্রধানের কাছ থেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন তাঁরা। তাঁরা আরো বলেছেন, কোটা নিয়ে তাঁদের কাছেও বিভিন্ন সংস্থা জানতে চাচ্ছে। কিন্তু তাঁরা কোনো তথ্য দিতে পারছেন না।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় সফরে সৌদি আরব হয়ে যুক্তরাজ্যে গিয়েছেন। লন্ডনে কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন তিনি। এই সফর শেষে আগামী ২৩ এপ্রিল তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিদেশে বসেও প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ফাইল অনুমোদন করেন। তবে কোটার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অনুমোদন বা গাইডলাইন তিনি বিদেশে অবস্থানকালে দেবেন কি না, তা বোঝা যাচ্ছে না। যুক্তরাজ্য সফর শেষে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রীর অস্ট্রেলিয়া সফরের কথা রয়েছে। এই অবস্থায় কবে নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছবে, সেটা বুঝতে পারছেন না কর্মকর্তারা।

সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা সংস্কারে পাঁচ দফা দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। গত ৮ এপ্রিল শাহবাগে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের হামলা ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এরপর আন্দোলন সহিংস হয়ে ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১১ এপ্রিল সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্নোত্তর পর্বে কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীসহ অবহেলিতদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় চাকরির ব্যবস্থা করার কথা বলেন তিনি।



মন্তব্য