kalerkantho


নৌকার কাণ্ডারি শেখ হাসিনা

প্রসূন মণ্ডল, গোপালগঞ্জ    

১৯ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



নৌকার কাণ্ডারি শেখ হাসিনা

টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং কোটালীপাড়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গোপালগঞ্জ-৩ সংসদীয় আসন। এ আসন থেকে নির্বাচন করে থাকেন বঙ্গবন্ধুকন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। স্বাভাবিকভাবেই এখানে আওয়ামী লীগের অন্য কেউ মনোনয়ন চান না।

তিনবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও গোপালগঞ্জ-৩ আসন থেকে প্রার্থী হবেন—আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা সেটাই চায়।

অন্যদিকে জেলা বিএনপির সহসভাপতি এস এম জিলানী এ আসনে প্রার্থী হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়া জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ-ইনু) কোটালীপাড়া উপজেলা শাখার সভাপতি অরুণ চন্দ্র সাহা ও জাসদের (আম্বিয়া) রিয়াজুল ইসলাম তালুকদারের নাম শোনা যাচ্ছে।

দেশের অন্যান্য আসনের সঙ্গে গোপালগঞ্জের সংসদীয় এলাকার রাজনীতির মিল নেই। কারণ গোপালগঞ্জ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান। এলাকার মানুষ মনেপ্রাণে বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসে, ভালোবাসে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকাকে। সে কারণে মানুষ বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে জয়ী করে। এ ক্ষেত্রে প্রার্থী বিচার তাদের কাছে মুখ্য নয়। বঙ্গবন্ধুর নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে আত্মতৃপ্তি লাভ করে এ অঞ্চলের সাধারণ ভোটাররা।

বিগত সংসদ নির্বাচনের ফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ প্রার্থী দলের সভাপতি শেখ হাসিনা এই আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে আসছেন।

এলাকাবাসী ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য জননেত্রী শেখ হাসিনাকে মনেপ্রাণে ভালোবাসে এখানকার ভোটাররা। সর্বোচ্চ ভোটে বিজয়ী করে তাঁকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করে তারা। এ ছাড়া তাঁকে ভোট দিয়ে গর্ববোধ করে ভোটাররা।

ভোটারদের ভাষ্য, এখানকার ভোটে নির্বাচিত হয়ে শেখ হাসিনা দেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী নিজেও এ আসনের ভোটারদের নিয়ে গর্বিত। কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ার ভোটার আর সাধারণ মানুষের খোঁজখবর রাখেন তিনি। এ ছাড়া এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বিশেষ নজর রাখেন শেখ হাসিনা। এসব কারণে ভোটাররাও চায় তিনি যেন এ আসন থেকে নির্বাচন করেন।

এলাকার মানুষ বলছে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর দীর্ঘদিন গোপালগঞ্জ অবহেলিত ছিল। সে সময়ে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা এ জেলার উন্নয়নে এগিয়ে আসেনি। তাই এ জেলায় আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দলের ভোটারও বাড়েনি। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে। এ অঞ্চলের মানুষেরও ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করায় আবারও গোপালগঞ্জের উন্নয়ন থমকে যায়। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ আবার সরকার গঠনের পর অবস্থার পরিবর্তন ঘটে।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের নেত্রী (শেখ হাসিনা) যত দিন জীবিত থাকবেন, তত দিনই বঙ্গবন্ধুর নৌকা নিয়ে এই আসনে নির্বাচন করবেন—এটা আমাদের ও ভোটারদের প্রাণের দাবি। আমরা তৃণমূল থেকে নেত্রীকেই মনোনীত করে রেখেছি। তা ছাড়া এই আসনের ভোটাররা নৌকা ছাড়া অন্য কিছু চেনে না, জানেও না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ৯ বছর ধরে সারা দেশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। দেশকে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছে। রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। মানবতার সেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে শেখ হাসিনা এখন বিশ্বে রোল মডেল। আমরা চাই, তিনিই আমরণ প্রধানমন্ত্রী থাকুক। তাহলে বাংলাদেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে।’

সোলায়মান বিশ্বাস বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এই আসনে অন্য কোনো দলের প্রার্থী যদি নির্বাচন করেন, তাহলে জামানত হারাবেন। অতীতে এমন হয়েছে। আর ভবিষ্যতে এমনই হবে। বঙ্গবন্ধুর জন্য আমরা টুঙ্গিপাড়ার মানুষ গর্বিত। তিনি আমাদের নেতা ছিলেন। তাঁরই কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাই আমাদের একমাত্র আশা-ভরসা।’ আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এরই মধ্যে নির্বাচনী কাজ শুরু করেছেন বলে জানান তিনি।

কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা বিমল কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, ‘কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়ার ভোটারদের প্রাণের মানুষ বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। নেত্রীর বাইরে অন্য কারো ব্যাপারে এই অঞ্চলের মানুষ ভুল করেও চিন্তা করে না। তিনি ব্যতীত আমাদের অন্য কোনো প্রার্থী নেই বা সম্ভাবনাও নেই।’

আগামীতেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করবে—তাঁর এমন বিশ্বাস আছে জানিয়ে বিমল কৃষ্ণ বলেন, ‘আমরা চাই, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘায়ু লাভ করুন, তাঁর অবর্তমানে বঙ্গবন্ধুর নাতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে আমরা পেতে চাই।’

গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী এমদাদুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির পিতা। জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে এ দেশের মুক্তিকামী মানুষ দেশ স্বাধীন করেছে। তাঁরই কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ৯ বছর ধরে ক্ষমতায় আছেন। গোপালগঞ্জসহ সারা দেশে যে উন্নয়ন তিনি করেছেন, সেটা একটি মাইলফলক। আন্তর্জাতিক মহলেও তিনি উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।

চৌধুরী এমদাদুল হক বলেন, ‘শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জ-৩ আসনসহ একাধিক আসনে নির্বাচন করেন। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর শুধু এই আসনটি রেখে অন্যগুলো ছেড়ে দেন। আগামীতেও এই আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে তিনি চতুর্থবারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাবেন বলে আমার বিশ্বাস।’

গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সহসভাপতি এস এম জিলানী বলেন, ‘প্রথমত, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে আমরা বা আমি নির্বাচনে যাব না। দ্বিতীয়ত, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আমি বা আমার দল নির্বাচনে যাবে। সে ক্ষেত্রে আমি গোপালগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছি। যদি নির্বাচনে অংশ নিই তাহলে বিগত সময়ের নির্বাচনের থেকে এবার আমাদের ভোট বাড়বে।’



মন্তব্য