kalerkantho


কালের কণ্ঠ’র সেলিব্রিটি শোতে তথ্যমন্ত্রী

অপরাধীর মুক্তির শর্তে নির্বাচন মানা উচিত নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



অপরাধীর মুক্তির শর্তে নির্বাচন মানা উচিত নয়

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, নিবন্ধিত দল নির্বাচনে আসবে। তবে অপরাধী দলকে রাজনীতির বাইরে রাখতে হবে। বন্দি অপরাধীর মুক্তির শর্তে নির্বাচন মানা উচিত নয়। গতকাল রবিবার বিকেলে কালের কণ্ঠ’র প্রধান কার্যালয়ে সেলিব্রিটি শোতে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কালের কণ্ঠ’র নির্বাহী সম্পাদক ও বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল।

সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী সরকারি চাকরির কোটা নিয়ে আন্দোলন, সাম্প্রতিক রাজনীতি ছাড়াও সংবাদকর্মীদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড বিষয়েও কথা বলেন। বিকেলে তথ্যমন্ত্রীকে কালের কণ্ঠ কার্যালয়ে স্বাগত জানান কালের কণ্ঠ’র নির্বাহী সম্পাদক।

আলাপচারিতায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মালিকপক্ষ বলেছে সংবাদপত্র প্রকাশের খরচ বেড়েছে। আমরা তাদের প্রস্তাব পরীক্ষা করছি। বাজেটের আগে আমরা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করব। চার-পাঁচ মাসের মধ্যে ওয়েজ বোর্ড (রোয়েদাদ) আসছে। আমরা বাস্তবায়ন করব। শেখ হাসিনা সরকার সংবাদপত্রশিল্প বিকাশে অর্থনৈতিক সুরক্ষার ব্যবস্থা করবে।’

প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বাধা অতিক্রম করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে এগিয়ে চলার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ‘কালভার্ট ভাঙা, গাছ কাটা, অন্তর্ঘাতের কাঁটার মতো বিশাল সব বাধা অতিক্রম করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন সাধন করেছেন। সাম্প্রদায়িক চক্রকে দমনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের প্রাপ্তি হয়েছে। সংবিধান রক্ষা পেয়েছে। গণতন্ত্রের বাগানে বন্য শূকরের জায়গা নেই। গণতন্ত্রের বাগানে রাজাকারের জায়গা নেই। নিবন্ধিত দল নির্বাচনে আসবে। তবে অপরাধী দলকে রাজনীতির বাইরে রাখতে হবে। বন্দি অপরাধীর মুক্তির শর্তে নির্বাচন মানা উচিত নয়। গত ৯ বছরে বিএনপি নির্বাচনের রূপরেখা উপস্থাপন করতে পারেনি। তারা একবার বলে নির্বাচনে অংশ নেবে না, আরেকবার অংশ নেয়।’

সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে আন্দোলন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, যেকোনো উন্নয়নশীল দেশে সামাজিক সমস্যা নিয়ে সর্বজনীন আন্দোলন হতে পারে। তিনি বলেন, ‘বৈষম্য কমিয়ে আনতে হবে। উত্তরাধিকার সূত্রে বৈষম্যমূলক সমাজ আমরা পেয়েছি। বৈষম্য থেকে সমতার সমাজে যেতে সংবিধানের নির্দেশ অনুসারে কোটা পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছিল। এটা স্থায়ী ব্যবস্থা না বা এটা যে পরিবর্তন করা যাবে না তা নয়। কোটা বিন্যাসে গত ৪৭ বছরে পরিবর্তন এসেছে। কোটা বাতিলে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত একটি পদক্ষেপ।’

সরকারের উন্নয়নের দিকে যাত্রার বিষয়টি তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, চমৎকার উন্নয়নের দিক বদল ঘটেছে ২০০৯ সালে। শেখ হাসিনা ২০০৯ সাল থেকে অর্থনৈতিক মোড় বদলকারী রাস্তার দিকে নিয়ে গেছেন।

আগুন সন্ত্রাস বা আগুন সন্ত্রাসী কারা তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তথ্যমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াত জোটের সন্ত্রাসকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘আগুন নিয়ে সন্ত্রাস করে, পেট্রলবোমা দিয়ে মানুষ মারছে। বাস পোড়াচ্ছে, আগুন দিয়ে ঘর পুড়িয়ে দেওয়া—একাত্তরে পাকিস্তানিরা গ্রামকে গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছিল। হিটলার পুড়িয়েছিল কি না জানি না, গ্যাস চেম্বার বসিয়েছিল।’ বিএনপি-জমায়াতকে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, ‘৯৩ দিনের আগুনযুদ্ধ, আগুন সন্ত্রাস করেছে। আগুনযুদ্ধ অমানবিক, এটা গণহত্যার শামিল।’

২০০৯ সালে মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সামনে ছিল—এ কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, খুনিদের পুনর্বাসন এসব বিষয় ছিল।

শেখ হাসিনার প্রতিহিংসা থেকে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে নন—এ কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘সংসদ সদস্যরা দুদকের, আদালতের বারান্দায় কি নেই? খালেদা যে মামলায় পড়েছেন তাতে তিনি নিজেই ফেঁসেছেন। শেখ হাসিনা নয় বরং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা করেছেন খালেদা জিয়া। ২১ আগস্ট বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করার চেষ্টা হয়েছিল। আরো ৪০ বছর শাসন করার বুদ্ধি করছিল তারা। খালেদা জিয়াকে যে আদালত সাজা দিয়েছেন সেটা তাঁর পছন্দের আদালত। আদালতে নালিশ করেছেন, আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন। এতিমের টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ছিনিমিনি খেলেছেন।’

নিজের দলের আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার বিষয়ে ইনু বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সঙ্গে ঐক্য করেছি।’

অনুষ্ঠানে দর্শকরা সরাসরি প্রশ্ন করেন তথ্যমন্ত্রীকে। তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

 


মন্তব্য