kalerkantho


সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ

পরিবর্তনযোগ্য আসন কমে ৩০-৩৫টিতে দাঁড়িয়েছে

সিদ্ধান্ত নিতে আজ ইসির সভা

কাজী হাফিজ   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



পরিবর্তনযোগ্য আসন কমে ৩০-৩৫টিতে দাঁড়িয়েছে

জাতীয় সংসদের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ৬৩টিকে পরিবর্তনযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও নানা মহলের তদবিরে তা ৩০-৩৫টিরও নিচে নেমে এসেছে। তদবিরকারীদের মধ্যে সরকারি দলের উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন নেতাও রয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত কমিটির সদস্যরা প্রাথমিকভাবে ওই আসনগুলোকে চিহ্নিত করেছিলেন।

এদিকে কুমিল্লা-১০ আসন নিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত হওয়ার পর আজ বুধবার বৈঠকে বসতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সভায় আসনগুলোর সীমানা পুনর্নির্ধারণের অগ্রগতি পর্যালোচনা হতে যাচ্ছে। সভায় সিদ্ধান্ত হলে কয়েক দিনের মধ্যেই খসড়া তালিকা প্রকাশ হতে পারে।

সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত কমিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম গতকাল মঙ্গলবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘স্থগিতাদেশের সত্যায়িত কপি আমরা এখনো পাইনি। তবে শুনেছি। খসড়া তালিকা প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ। আমরা এটি কমিশন সভায় উপস্থাপন করব। কমিশন সভাতেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

২০০১ সালের নির্বাচনে নাঙ্গলকোট ও কুমিল্লা সদর (দক্ষিণ) উপজেলা নিয়ে পৃথক দুটি নির্বাচনী আসন ছিল। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এ দুটি আসন পুনর্বিন্যাস করে ইসি। এতে নাঙ্গলকোট উপজেলার সঙ্গে সীমানা বাড়িয়ে কুমিল্লা সদর (দক্ষিণ) উপজেলার আটটি ইউনিয়নকে যুক্ত করে কুমিল্লা-১০ আসন করা হয়। এভাবে আসন পুনর্বিন্যাস করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করা হয়। গত ১০ ডিসেম্বর বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ নির্বাচন কমিশন সচিবের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেন। কমিশন ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে। সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ পাওয়া গেছে।

নির্বাচন কমিশন সীমানা পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে তাদের কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপের সময়সীমা ইতিমধ্যে পেরিয়ে এসেছে। গত ১৬ জুলাই ঘোষিত কমিশনের রোডম্যাপ অনুসারে গত নভেম্বরে জাতীয় সংসদের ৩০০ নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ, নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে দাবি/আপত্তি ও সুপারিশের নিষ্পত্তি এবং ডিসেম্বরে সীমানা চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশের সময়সীমা নির্ধারিত ছিল।

ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, ইসির সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত কমিটির সদস্যরা প্রাথমিকভাবে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসন এলাকার মধ্যে পরিবর্তনযোগ্য ৬৩টি আসন চিহ্নিত করলেও তদবিরের দাপটে তা ৩০-৩৫টিরও নিচে নেমে এসেছে।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল বিকেলে সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা, কমিশনার রফিকুল ইসলাম ও ইসি সচিবের সঙ্গে দেখা করেন।

ইসি সচিবালয় সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের পর গঠিত নতুন উপজেলা ও সিটমহলকে যুক্ত করে দশম সংসদের আসন অপরিবর্তিত রেখেই একাদশ সংসদ নির্বাচনের সীমানার খসড়া প্রস্তুত করেছে ইসি। ফলে সীমানা পরিবর্তনের চার শতাধিক অভিযোগ আমলে নিতে পারছে না সাংবিধানিক এই সংস্থা।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যেসব উপজেলা ভেঙে নতুন উপজেলা হয়েছে, সেই উপজেলার আসনের সঙ্গে নতুন উপজেলাটি যুক্ত হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, দশম সংসদে রাজবাড়ীতে একটি আসনে দুটি উপজেলা ছিল। এখন একটি উপজেলা ভেঙে দুটি করা হয়েছে। ফলে এ আসনে মোট তিনটি উপজেলা নিয়ে একটি আসন করা হচ্ছে। সিটমহলগুলো বর্তমানে যে আসনের উপজেলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে সে হিসাবেই সংসদীয় আসনের সীমানায় যুক্ত হবে।’

সূত্র জানায়, ৩০ থেকে ৩৫টি সংসদীয় আসনে পরিবর্তন আসছে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী, কুমিল্লার লালমাই, সিলেটের ওসমানীনগর, নাটোরের নলডাঙ্গা, ময়মনসিংহের তারাকান্দা, রাজবাড়ীর কালুখালীসহ ২০১৩ সালের পর যেসব নতুন উপজেলা হয়েছে সেগুলো সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসন এলাকায় যুক্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী জেলার আসনগুলোতে সিটমহলের কারণে পরিবর্তন আসবে।

নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, একাদশ সংসদ নির্বাচনের ৩০০ আসনের সীমানার খসড়া প্রকাশের আগেই কমিশনে অভিযোগ-আবেদনের স্তূপ জমে যায়। দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৪২টি থেকে চার শতাধিক আবেদন পড়ে। সাধারণ মানুষ এবং বর্তমান সংসদ সদস্যসহ রাজনীতিকরা সীমানা পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেন। সীমানা অপরিবর্তিত রাখার জন্যও অনেক আবেদন জমা পড়ে।

 

 



মন্তব্য