kalerkantho


খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতের আবেদনের শুনানি আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিতের আবেদনের শুনানি আজ

ফাইল ছবি

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন স্থগিত করেননি আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের আবেদন আজ বুধবার আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দিয়েছেন চেম্বার আদালত। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় আজ ১ ও ২ নম্বরে রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন। এ কারণে আজ সকালেই এ দুটি আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে। 

এদিকে হাইকোর্টের জামিন আদেশের কপি গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছেছে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গতকালই ঢাকার সংশ্লিষ্ট মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে পাঠানো হয়। তবে গতকাল আদেশের কপি নিম্ন আদালতে না পৌঁছায় খালেদা জিয়ার জামিননামা দাখিল করতে পারেননি তাঁর আইনজীবীরা। আজ আপিল বিভাগ জামিন স্থগিত না করলে জামিননামা দাখিল করতে পারবেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। আর হাইকোর্টের জামিন স্থগিত হয়ে গেলে জামিননামা দাখিলের প্রয়োজন পড়বে না।

এদিকে কুমিল্লার নাশকতা মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানোর কারণে ওই মামলায় আজই কুমিল্লার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন করতে পারেন আইনজীবীরা।

এ পরিস্থিতিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জামিন আদেশ বহাল থাকলেও মুক্তি পাচ্ছেন না খালেদা জিয়া। তাঁকে কুমিল্লার মামলায় জামিন নিতে হবে। ওই মামলায় জামিন না হলে খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন না।

চার কারণে হাইকোর্ট গত সোমবার খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন। এ জামিন স্থগিত করার জন্য গতকাল আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালতে পৃথক দুটি আবেদন করে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ। দুপুরে এ আবেদনের ওপর শুনানি হয়। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, দুদকের পক্ষে অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান এবং খালেদা জিয়ার পক্ষে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন শুনানি করেন। শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এতিমের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। আত্মসাৎকারী জামিন পেতে পারেন না। আবেদনের বিরোধিতা করে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বলেন, হাইকোর্ট অসুস্থতাসহ চার কারণে খালেদা জিয়াকে জামিন দিয়েছেন। এ জামিন বাতিল বা স্থগিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। শুনানি শেষে আদালত কোনো স্থগিতাদেশ দেননি। তবে আবেদন দুটির ওপর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠানোর আদেশ দেন।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত সোমবার দুপুরে খালেদা জিয়ার জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। নিয়ম অনুযায়ী সাজাপ্রাপ্ত আসামির জামিন হলে হাইকোর্ট থেকে সংশ্লিষ্ট শাখার মাধ্যমে সরকারিভাবে ডাকঘরের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলা আদালতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে জামিননামাসহ আদেশের কপি জেলা আদালত কারাগারে পাঠিয়ে দিয়ে থাকেন। এ জামিন আদেশ পাওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষ তা যাচাই-বাছাই করে সত্যতা পেলেই কেবল মুক্তি দেয়। এ কারণে খালেদা জিয়ার জামিন আদেশ ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে যাবে। সে আদালতে আদেশের কপি পৌঁছার পর খালেদা জিয়ার জামিননামা দাখিল করতে হবে। সেখান থেকে আদেশের কপি কারাগারে যাবে। এরপর প্রক্রিয়া শেষ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে কারা কর্তৃপক্ষ। কুমিল্লার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কারণে কারা কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে পারবে না।

এরই মধ্যে কুমিল্লার একটি মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আগামী ২৮ মার্চ কুমিল্লার আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে এ মামলায় এখন খালেদা জিয়াকে কুমিল্লার আদালতে জামিন নিতে হবে। এ কারণে বিএনপিপন্থী সিনিয়র আইনজীবীরা বৈঠক করেছেন। বৈঠকে কুমিল্লার মামলায় জামিন আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই আদালতে জামিন পেলে জামিননামা দাখিল করতে হবে। আর জামিন না দিলে কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন চাইতে হবে। সেখানে আবেদন খারিজ হলেই কেবল হাইকোর্টে জামিন চাইতে পারবেন। হাইকোর্ট জামিন দিলে এরপর রাষ্ট্রপক্ষ যদি আপিল না করে বা আপিল করলেও আপিল বিভাগ জামিন বহাল রাখলে কেবল মুক্তি পেতে পারেন খালেদা জিয়া। উচ্চ আদালত জামিন না দিলে মুক্তি পাবেন না তিনি।

২৮ ও ২৯ মার্চ খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ : এদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আগামী ২৮ ও ২৯ মার্চ কারাগার থেকে আদালতে হাজির করার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ড. মো. আক্তারুজ্জামান এই নির্দেশ দেন। রাজধানীর বকশীবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থপিত অস্থায়ী আদালতে এই মামলার বিচার কার্যক্রম চলছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি মোশাররফ হোসেন কাজলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত হাজিরা পরোয়ানা ইস্যু করে এই নির্দেশ দেন। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দুদকের পক্ষে এই আবেদন করা হয়। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানির দিন ধার্য ছিল। ওই সময় দুদকের পক্ষে হাজিরা পরোয়ানা ইস্যুও আবেদন করা হয়। কিন্তু খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আদালতকে জানান, তাঁর জামিনের আবেদন করা হয়েছে। জামিন মঞ্জুর হলে আর হাজিরা পরোয়ানা ইস্যুর দরকার হবে না।

গতকাল খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় জিয়া চ্যারিটেবল  ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। কারণ কারাগারে আসামি থাকলে তাঁর উপস্থিতিতেই শুনানি হতে হবে বলে আইনে বলা হয়েছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার পর খালেদা জিয়া বর্তমানে কারাগারে আছেন।

 

 


মন্তব্য