kalerkantho


রিমান্ডে নির্যাতনে ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



রিমান্ডে নির্যাতনে ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর অভিযোগ

জাকির হোসেন মিলন

পুলিশ রিমান্ডে নির্যাতনে এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর পরিবার ও বিএনপি নেতারা। জাকির হোসেন মিলন (৩৮) নামে ওই ছাত্রনেতাকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে গতকাল সোমবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তখন মৃত ঘোষণা করেন।

মিলন ঢাকা মহানগর উত্তর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সহসভাপতি ও তেজগাঁও থানা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ছিলেন। তাঁর স্বজন ও বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, ৬ মার্চ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের নির্দেশে মিলনকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। গত রবিবার আদালতের নির্দেশে তাঁকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (কেরানীগঞ্জ) পাঠানো হয়। রিমান্ডে ‘নির্যাতনের’ কারণেই অসুস্থ হয়ে মিলন মারা গেছেন বলে দাবি তাঁদের।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, গতকাল সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কেন্দ্রীয় কারাগারের মাসুদ নামের এক কারারক্ষী মিলনকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তখন তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

গতকাল এক বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘জাকির হোসেন মিলনকে ৬ মার্চ গ্রেপ্তার করা হয়। পরের দিন আদালতে হাজির করে রমনা থানার পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করে। ৮ মার্চ রমনা থানায় তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়। টানা তিন দিন রিমান্ডে থাকার পর আজ (গতকাল) ভোরে কারাগারে তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। রিমান্ডে থাকা অবস্থায় পুলিশি নির্মম নির্যাতনে গুরুতর অসুস্থ মিলনকে কারাগারে চিকিৎসা না দিয়ে এভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অমানবিক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি।’

গতকাল হাসপাতালে গিয়ে মিলনের স্বজনরাও ‘হত্যার’ অভিযোগ তোলে। তাঁর চাচা ওয়ালীউল্লাহ ও স্ত্রী শাহনাজ আক্তার তানিয়া বলেন, গত ৬ মার্চ মানববন্ধন শেষে ফেরার পথে রমনা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে শাহবাগ থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে তাঁর সাত দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই সময় স্বজনরা শাহবাগ থানা, রমনা থানা ও ডিবি অফিসে গিয়ে খোঁজ নিয়েও মিলনকে কোথায় রাখা হয়েছে, তা জানতে পারেনি। চাচা ওয়ালীউল্লাহ বলেন, ‘রবিবার আদালতের সামনে প্রিজন ভ্যানে আমি মিলনকে দেখি। সে তখন বলে, শরীরের অবস্থা খারাপ। মনে হয় বাঁচব না!’ স্ত্রী তানিয়া বলেন, ‘আমার স্বামীর কোনো অসুখ ছিল না। তাঁকে মেরে ফেলা হয়েছে।’

স্বজনরা জানায়, মিলন শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানার বাহিজদী মুন্সীকান্দী এলাকার মৃত সানাউল্লাহর ছেলে। তিনি তেজগাঁওয়ে থেকে সরকারি বিজ্ঞান কলেজে লেখাপড়া করেন। সাম্প্রতিক সময়ে টঙ্গীর মাজুখান এলাকায় থাকতেন স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে।  পরিবারের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে রমনা থানার ওসি কাজী মাইনুল হোসেন ও শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বেশ কয়েকবার মোবাইল ফোনে কল করে তাঁদের পাওয়া যায়নি।



মন্তব্য