kalerkantho


দেড় শ একর বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত

টেকনাফে পাহাড়ের ৪০ স্থানে দুর্বৃত্তদের আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



টেকনাফে পাহাড়ের ৪০ স্থানে দুর্বৃত্তদের আগুন

কক্সবাজারের টেকনাফের নাইট্যং পাহাড়ে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে জ্বলছে বনজ সম্পদ। ছবি : কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের টেকনাফের নাইট্যং পাহাড়ের সংরক্ষিত বনে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। বিশাল পাহাড়টির অন্তত ৪০টি পৃথক স্থানে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে তারা। প্রাথমিকভাবে এই ঘটনাকে স্যাবোটাজ মনে করছেন এলাকার লোকজন ও সরকারি কর্মকর্তারা। আগুনে প্রায় দেড় শ একর পাহাড়ি ভূমির সামাজিক বনায়ন, পশুখাদ্য বাগান ও প্রাকৃতিক বনজ সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই আগুন লোকালয়ের দিকেও ছড়িয়ে পড়ে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার নুর আহমেদ ঘোনা থেকে নাইট্যংপাড়া এলাকার পাহাড়ে এ ঘটনা ঘটে। উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, বন বিভাগ, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীসহ স্থানীয়রা ছয় ঘণ্টা চেষ্টার পর সন্ধ্যার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। পাহাড়ে আগুন নেভাতে গিয়ে স্থানীয় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। কে বা কারা আগুন দিয়েছে গতকাল রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তা শনাক্ত করা যায়নি।

এলাকার লোকজন ও সরকারি কর্মকর্তারা আগুন লাগানোর সংবাদ পেয়ে টেকনাফের সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় চাকমা তাঁর লোকজন ও স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসকর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তিনি গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে জানান, ‘সবুজের বুক চিড়ে আগুনের লেলিহান শিখা ক্ষত-বিক্ষত করে দিয়েছে প্রকৃতিকে। এমন ভয়াল নির্মমতার কথা, বর্বরতার কথা কাউকে বলা যায় না।’

তিনি আরো বলেন, এই আগুনে পাহাড়ের অনেক পশু-পাখি, কীট-পতঙ্গের আবাসসহ ওদের খাদ্য ধ্বংস হয়ে গেল। এ ঘটনাটি স্যাবোটাজ।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আলী কবিরও মনে করেন, স্যাবোটাজ না হলে অহেতুক বনে আগুন দেওয়া হবে কেন? এলাকার লোকজন মনে করেন, টেকনাফের পাহাড়টিতে কয়েক বছর ধরে আস্তানা গেড়েছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের দুর্ধর্ষ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী আবদুল হাকিম বাহিনী। অভিযোগ রয়েছে, টেকনাফ সীমান্তে ইয়াবা কারবারে জড়িত একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সহযোগিতায় হাকিম বাহিনী পাহাড়ে আস্তানা গেড়েছে।

হাকিম বাহিনীর একচ্ছত্র চলাচল পাহাড়টিতে। তার পাঁচ ভাইসহ অর্ধশতাধিক অস্ত্রধারী নিয়ে তার রাজত্ব। ইয়াবা কারবার, সীমান্তে ডাকাতি, অপহরণ, হত্যাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে এই বাহিনী।

টেকনাফ থানার ওসি রণজিত কুমার বড়ুয়া জানান, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী আবদুল হাকিমসহ তার বাহিনীর সদস্যদের ধরতে পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি কয়েকবার অভিযান চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছে।

বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গতকাল সকালে পৌরসভার সবুজ পাহাড়ে হঠাৎ করে প্রায় আড়াই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আগুন জ্বলে ওঠে। এরপর আগুন দ্রুত লোকালয়ের দিকেও ছড়িয়ে পড়ে। ১৫০ একরের বেশি বনাঞ্চলে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। এতে হাজার হাজার গাছপালা, সবজি ক্ষেত পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

ফায়ার সার্ভিস টেকনাফ স্টেশন কর্মকর্তা কিরিতি বড়ুয়া বলেন, পাহাড়ে আগুন লাগানোর খবর পাওয়া মাত্র ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালানো হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল হাসান বলেন, পাহাড়ের সামাজিক বনায়ন ও পাশের কৃষিজমিসহ প্রায় ১৫০ একর এলাকাজুড়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।



মন্তব্য