kalerkantho


ভোট হতে পারে জুলাই মাসে

পাঁচ সিটির নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগকে ইসির চিঠি

বিশেষ প্রতিনিধি   

৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



পাঁচ সিটির নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগকে ইসির চিঠি

দেশের পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠির অপেক্ষায় নির্বাচন কমিশন। এ বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগকে ওই সিটি করপোরেশনগুলোর সীমানা ওয়ার্ড বিভিক্তিকরণ, নির্বাচন, আদালতের আদেশ প্রতিপালন এবং প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে তথ্য ও মতামত পাঠাতে বলা হয়েছে। সিটি করপোরেশনগুলো হচ্ছে গাজীপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট।

এই সিটি করপোরেশনগুলোর মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাসে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ হবে ৪ সেপ্টেম্বর, খুলনার ২৫ সেপ্টেম্বর, রাজশাহীর ৫ অক্টোবর, সিলেটের ৮ অক্টোবর ও বরিশালের ২৪ অক্টোবর। এ অবস্থায় রাজশাহী সিটিতে ৯ এপ্রিল থেকে ৫ অক্টোবর, খুলনায় ৩০ মার্চ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর, বরিশাল সিটি করপোরেশনে ২৭ এপ্রিল থেকে ২৩ অক্টোবর, সিলেটে ১৩ মার্চ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর এবং গাজীপুরে ৮ মার্চ থেকে ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সচিব হেলাল উদ্দীন আহমেদ এ বিষয়ে গত রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশন সম্পর্কে স্থানীয় সরকার বিভাগের তথ্য পেয়েছি। আমাদের জানানো হয়েছে, এই সিটি করপোরেশনের সীমানা নিয়ে যে জটিলতা ছিল তার অবসান হয়েছে। তবে অন্য সিটি করপোরেশনগুলো সম্পর্কে এখনো কিছু জানানো হয়নি।’

সচিব বলেন, জুলাইয়ের মধ্যে এসব সিটির নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠি পেলে কমিশনের সভায় নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। একসঙ্গে এই পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে, না  আলাদাভাবে হবে তাও নির্ধারণ করা হবে।

নির্বাচনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সংসদ নির্বাচনের আগে এই পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপিসহ অন্য দলগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ও সবার আস্থা অর্জনে বড় ধরনের পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে ইসিকে। নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা রংপুরের পর এই পাঁচ সিটিতে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে। নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলেও কুমিল্লায় জয়ী হয়েছে বিএনপি। আর রংপুরে জয়ী হয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী। সেই হিসাবে আসন্ন পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচন আওয়ামী লীগ-বিএনপির জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা হবে নতুন ইসির জন্য বড় ধরনের অগ্নিপরীক্ষা।

২০১৮ সালের ২৯ নভেম্বর থেকে একাদশ সংসদ নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হবে। ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে সংসদ নির্বাচন আয়োজনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করার চিন্তাভাবনা করছে। এ লক্ষ্যে ২০১৮ সালের জুলাইয়ের মধ্যেই ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা রাজনৈতিক দলগুলোর দপ্তরে পাঠাতে চায়। এ তালিকার ওপর দাবি-আপত্তি গ্রহণ ও তা নিষ্পত্তি করতে চায় ২০১৮ সালের আগস্টের মধ্যে। ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে ভোটগ্রহণের ২৫ দিন আগে। নির্বাচন কমিশনের কর্মপরিকল্পনায় এসব জানানো হয়েছে। সংসদ নির্বাচনের এসব প্রস্তুতিমূলক কাজের জন্য বেশ কিছুটা সময় হাতে রাখতে ২০১৮ সালের জুলাইয়ের মধ্যেই সিটি করপোরেশনগুলোর নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায় ইসি।


মন্তব্য