kalerkantho


জয় বাংলা কনসার্ট

দেশপ্রেমে উজ্জীবিত কণ্ঠ

নওশাদ জামিল   

৮ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



দেশপ্রেমে উজ্জীবিত কণ্ঠ

আর্মি স্টেডিয়ামে গতকাল আয়োজন করা হয় জয় বাংলা কনসার্ট। ছবি : কালের কণ্ঠ

দল বেঁধে এগিয়ে যাচ্ছিল তরুণ-তরুণীরা। রাজধানী ও আশপাশের নানা জায়গা থেকে এসেছে তারা। আর্মি স্টেডিয়ামের কাছাকাছি আসতেই দেখা গেল, প্রতিটি প্রবেশপথেই দীর্ঘ সারি। সুশৃঙ্খলভাবে প্রবেশ করছিল দর্শনার্থীরা। ভেতরে প্রবেশ করতেই শোনা গেল দেশমাতৃকার প্রতি ভালোবাসার নানা পঙিক্ত। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে যে স্লোগান সারা বাংলার মানুষকে গেঁথেছে এক সূত্রে, গতকাল বুধবার বারবার উচ্চারিত হয়েছে তা—‘জয় বাংলা’। স্লোগানমুখর এ পরিবেশেই বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত আর্মি স্টেডিয়ামে গীত হলো মুক্তিযুদ্ধের সাড়া জাগানো গানসহ জনপ্রিয় আরো অনেক গান। গাইলেন জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকারা। তাঁদের সঙ্গে প্রায় গলা মেলাল ৪০ হাজার তরুণ-তরুণী। কণ্ঠে তুলে ধরল দেশের প্রতি ভালোবাসার ঐকতান।

তারুণ্যের অংশগ্রহণে গতকাল আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘জয় বাংলা কনসার্ট’ ছিল জমজমাট ও প্রাণবন্ত। দেশপ্রেমে উদ্দীপ্ত তারুণ্য নেচে-গেয়ে উদ্‌যাপন করল ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ, স্মরণ করল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশসেরা ব্যান্ডদল নিয়ে আর্মি স্টেডিয়ামে জয় বাংলা কনসার্টের আয়োজন করে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) এবং ইয়ং বাংলা প্ল্যাটফর্ম। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ডাক দেওয়ার দিনটি স্মরণে রাখতে চতুর্থবারের মতো আয়োজিত হয় এই কনসার্ট। এতে নিবন্ধনের মধ্য দিয়ে অংশ নেয় প্রায় ৪০ হাজার দর্শক-শ্রোতা, যাদের বেশির ভাগই ছিল বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ-তরুণী।

কনসার্ট উপলক্ষে গোটা স্টেডিয়াম সাজানো হয় শৈল্পিকভাবে। মাঠে নিজেদের প্রকাশনার প্রদর্শনী ও বিক্রির ব্যবস্থা করে সিআরআই ও ইয়ং বাংলা। স্টেডিয়ামের বাইরে রাস্তায় বড় বড় বিলবোর্ডে ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময়ের সংবাদপত্রের প্রদর্শনী। ভেতরে হোর্ডিংয়েও ছিল নানা ঐতিহাসিক ঘটনা ও সংবাদপত্রের প্রদর্শনী।

কনসার্টে এবারের আয়োজনে পর্যায়ক্রমে দেশাত্মবোধক ও নিজেদের ব্যান্ডের গান নিয়ে উপস্থিত হয় পাওয়ারসার্জ, আরবোভাইরাস, শূন্য, নেমেসিস, ক্রিপটিক ফেইট, লালন, চিরকুট ও আর্টসেল। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সম্প্রচারিত মুক্তির প্রেরণা জাগানিয়া বেশ কিছু গানও পরিবেশন করা হয়।

কনসার্টে জনপ্রিয় গানের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু এবং ৭ই মার্চের ভাষণ নিয়ে বেশ কিছু ভিডিও চিত্র উপস্থাপন করা হয়। সেই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ওই ভাষণকে ‘বিশ্ব ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর ইউনেসকো প্রধানের বক্তব্যের একটি ক্লিপও প্রদর্শন করা হয়।

কনসার্টের শুরুতেই দর্শক-শ্রোতা ও শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে গেয়ে শোনান ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’ গানটি। পরিবেশনা শেষে মঞ্চে প্রথম দল হিসেবে আসে থ্র্যাশ মেটাল ব্যান্ডদল ‘পাওয়ারসার্জ’। ‘মাগো ভাবনা কেন’ গানটি দিয়ে তারা শুরু করে পরিবেশনা। এরপর একে একে তারা পরিবেশন করে ‘অপ্রস্তুত যুদ্ধ’ ও নগর বাউল জেমসের কয়েকটি জনপ্রিয় গান। এরপর মঞ্চে আসে অল্টারনেটিভ রক ব্যান্ডদল আরবোভাইরাস। তারা পরিবেশন করে ‘আমরা করব জয়’। তাদের পরিবেশনার গানগুলোর মধ্যে আরো ছিল ‘জ্বালো আগুন জ্বালো’, ‘শহর’, ‘ইশকুল’। এবার মঞ্চে ওঠে এ প্রজন্মের আরেক জনপ্রিয় ব্যান্ডদল শূন্য। তারা ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’, ‘শত আশা’, লোকগান ‘সোনা দিয়া বান্ধাইয়াছি ঘর’সহ তাদের নতুন সিঙ্গেল ‘ঝরিয়ে দাও’ পরিবেশন করে।

এবার অল্টারনেটিভ রক গানের তুমুল জনপ্রিয় ব্যান্ডদল নেমেসিস মঞ্চে আসে। তাদের পরিবেশনার অন্যতম গান ছিল ‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি বাংলাদেশের নাম’। একটা সময় দেখা গেল তাদের জয়ধ্বনি গানটির লাইনগুলো সবাই গাইছে—‘সংগ্রাম আমি দেখিনি তবু রক্ত কেন রাতে’। নিজেদের অসম্ভব জনপ্রিয় গান ‘কবে’ গাইতেও ভুল করেনি দলটি।

এরপর মঞ্চে আসে ক্রিপটিক ফেইট। গায়ক শাকিব কণ্ঠ ছাড়েন ‘জাগো, জেগে ওঠো বীর বাঙালি’। তারা এর পরপরই পরিবেশন করে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান ‘তীরহারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেব রে’। তাদের পরের পরিবেশনা ছিল অসম্ভব জনপ্রিয় হওয়া দুটি গান ‘ভবঘুরে’ ও ‘প্রতিবাদ’।

কনসার্টে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র এবং গবেষণা সংস্থা সিআরআইর ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

সিআরআইর নির্বাহী পরিচালক সাব্বির বিন শামস বলেন, ‘শুধু গান নয়, এই কনসার্টের মাধ্যমে আমরা তরুণদের মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসের বার্তা পৌঁছে দিতে চাই। সেই স্বাধীনতার অবিনাশী নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ সম্পর্কে তরুণদের অবগত করতে চাই। বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় এবারে কনসার্টের গুরুত্ব আরো বেড়েছে।’



মন্তব্য