kalerkantho


সেতাফুলের ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ

৯২ লাখ টাকা নিরীক্ষকের ঘর থেকে উদ্ধার

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

৮ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



৯২ লাখ টাকা নিরীক্ষকের ঘর থেকে উদ্ধার

ফাইল ছবি

কিশোরগঞ্জের সাবেক ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সেতাফুল ইসলামের আত্মসাৎ করা পাঁচ কোটি টাকার মধ্যে ৯২ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে দুদকের একটি দল শহরতলির কাতিয়ার চর এলাকায় জেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের নিরীক্ষক সৈয়দুজ্জামানের বাসা থেকে টাকাগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সেতাফুলের সঙ্গে নিরীক্ষক সৈয়দুজ্জামানের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। আত্মসাৎ করা কিছু টাকা সেতাফুল ইসলামের বাসায় রয়েছে বলে দুদকের কাছে তথ্য ছিল। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে তাঁর বাসায় অভিযান চালানো হলেও সেখানে কোনো টাকা পাওয়া যায়নি। পরে মোটামুটি সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই সৈয়দুজ্জামানের বাসায় অভিযান চালানো হয়। ধারণা করা হচ্ছে টাকাগুলো সরানোর সময় পাননি ওই নিরীক্ষক।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ জানান, দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নাসিম আনোয়ারের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তিনি ছাড়াও দুদক ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মনিরুল ইসলাম ও ফজলুল বারী অংশ নেন। এ সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু তাহের সাঈদ উপস্থিত ছিলেন।

তিনি জানান, কাতিয়ার চর এলাকায় সৈয়দুজ্জামানের বাসার কার্নিশের ওপর বস্তা বোঝাই অবস্থায় টাকাগুলো পাওয়া গেছে। সেখানে তাঁর দুই ছেলে ও পরিবার-পরিজন ছিল। অভিযানের সময় তাঁদেরও এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু পরিবারের লোকজন এ ব্যাপারে কিছুই জানে না বলে জানিয়েছে।

সরকারি তহবিলের পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় দুদকের একটি দল সেতাফুলকে গত ১৭ জানুয়ারি পিরোজপুর থেকে আটক করে। ওই দিনই দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ময়মনসিংহ অঞ্চলের সহকারী পরিচালক রামপ্রসাদ মণ্ডল বাদী হয়ে সেতাফুলকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন। গত ২ ফেব্রুয়ারি সেতাফুল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সেতাফুল তাঁর জবানবন্দিতে জেলা প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে এক কোটি এবং আরো দুই কর্মকর্তাকে ২০ লাখ ও ১৫ লাখ টাকা দিয়েছেন বলে দাবি করেন। তা ছাড়া এক ব্যাংক কর্মকর্তার কাছে দুই কোটি ৯৪ লাখ টাকা জমা রেখেছিলেন। সেখান থেকে ওই ব্যাংক কর্মকর্তা ৫৪ লাখ টাকা মেরে দেন। তা ছাড়া সৈয়দুজ্জামানকে পাঁচ লাখ ও দুলাল মিয়াকে এক লাখ টাকা করে দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

এরপর ৬ ফেব্রুয়ারি হিসাবরক্ষণ কার্যালয় থেকে নিরীক্ষক সৈয়দুজ্জামান ও অফিস সহায়ক দুলাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে দুদক। তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁরাও আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের সংশ্লিষ্টার অভিযোগ ওঠায় গত ২০ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসক আজিমুদ্দিন বিশ্বাসকে ওএসডি করে প্রত্যাহারের প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সাবেক জেলা প্রশাসক আজিমুদ্দিন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে দুদকের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক নাসিম আনোয়ার জানান, সবদিক বিবেচনা করে তাঁরা কাজ করছেন। তেমন পদক্ষেপ গ্রহণের মতো তথ্য-প্রমাণ এখনো তাদের হাতে আসেনি।

প্রসঙ্গত, বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য কিশোরগঞ্জে কয়েক শ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। এসব ভূমির মালিককে ক্ষতিপূরণের টাকা দেওয়ার সময় জালিয়াতির আশ্রয় নেন কিশোরগঞ্জের সাবেক ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সেতাফুল ইসলাম। জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য বরাদ্দকৃত তহবিল থেকে তিনি চেকের মাধ্যমে পাঁচ কোটি টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন।


মন্তব্য