kalerkantho


আরেক মামলায় সেই রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



আরেক মামলায় সেই রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ

আলোচিত সিরিয়াল কিলার রসু খাঁসহ তিনজনকে আরেকটি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন চাঁদপুরের একটি আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক আবদুল মান্নান এ রায় দেন।

সাজাপ্রাপ্ত অন্য দুজন হলেন জহিরুল ইসলাম ও মো. ইউনুছ। এঁদের মধ্যে ইউনুছ পলাতক রয়েছেন। তাঁদের বাড়ি জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলায়।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের ২০ জুলাই জেলার ফরিদগঞ্জের হাঁসা গ্রামের নির্জন স্থানে নিয়ে পোশাককর্মী পারভীন আক্তারকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করেন রসু খাঁ ও তাঁর দুই সহযোগী। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ২০১০ সালে ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় আদালত গতকাল এ রায় দেন। পারভীন আক্তার ফরিদগঞ্জের বালিথুবা ইউনিয়নের পালতালুক গ্রামের আবুল কালামের স্ত্রী।

চাঁদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিশেষ পিপি হাবিবুল ইসলাম তালুকদার বলেন, এ নিয়ে দুটি মামলায় রসু খাঁর বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন আদালত। দুটি রায়েই তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ১১টি হত্যার দায়ে অভিযুক্ত এ খুনি বর্তমানে জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আরো ৯টি মামলার বিচারকাজ চলছে।

রসু খাঁর গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর সদরের মদনা গ্রামে। ছিঁচকে চোর থেকে একসময় তিনি সিরিয়াল কিলারে পরিণত হন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নারী পোশাককর্মীদের নানা প্রলোভনে ফেলে চাঁদপুরে এনে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করতেন তিনি। ২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর গ্রেপ্তার হওয়ার পর রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের চিত্র বেরিয়ে আসতে থাকে। নিজের মুখেই ১১ নারী হত্যার কথা স্বীকার করেন। রসু খাঁর দাবি অনুযায়ী, ১০১টি হত্যাকাণ্ড ঘটানোর টার্গেট ছিল তাঁর। তিনি যাঁদের হত্যা করেছেন, তাঁদের সবাই ছিলেন পোশাককর্মী। সাজাপ্রাপ্ত জহিরুল ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের ছৈয়াল বাড়ির মো. মোস্তফার ছেলে এবং ইউনুস একই গ্রামের মিসির আলীর ছেলে।

গতকাল রায় ঘোষণার পর পুলিশি পাহারায় প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় রসু খাঁ উপস্থিত সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণের চেষ্টা করেন। সরকারকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করতে করতে প্রিজন ভ্যানে ওঠেন তিনি। পরে তাঁকে চাঁদপুর জেলা কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।


মন্তব্য