kalerkantho


জাফর ইকবাল আক্রান্ত

ফেসবুকে ফয়জুরের জঙ্গি তৎপরতা সাইকেল জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও সিলেট অফিস    

৭ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ফেসবুকে ফয়জুরের জঙ্গি তৎপরতা সাইকেল জব্দ

লেখক, অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারী যুবক ফয়জুর চিকিৎসাধীন থাকায় গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর রিমান্ডে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লাভের আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে ফয়জুরের ব্যবহৃত চার-পাঁচটি ফেসবুক আইডির সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এগুলোয় জঙ্গি তৎপরতার আলামত রয়েছে। পুলিশ ফয়জুরের ব্যবহৃত সাইকেলটিও গতকাল মঙ্গলবার উদ্ধার করেছে।

গতকাল বিকেল ৩টার দিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ফটকের সামনের একটি মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় সাইকেলটি পাওয়া যায় বলে জানান সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) আবদুল ওয়াহাব। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরায় ফয়জুরকে সাইকেলে করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে দেখা গেছে। এ ছাড়া আটকের পর তার পকেট থেকে সাইকেলের চাবিও উদ্ধার করা হয়েছিল; কিন্তু ঘটনার পর থেকে সাইকেলটি পাওয়া যাচ্ছিল না। গতকাল সেটি উদ্ধার করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দেখেছে, ওই দিন ফয়জুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে সকাল ৯টার দিকে সাইকেলে করে ঢোকে। এরপর সাত মিনিট পর্যন্ত তাকে দেখা গেছে। সাত মিনিটের মাথায় তার অবস্থান ছিল প্রধান ফটক থেকে দেড় কিলোমিটার ভেতরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চেতনা একাত্তর ভাস্কর্যের কাছে। বিকেল ৩টার পর ফয়জুরকে মুক্তমঞ্চে মুহম্মদ জাফর ইকবালের পেছনে দেখা গেছে। মাঝের সময়টায় সে কোথায় ছিল, সেটা জানা যায়নি। তবে এসব ব্যাপারে পুলিশ কোনো তথ্য এখনো ফয়জুরের কাছ থেকে পায়নি।

পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার আবদুল ওয়াহাব আরো জানান, চিকিৎসাধীন থাকায় ফয়জুরকে ভালোভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাচ্ছে না। চিকিৎসা শেষ হলে তাকে আদালতে হাজির করে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে। রিমান্ডে পাওয়া গেলে জিজ্ঞাসাবাদ করে হামলা সম্পর্কে তার কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যেতে পারে। হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, চিকিৎসার জন্য ফয়জুরকে আরো দুই-তিন দিন হাসপাতালে থাকতে হতে পারে। সে সুস্থ হলেই ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়া হবে।

এদিকে পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, ফয়জুর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে একাই হামলা করার যে দাবি করেছে, তা তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হচ্ছে না। কারণ এ ধরনের হামলায় একটি ব্যাকআপ টিম থাকে। তা ছাড়া একা এ ধরনের পরিকল্পিত হামলা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এ জন্য ফয়জুরের সঙ্গে আর কেউ ছিল কি না, আর থাকলে তারা কারা তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের এক কর্মকর্তা বলেন, এখন পর্যন্ত কোন সংগঠনের সদস্য তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডের কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এগুলো ধরেই কাজ চলছে। সূত্র মতে, ফয়জুল হাসান ওরফে ফয়জুল ওরফে শফিকুরের অনলাইন যোগাযোগের সূত্রে তার জঙ্গি সম্পৃক্ততার অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে তার চার-পাঁচটি ফেসবুক আইডি পাওয়া গেছে। এর কোনোটিতে আনসার আল ইসলাম, কোনোটিতে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রচারণার লিংক আছে। এসব আইডি ব্যবহার করে ফয়জুর কাদের সঙ্গে যোগাযোগ করত তা খতিয়ে দেখছে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। জিজ্ঞাসাবাদে ফয়জুর জঙ্গিদের ব্যবহৃত অ্যাপ ‘টেলিগ্রাম’ ব্যবহারের তথ্য দিয়েছে। তবে তার মোবাইল ফোনে ওই অ্যাপের যোগাযোগ পাননি তদন্তকারীরা।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ফয়জুরকে তথ্য দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে সে অনেক দিন ধরে পরিকল্পনা করে ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলার কথা স্বীকার করলেও তার সহযোগীদের ব্যাপারে মুখ খুলছে না। ফয়জুরের দাবি, সে একাই এই পরিকল্পনা করেছে। তার ফেসবুকের লিংক ও বিভিন্ন সূত্র থেকে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো নিয়ে কাজ চলছে।’ সূত্র জানায়, ফয়জুরের মধ্যে হামলা চালানো নিয়ে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া নেই। সে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে কখনো চুপ করে থাকছে, কখনো সামান্য তথ্য দিচ্ছে। এরই মধ্যে তার চারটি ফেসবুক আইডি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সিটিটিসি।

একটি সূত্র জানায়, ফয়জুরের কাছে আইএসের প্রচারণা থাকলেও আচরণ দেখে তাকে আনসার আল ইসলাম মতবাদের বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে যদি ‘সেলফ র‌্যাডিকালাইজ’ বা স্বপ্রণোদিত উগ্রপন্থী হয় তাহলে তাকে পর্যবেক্ষণে রেখে হামলায় উসকানি দেওয়া হয়েছে। সেই উসকানিদাতের মধ্যেও সংগঠিত জঙ্গি থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন।



মন্তব্য