kalerkantho


বড় সিন্ডিকেটের সন্ধান

কক্সবাজারের হোটেল মালিক ইয়াবাসহ ঢাকায় গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



কক্সবাজারের হোটেল মালিক ইয়াবাসহ ঢাকায় গ্রেপ্তার

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে রয়েছে তাঁর হোটেল। এর বাইরে আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ফলে নিয়মিত ঢাকা-কক্সবাজার যাতায়াত করতেন। কক্সবাজারে সবাই তাঁকে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে জানে। এই পরিচিতির আড়ালে তিনি ঢাকা-কক্সবাজারে গড়ে তুলেছেন ইয়াবার নেটওয়ার্ক। মাহমুদুল হক (৫১) নামের ওই ব্যবসায়ীকে গত রবিবার রাতে রাজধানীর সেগুনবাগিচার নিউ ইয়র্ক হোটেলের একটি কক্ষ থেকে ৯ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তারা। একই অভিযানে তাঁর দুই সহযোগী আসাদুজ্জামান বাবুল (৪১) ও এনামুল্লাহকে (৩১) ১৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। বাবুল নিজেকে দৈনিক নওরোজ ও আমার কাগজ পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আড়ালে এই মাদক বাণিজ্য করছিলেন। কক্সবাজার থেকে ইয়াবার চালান পাঠানোর পর বাবুলের সহযোগিতায় ঢাকায় সেগুলো বিক্রি করতেন মাহমুদ।

এদিকে রবিবার রাতে আলাদা অভিযানে উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়কের হানিফ মেম্বারের বাড়ি থেকে আশরাফুল আলম ওরফে প্রিন্স (৩৬) নামের এক আইনজীবী এবং ইকবাল (৪৫), আবু হানিফ মেম্বার (৪৪) নামে আরো দুই ব্যক্তিকে এক হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি গাড়িও জব্দ করা হয়। আলাদা অভিযানে রাজধানীর কমলাপুরের সিটি প্যালেস হোটেলের ৩৭ নম্বর কক্ষ থেকে ৬০০ পিস ইয়াবাসহ মুজিব (২২) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএনসির ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলের উপপরিচালক মুকুল জ্যোতি চাকমা বলেন, রবিবার রাতে অভিযানে রাজধানীর শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, সেগুনবাগিচা, কোনাপাড়া, কমলাপুর ও উত্তরা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে মেরিন প্লাজার হোটেলের মালিক, অ্যাডভোকেট, ইউপি মেম্বার, কথিত সাংবাদিকসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ২৮ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা ও একটি প্রাইভেট কার জব্দ করা হয়। কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ইয়াবা এনে তারা হোটেলসহ বিভিন্ন স্থানে রেখে বিক্রি করছিল।

সেগুনবাগিচায় অভিযান পরিচালনাকারী ডিএনসির পরিদর্শক সুমনুর রহমান জানান, কাজী নজরুল ইসলাম সরণির নিঝুম মোটরসের সামনে থেকে এনামুল্লাহকে ইয়াবার চালানসহ গ্রেপ্তারের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিউ ইয়র্ক হোটেলে অভিযান চালানো হয়। ওই হোটেলের ১১১ নম্বর কক্ষে কক্সবাজারের মেরিন প্লাজা হোটেলের মালিক মাহমুদুল হক, কথিত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান বাবুলকে ৯ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের পরিচয় জেনে প্রথমে ডিএনসির কর্মকর্তারা বিব্রত হন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে বড় একটি ইয়াবা বাণিজ্যের সিন্ডিকেটের তথ্য বেরিয়ে আসে।

পরিদর্শক সুমনুর রহমান আরো জানান, মেরিন ড্রাইভে হোটেল রয়েছে মাহমুদুল হকের। এ ছাড়া সবাই জানে তিনি আমদানি-রপ্তানির ব্যবসা করেন। কিন্তু এসবের আড়ালে ঢাকায় এসে তিনি হোটেলে থেকে ইয়াবা ব্যবসা করছিলেন। অন্যদিকে আসাদুজ্জামান বাবুল হলেন ইয়াবার ভাণ্ডাররক্ষক। বাসে ও ট্রাকে ইয়াবা পৌঁছার পর তিনি গ্রহণ করেন। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তিনি ইয়াবার হাতবদলে সহায়তা করছিলেন।


মন্তব্য