kalerkantho


ময়মনসিংহে শেষ হলো ভারোত্তোলন প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ   

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ময়মনসিংহে শেষ হলো ভারোত্তোলন প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী

ময়মনসিংহে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে গতকাল শেষ হলো জাতীয় যুব ভারোত্তোলন প্রশিক্ষণ। ছবি : কালের কণ্ঠ

১৪ বছর বয়সের বৃষ্টি, গিনি রানী, হামিছা পারভীন, সুমাইয়া, বকুল, নূরে আলম যখন ৪০ কেজি থেকে ৭০ কেজির ভার উত্তোলন করছিল তখন দর্শকরা বিস্মিত। চলছিল মুহুর্মুহু করতালি। শুধু তা-ই নয়, দর্শকরা বিমোহিত ময়মনসিংহের কৃতী ভারোত্তোলক জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়াবিদ বিদ্যুৎ কুমার রায়, ৭৬ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়াবিদ মুজিবর রহমানকে প্রদর্শনীতে অংশ নিতে দেখে।

গতকাল সোমবার ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরে জাঁকজমক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো জাতীয় যুব ভারোত্তোলন প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতা-২০১৮। শহরের ব্রহ্মপুত্র নদের পারে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্কের খোলা মঞ্চে এ প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়। প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

বাংলাদেশ যুব গেমস-২০১৮ থেকে বাছাইকৃত মেধাবী শতাধিক তরুণ-তরুণীকে নিয়ে বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশন এ প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। পুরস্কার বিতরণীর পর মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে বিতরণ করা কুপন নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় আকর্ষণীয় র‌্যাফল ড্র।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ধর্মমন্ত্রী আলহাজ অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সভাপতি ও বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন, বিজিবিএম, এনডিসি, পিএসসি, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার জি এম সালেহ উদ্দিন, ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি, ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, বিজিবি ময়মনসিংহ সেক্টর কমান্ডার কর্নেল কাজী অনিরুদ্ধ, ময়মনসিংহ রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি ড. আক্কাস উদ্দিন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বিপিএম, পিপিএম, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব মাসুদ করিম। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বিজিবির ক্রীড়া সচিব লে. কর্নেল মো. নজরুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী আলহাজ অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, ‘ভারোত্তোলন খেলাকে দেশব্যাপী জনপ্রিয় ও প্রসারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশন ময়মনসিংহে মাসব্যাপী যে প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমি আশা করব এখানে যেসব তরুণ-তরুণী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে তারা ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মান বয়ে আনবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সভাপতি ও বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন বলেন, ‘খেলাধুলার এমন উদ্যোগ তরুণ-তরুণীদের মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ থেকে দুরে রাখবে।

বিভাগীয় কমিশনার জি এম সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘জনপ্রিয় কিন্তু হারিয়ে যাওয়া খেলাকে ফিরিয়ে আনতে এমন উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। এমন আয়োজন এ অঞ্চলে ভারোত্তোলনকে জনপ্রিয় করবে।’

স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ ভারোত্তোলন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ক্রীড়া সচিব লে. কর্নেল মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সুস্থ দেহ ও সুন্দর মনের জন্য খেলাধুলার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, এমন আয়োজন তরুণদের উজ্জীবিত করবে। তাদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগাবে।

অনুষ্ঠানে সবার উদ্দেশে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন দেশের স্বনামধন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার বিজয়ী ভারোত্তোলক মোল্লা সাবিরা সুলতানা, শাহরিয়ার সুলতানা সুচি, ফিরোজা পারভীন, মাবিয়া আক্তার সীমান্ত, ময়না, সাথী, রেশমা, নিশি, ফুলপতি চাকমা, সানজিদা আক্তার আলো, ফিরোজ মাহমুদ ও প্রদীপ চন্দ্র দাস।

মাসব্যাপী এ প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিচালনা করেন ফারুক আহমেদ সরকার, শাহরিয়ার সুলতানা সুচি, ফিরোজা পারভীন, আবু সাইদ, ফিরোজ মাহমুদ ও খাইরুজ্জামান সিপার।

গতকাল সোমবার বিকেলে প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয় শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন পার্কে। বিপুলসংখ্যক দর্শক এ প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। বিকেল সাড়ে ৩টার আগেই দর্শকদের উপস্থিতিতে প্রতিযোগিতার স্থল ভরে যায়। দর্শকদের মধ্যে নারী-পুরুষ এর পাশাপাশি শিশু-কিশোর ও কলেজ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।

আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী রোকেয়া আক্তার বলেন, ‘এ খেলাটি আমি কখনো সামনাসামনি দেখিনি। আজ দেখলাম। খুব ভালো লেগেছে।’ ইকবাল হোসেন নামের একজন অভিভাবক বলেন, ‘পার্কে এসেছিলাম হাঁটাহাঁটি করতে। খেলার আয়োজন দেখে এখানে বসে পড়ি। এমন উদ্যোগ সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া দরকার।’

উল্লেখ্য, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় যুব ভারোত্তোলন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও প্রতিযোগিতা শুরু হয় ময়মনসিংহ শহরের ব্রহ্মপূত্র নদের পারের এ পার্কে। দেশে ভারোত্তোলনকে জনপ্রিয় করতে, যুবদের আকৃষ্ট করতে এ প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে দেশের নানা প্রান্তের প্রায় ১০০ তরুণ-তরুণী অংশ নেয়। প্রশিক্ষণার্থী ও প্রতিযোগীরা প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মোট ছয় ঘণ্টা করে এ প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন।


মন্তব্য