kalerkantho


রওনক হত্যাকাণ্ড

দুই সাক্ষীর জবানবন্দিতে হত্যার রহস্য উন্মোচন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



দুই সাক্ষীর জবানবন্দিতে হত্যার রহস্য উন্মোচন

পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজারে আবির উৎসবে রওনক হোসেন (রনো) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। গতকাল সোমবার রওনকের দুই বন্ধু সাক্ষী হিসেবে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। ওই জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের নাম প্রকাশ পেয়েছে। তাদের জবানবন্দিতে উঠে আসে, প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে রওনক খুন হয়েছে।

শাহাদত হোসেন খান ও তুহু আফসানা ওরফে পলি আক্তার নামের দুই কিশোর-কিশোরী ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি দেয়। কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম মুনশী দুই সাক্ষীকে আদালতে হাজির করে তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার আবেদন করেন। পরে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. খুরশীদ আলম ও সাদবীর ইয়াসির আরাফাত চৌধুরীর কাছে দুজনকে পৃথকভাবে জাবনবন্দি গ্রহণের নির্দেশ দেন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শেখ হাফিজুর রহমান।

জবানবন্দিতে দুজনই রওনক হত্যার সঙ্গে কারা কারা জড়িত তাদের নাম বলেছে। আর প্রেমঘটিত কারণে রওনককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দুজনের জবানবন্দিতে স্পষ্ট হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডে ২০ থেকে ৩০ জন জড়িত। তবে রওনক হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে চার-পাঁচজন।

জবানবন্দিতে আরো বলা হয়, পুরান ঢাকায় দোল পূর্ণিমার আবির উৎসবে অনেক লোক রং খেলায় অংশ নেয়। আর ওই উৎসবেই রওনককে হত্যার পরিকল্পনা করে তার বন্ধুরা। পরিকল্পনা অনুযায়ী রওনককে ডেকে শাঁখারীবাজারে নেওয়া হয়। একসময় রওনককে নিয়ে তারা হোলি খেলায় অংশ নেয়। পরে তারা আদালত চত্বরের দিকে এগোতে থাকে। রেবতী ম্যানশনের কোনায় পৌঁছার পর রওনকের গায়ে রং দেওয়া হয়।

সবাই রং উৎসবে মেতে উঠে একপর্যায়ে রওনককে ঘিরে ধরে। এরই মধ্যে একজন ছুরি দিয়ে রওনকের গায়ে আঘাত করে। আর কয়েকজন তাকে মারধর করে। এ অবস্থায় রওনক পাশের এক আইনজীবীর চেম্বারে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকে তার অন্য বন্ধুরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।

মামলা তদন্তাধীন থাকায় এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের সুবিধার জন্য যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম মুনশী কালের কণ্ঠকে জানান, দ্রুততম সময়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে। হত্যাকারীদের কজন নজরদারিতে রয়েছে বলেও জানান তিনি। 

রওনক আজিমপুর নিউ পল্টন লাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবার নাম শহীদ মিয়া। বাড়ি কামরাঙ্গীরচরে। গত ১ মার্চ শাঁখারীবাজারে দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে আবির উৎসবে দুপুর সোয়া ১২টায় প্রকাশ্যে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

এ ঘটনায় রওনকের বাবা শহীদ মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।



মন্তব্য