kalerkantho


সচিব সভা অনুষ্ঠিত

শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করার নির্দেশ

আশরাফুল হক   

৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করার নির্দেশ

সচিব সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং অধীনস্থ দপ্তর-অধিদপ্তরের তিনি লাখ ৬০ হাজার শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদসচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সচিব সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্পে গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কয়েকজন সচিব কালের কণ্ঠকে এসব তথ্য জানান।

একজন সচিব জানিয়েছেন, সচিব সভার পরবর্তী বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। এ কারণে তিনি যেসব বিষয়ে খোঁজখবর নেন, সেসব বিষয়ের অগ্রগতি নিয়ে গতকাল সচিব সভা হয়েছে। এই সচিব গতকালের সভাকে পরবর্তী সভার ‘রিহার্সেল’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, গত বছরের ২ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত সচিব সভায় প্রশাসনের শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই সভায় সরকারের লাখ লাখ পদ শূন্য থাকায় প্রধানমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এ কারণে এবার এত সতর্ককতা।

একজন সিনিয়র সচিব কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠি পাওয়ার পরই আমার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠিয়ে শূন্যপদে নিয়োগের অগ্রগতি জানতে চেয়েছি। সব প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকে গিয়েছি। শূন্যপদ থাকার কারণ শুধু প্রশাসনিক অদক্ষতা নয়। রাজনৈতিক কারণে, মামলা ও তদবিরেও পদ শূন্য থাকে। বিপুলসংখ্যক পদ খালি থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের গতি হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জনগণ। পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত শূন্যপদ পূরণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা পরিহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।’ গতকালের সভা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের ব্রিফ করা হয়নি। বৈঠক শেষে অন্য এক সচিব জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন অগ্রাধিকার প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অন্যান্য ইস্যুর মধ্যে পাহাড়ধস, বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি, রোহিঙ্গাদের আবাসন সমস্যা নিয়েও কথা হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও গবেষণা সেলের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জনপ্রশাসনে মোট অনুমোদিত পদ ১৭ লাখ এক হাজার ৭১৪টি। এর বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৩ লাখ ৪২ হাজার ৪৫৩ জন। বাকি তিন লাখ ৫৯ হাজার ২৬১টি পদই খালি পড়ে আছে। শূন্যপদগুলোর মধ্যে ৪৮ হাজার ২৪৬টি প্রথম শ্রেণির, ৫৪ হাজার ২৯৪টি দ্বিতীয় শ্রেণির, এক লাখ ৮২ হাজার ৭৩৭টি তৃতীয় শ্রেণির এবং ৭৩ হাজার ৯৮৪টি চতুর্থ শ্রেণির।

সরকারের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদগুলোতে নিয়োগ দেয় সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি)। আর তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির পদে সরাসরি নিয়োগ দেয় মন্ত্রণালয়। বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে বিভিন্ন কোটায় নিয়োগ দেওয়া হয় ৫৫ শতাংশ। আর মেধায় নিয়োগ দেওয়া হয় মাত্র ৪৫ শতাংশ। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার পোষ্য (ছেলে-মেয়ে ও নাতি-নাতনি) ৩০, মহিলা ১০, জেলা ১০ ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী (উপজাতি) ৫ শতাংশ। এ ছাড়া এসব কোটা পূরণ না হলে সেখানে ১ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রতিবন্ধীদের জন্য। আর যদি সংশ্লিষ্ট চাকরির ক্ষেত্রে এসব প্রাধিকার কোটা পূরণ হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে মেধাতালিকা থেকে প্রতিবন্ধীর কোটা পূরণ করা হয়। নন ক্যাডার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও একই কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। এই কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করছে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।


মন্তব্য