kalerkantho


ঢাকায় হোলি উৎসবে কলেজছাত্র খুন

প্রেমিকাকে দুষছে পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



প্রেমিকাকে দুষছে পরিবার

ফাইল ছবি

দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে আবির উৎসবে হোলি খেলার সময় রাজধানীর শাঁখারীবাজারে কলেজছাত্র রওনক হোসেন রনোকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের আটক বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। রনোর কথিত প্রেমিকা তোহুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ‘প্রেম নিয়ে বিরোধের’ ব্যাপারে তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত তোহুসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

নিহত রনোর মা দাবি করছেন, বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় তোহুই লোকজন দিয়ে রনোকে হত্যা করিয়েছে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার হোলি খেলার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর আবির উৎসবের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে পুলিশ। গতকাল সীমিত পরিসরে, ঘরোয়া আয়োজনে পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার এলাকার বাসিন্দারা শুধু উৎসব করতে পেরেছে। বিকেল ৩টার মধ্যেই তা শেষ করতে হয়েছে। বহিরাগত কেউ যাতে এতে অংশ নিতে না পারে সেই নির্দেশনা দেওয়া হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।

রনো হত্যার ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত করছেন কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জানে আলম। তিনি গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘একেবারে পরিষ্কার বলা না গেলেও আমরা কিছু তথ্য পেয়েছি। আশা করি, আজ-কালের মধ্যে সব জানা যাবে। তোহুসহ কয়েকজনকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তারা বিরোধের ব্যাপারে বলেছে।’

গতকাল দুপুরে কোতোয়ালি থানায় গিয়ে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা গেছে।

পুলিশের সূত্র জানায়, নিহত রনোর বন্ধু আরিফ, মাইশা ও সুমন কিছু তথ্য দিয়েছে। রনো হত্যার ব্যাপারে তোহু কিছু জানে না বলে দাবি করছে। তবে রনোর সঙ্গে স্থানীয় একটি গ্রুপের বিরোধের কথা বলেছে সে। পুলিশ এরই মধ্যে সন্দেহভাজন কয়েকজনের নাম পেয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার হত্যাকাণ্ডের পর রনোর খালাতো ভাই শামীম বান্ধবী মাইশাকে রনোর প্রেমিকা বলে দাবি করেছিল। তবে গতকাল পুলিশ ও রনোর মা নিশ্চিত করে, মাইশা নয়, তোহুর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল রনোর।

রনোর মা হেনা বেগম বলেন, ‘ওই মেয়েটার (তোহু) সঙ্গে আমার ছেলের আগে সম্পর্ক থাকতে পারে। এখন ছিল না। সে জোর করে কথা বলত। বিয়ে করতে চাইছে। রাজি না হওয়ায় লোকজন দিয়ে মেরে ফেলেছে।’

এদিকে গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকেই শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, আদালতপাড়া এলাকায় সুনসান নীরবতা ছিল। ওই সব এলাকার প্রবেশমুখে পুলিশের নজরদারি ও টহল বাড়ানো হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে শুধু স্থানীয়রাই পুলিশ চেকপোস্ট পার হয়ে যার যার গন্তব্যে যেতে পেরেছে। বহিরাগত অনেককে এসে ওই এলাকায় ঢুকতে না পেরে ফিরে যেতে দেখা গেছে।

কোতোয়ালি থানার ওসি এ বি এম মশিউর রহমান বলেন, ‘এটি হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসব। তারা নিজেরা হোলি উৎসব করতে পারবে। বাইরে থেকে কেউ এসে এখানে বিশৃঙ্খলা করতে পারবে না। এই এলাকার বাইরে আশপাশে যাতে কেউ জটলা করতে না পারে সে জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।’

পুলিশের নজরদারিতে সহায়তা করছিলেন স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটির সদস্যরা। পঞ্চায়েত কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার এক ছাত্র খুন হয়েছে। এ বিষয়টিতে পুরান ঢাকার বাসিন্দারা বিব্রত। আগে বাইরের লোকজন এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করত। এখন কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।’


মন্তব্য