kalerkantho


ছোট-বড় আর আধিপত্যের দ্বন্দ্বে খুন স্কুলছাত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ছোট-বড় আর আধিপত্যের দ্বন্দ্বে খুন স্কুলছাত্র

‘আমি কতবার কইলাম তোরা থাম। ওগো মারিস না। মইরা যাইব। কিন্তু কে কার কথা হুনে। শেষ পর্যন্ত দুইডা পোলারে ছুরি মাইরা দিল। পরে জানতে পারি, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর একজন মইরা গেছে।’

গত বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় স্কুলছাত্র ইমরান হোসেন মুন্না (১৪) হত্যাকাণ্ড এভাবেই বর্ণনা করেন প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্যক্তি। ওই এলাকা ঘুরে জানা গেছে, ছোট-বড় দ্বন্দ্ব ও এলাকার আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে মুন্নাসহ দুই কিশোরকে মারধরের পর ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মুন্না। তার বন্ধু রাকিবুল ইসলাম ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার আঘাতও গুরুতর বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

মুন্না ছিল যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। রাকিবুল তার সহপাঠী।

মুন্না পরিবারের সঙ্গে মাতুয়াইল মাদরাসা রোডের যায়েদ আলীর বাড়িতে থাকত। তার বাবার নাম সুলতান মিয়া। তিনি রিকশাচালক। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সে ছিল বড়। তাদের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের রাখালবুঁড়। গতকাল সন্ধ্যায় তার লাশ গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

আহত রাকিবুল কালের কণ্ঠকে বলে, মুন্নাসহ তারা কয়েক বন্ধু মিলে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মাতুয়াইল চান্দিমাঠ এলাকায় বেড়াতে যায়। এলাকায় ঘোরাঘুরির একপর্যায়ে কাজলা লবণ ফ্যাক্টরির সামনে স্থানীয় ১০-১২ জন কিশোর তাদের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হয়। এরপর তাদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে তাকে ও মুন্নাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

ডান পা ও পেটে জখম হওয়া রাকিবুল হামলাকারীদের পরিচয় এবং কী কারণে হামলা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু বলেনি।

যাত্রাবাড়ী প্রধান সড়ক থেকে অনেকটা ভেতরে কাজলা চান্দিমাঠ এলাকা। সরু গলি। গতকাল দুপুরে ওই এলাকায় গিয়ে জানা যায়, স্থানীয় লোকজনের সামনেই ঘটনাটি ঘটেছে। নবা ইসলাম ফার্মেসি নামের একটি ওষুধের দোকানের মালিক রমজান হোসেন বলেন, ‘তখন ৮টা (রাত) বাজে। আমি এশার নামাজে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এমন সময় পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে লোকজনকে ছোটাছুটি করতে দেখি। দোকান থেকে বের হয়ে দেখি অল্প বয়সী কিছু কিশোর নিজেদের মধ্যে ঝগড়াবিবাদ করছে। আমি ওদের কতবার কইলাম, তোরা মারামারি করিস না।’

ঘটনার কারণ জানতে চাইলে রমজান বলেন, ‘হুনছি, মুন্না অন্য মহল্লা থেকে বন্ধুবান্ধব নিয়া এ এলাকায় আসে। তহন এ এলাকার ছেলেরা তাগো ধইরা এলাকায় আসার জন্য মারধর করে।’ এ সময় বড়দের সামনে ছোটদের সিগারেট খাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে বিবাদ হয় বলেও জানতে পারেন তিনি।

যাত্রাবাড়ী থানার ওসি আনিসুর রহমান জানান, দুই পক্ষের হাতাহাতি-মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে তা জানার চেষ্টা চলছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ফরিদ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, এলাকায় ছোট-বড় দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধসহ কয়েকটি কারণে স্কুলছাত্র মুন্নাকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জড়িতদের নাম-পরিচয় জানা গেছে। তাদের ধরতে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে অভিযান চলছে।


মন্তব্য