kalerkantho


এবি ব্যাংক মামলায় হাইকোর্টের জিজ্ঞাসা

দুজনের জামিন বাতিল প্রশ্নে কী পদক্ষেপ নিল দুদক

বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চান অ্যাটর্নি জেনারেল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



দুজনের জামিন বাতিল প্রশ্নে কী পদক্ষেপ নিল দুদক

আরব-বাংলাদেশ (এবি) ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এম ওয়াহিদুল হক ও কর্মকর্তা আবু হেনা মোস্তফা কামালের বিরুদ্ধে দুদক কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ৪ মার্চ দুদকের আইনজীবীকে এ তথ্য জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ নির্দেশ দেন। এদিকে এবি ব্যাংকের ওই দুই কর্মকর্তাকে জামিন প্রদানকারী ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

আদালত বলেছেন, এবি ব্যাংকের ১৬৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় এ দুজনকে নিম্ন আদালত থেকে জামিন এবং একজনকে রিমান্ড দেওয়া হয়েছে। তাই এ আদেশে বৈপরীত্য রয়েছে। রিমান্ড মঞ্জুরের আদেশে বলা হয়েছে, মামলাটি বিশেষ জজ আদালতে বিচার্য বিষয়। এদিকে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দুজনকে দেওয়া হয়েছে জামিন। একই আদালতে এই দুই রকম আদেশ কি সম্ভব? ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় এ রকম আদেশ নজিরবিহীন। এর মাধ্যমে জাতির কাছে কী বার্তা যাবে? এর আগে এ দুজনের জামিন কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে গত ৩১ জানুয়ারি রুল জারি করেছিলেন একই বেঞ্চ। পাশাপাশি নিম্ন আদালতে থাকা মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠাতে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ রুলের ওপর শুনানিকালে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খানের উদ্দেশে এসব কথা বলেন আদালত।

আদালত গতকাল শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে জানতে চান, এ ধরনের বিশেষ আইনের মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জামিন দিতে পারে কি না? বিচার শুরুর আগে জামিনের প্রশ্ন এলে কোন আদালত জামিন দিতে পারবে? আদালত বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি প্রতিটি বিশেষ আইনে এ জাতীয় সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তাই এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?’

জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, অর্থপাচারের মামলা বিচার করার এখতিয়ারসম্পন্ন আদালত হলো বিশেষ জজ আদালত। তাই এ জাতীয় মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জামিন দেওয়ার এখতিয়ার নেই। যে ম্যাজিস্ট্রেট জামিন দিয়েছেন তাঁর বিচারিক ক্ষমতা প্রত্যাহার করা উচিত। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি জামিন বাতিলের জন্য ব্যবস্থা নিতে দুদককে নির্দেশনা দিতে পারেন।

আদালত বলেন, মামলা হওয়ার মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যেই জামিন হয়েছে। দুদক কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলেই তো এ আদালতকে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদেশ দিতে হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, দুদক কোনো গাফিলতি করেছে কি না সেটাও দেখা প্রয়োজন।

দুদকের আইনজীবীকে উদ্দেশ করে আদালত বলেন, ওই দুজনের জামিন বাতিল প্রশ্নে কী পদক্ষেপ নিয়েছে দুদক?

জবাবে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনজীবীর কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে দুদক। তা ছাড়া নিম্ন আদালতের আদেশের অনুলিপি না পাওয়ায় এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এ সময় আদালত বলেন, এক বছরেও অনুলিপি পাওয়া যাবে না।

ওয়াহিদুল হকসহ আটজনের বিরুদ্ধে গত ২৫ জানুয়ারি দুদক মতিঝিল থানায় মামলা করে। এ মামলার পর ওই দিনই ওয়াহিদুল হক, আবু হেনা মোস্তফা কামাল ও সাইফুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাঁদের মহানগর হাকিম আদালতে নেওয়া হলে আদালত ওয়াহিদুল হক ও মোস্তফা কামালের জামিন মঞ্জুর করেন। আর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাইফুল হককে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে দেওয়া হয়।


মন্তব্য