kalerkantho


জামিন বিলম্ব করতে সরকার নানা কৌশল করছে : ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



জামিন বিলম্ব করতে সরকার নানা কৌশল করছে : ফখরুল

ফাইল ছবি

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের নীলনকশা প্রমাণিত হচ্ছে। তারা খালেদা জিয়াকে কারারুদ্ধ করে রাজনীতি থেকে, নির্বাচন থেকে বাইরে রাখতে চায়। আপিলের দিনই বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন হওয়ার কথা। কিন্তু সেদিন জামিন হলো না। সরকার নীলনকশার অংশ হিসেবে খালেদা জিয়ার জামিন বিলম্ব করতে নানা কৌশল করছে।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একটি মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে। সে ব্যাপারে আইনি পরামর্শ নিতে গতকাল (মঙ্গলবার) দেশের প্রথিতযশা আইনজীবী ড. কামাল হোসেন সাহেবের কাছে গিয়েছিলাম। আমার সঙ্গে নেত্রীর প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজ্জাক খান ও তাঁর সহযোগী আমিনুল ইসলামও ছিলেন। আমরা দীর্ঘ আলোচনা করেছি। রায়ের ৬০০ পৃষ্ঠার ভলিউম তাঁকে দিয়েছি। তিনি দেশে ছিলেন না, দেশে এসেই আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, এটা পড়ে স্টাডি করে তিনি তাঁর মন্তব্য জানাবেন এবং পরামর্শ দেবেন। দুর্ভাগ্য আমাদের, মুষ্টিমেয় কিছু সাংবাদিক রিপোর্ট করার আগে আমার সঙ্গে অথবা ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজনটুকুও বোধ করেননি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘একটি পত্রিকা বড় করে ছাপিয়েছে—ড. কামাল প্রত্যাখ্যান করেছেন। এটা তো ঠিক নয়। সে জন্য বাধ্য হয়ে রাতে আমাদের প্রেস রিলিজ দিতে হয়েছে যে এটা সত্য নয়। উনি (ড. কামাল হোসেন) অত্যন্ত উষ্মা প্রকাশ করেছেন। এ ধরনের একটি মামলায় সাজা দেওয়াকে তিনি কখনোই পছন্দ করেননি।’

আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সমস্যাটা আমাদের আইনজীবীদের মধ্যে নয়। সমস্যাটা হচ্ছে তারা (সরকার) ছক করে নিয়েছে। এই মামলার বিচার কী হবে, রায় কী হবে—সব কিছুই পূর্বনির্ধারিত। এ দেশে এখন বিচারটা প্রহসনে পরিণত হয়েছে। কার কাছে যাব আমরা?’

সরকারের দমননীতির সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দেশনেত্রীর মামলার রায়ের আগে ও পরে সারা দেশে পাঁচ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার ও মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে কষ্টকর ও দুঃখজনক হলো, আমাদের মহিলা নেতাকর্মীরা পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছেন, আদালত তাদের জামিন দিচ্ছেন না। তারিখ দিচ্ছেন এক মাস-দেড় মাস পরের। এভাবে দমন-পীড়ন-জুলুম করে বিএনপিকে ভাঙা যাবে না।

বিএনপিকে তার মূল লক্ষ্য থেকে সরানো যাবে না।’

নির্বাচন কমিশনের কাছে নালিশি চিঠির প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধান বিরোধী দলের নেত্রী কারাগারে এবং বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে দেওয়া হচ্ছে না। আর সেই সময় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন জায়গায় দেশ-বিদেশে সভা-সমাবেশ করছেন। রাষ্ট্রীয় খরচে জনসভা করে নৌকার জন্য ভোট চাইছেন। ইসি এসব বন্ধ না করলে প্রমাণ হবে, এই কমিশন পুরোপুরি সরকারকেই সহযোগিতা করছে।

জাতীয় সংসদে বেগম রওশন এরশাদের বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপি মহাসচিব হেসে বলেন, ‘এই সংসদ এমন একটা বিরোধী দল তৈরি করেছে যে দলের নেত্রী করুণ আবেদন করছেন—আমাদেরকে বাঁচান। আসলে আমরা সরকারি দল নাকি বিরোধী দল। আসলে তারা কী তা নিজেরাই জানে না। কথিত বিরোধীদলীয় নেত্রীর বক্তব্য প্রমাণ করে যে দেশে গণতন্ত্র নেই।’

 

 

 



মন্তব্য