kalerkantho


ট্রেনের ছাদে রক্তাক্ত লাশ

ছাত্রলীগের সঙ্গে বিরোধে খুন, দাবি শাকিবের বাবার

এস এম আজাদ   

১ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ছাত্রলীগের সঙ্গে বিরোধে খুন, দাবি শাকিবের বাবার

শাকিব খান

রাজধানীর বিমানবন্দর রেলস্টেশনে ট্রেনের ছাদ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় লাশ উদ্ধারের পর শাকিব খান (১৮) নামের এক তরুণের মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। শেরেবাংলা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ডিপ্লোমা দ্বিতীয় বর্ষের এই শিক্ষার্থীর শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক জখম পাওয়া গেছে। তাঁর বাবা দাবি করছেন, গ্রামের বাড়িতে ছাত্রলীগের একটি পক্ষের সঙ্গে বিরোধ হয়েছে শাকিবের। তারাই তাঁর ছেলেকে হত্যা করেছে। তবে গতকাল বুধবার পর্যন্ত হত্যা মামলা দায়ের করেননি তিনি।

অন্যদিকে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, নরসিংদীর ঘোড়াশাল থেকে কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের ট্রেনের ছাদে যাত্রী হয়ে কমলাপুর যাচ্ছিলেন শাকিব। এ সময় দুর্ঘটনায় তিনি মারা গেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তাঁরা।

শাকিব নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের হোমিও চিকিৎসক সরফুদ্দিনের ছেলে।

গত শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে বিমানবন্দর রেলস্টেশনে কর্ণফুলী ট্রেনের ছাদ থেকে শাকিবের লাশ উদ্ধার করে ঢাকা রেলওয়ে থানার পুলিশ। এরপর সোমবার সকালে তাঁর খালু নূর মোহাম্মদ কাজী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে এসে লাশ শনাক্ত করেন। ওই দিন দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিক্যালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিহতের পিঠে, পেটে, মাথায়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে সাত-আটটি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এই চিহ্ন থেকেই মনে হচ্ছে শাকিবকে হত্যা করা হয়েছে।’

ঢাকা রেলওয়ে থানার ওসি ইয়াছিন ফারুক গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শাকিবের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে ধারণা করা হচ্ছে ট্রেনের ছাদে কোনো অ্যাংগেলের সঙ্গে আঘাত লেগেছে। অন্য কোনো ঘটনা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ড বলা হলেও তারা কোনো মামলা করেনি।’ তিনি আরো বলেন, ‘সন্দেহ তৈরি হওয়ায় আমরা তদন্ত করছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া যাবে।’

শাকিবের বাবা সরফুদ্দিন ও মা ফুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পারুল বেগম ছেলের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না। তাঁরা বলছেন, তাঁদের ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।

সরফুদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, শাকিব ২১ ফেব্রুয়ারি বাড়ি যান। ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশে গত শনিবার সন্ধ্যায় তিনি বাড়ি থেকে বের হন। সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে পলাশ থেকে ঘোড়াশাল রেলস্টেশনে গিয়ে ট্রেনে ওঠেন শাকিব। রাত ৯টার পর ফোন করলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

সরফুদ্দিন বলেন, ‘পুলিশ এখন জানতে চাইছে আমার ছেলে ট্রেনের ছাদে উঠেছে কি না। সেটা আমি কী করে বলব?’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘গত ২৭ জানুয়ারি ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান গাজী আকাশ, মুন্নাসহ পাঁচ-ছয়জন বাড়িতে এসে শাকিবকে হত্যার হুমকি দিয়ে যায়। বাড়ি এলে তাকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয় তারা। কারণ জানতে চাইলে তারা বলে, ফেসবুকে স্থানীয় সংসদ সদস্য (নরসিংদী-২) কামরুল আশরাফ খান পোটনের ছবির নিচে শাকিব বাজে কমেন্টস করেছে।’

সরফুদ্দিনের অভিযোগ, ‘যারা হুমকি দিয়ে গেছে তারাই আমার ছেলেকে খুন করেছে বলে আমার সন্দেহ। আমি পুলিশকে বলেছি। তারা এখন এলাকায় নেই।’

হুমকির পর থানায় কোনো জিডি করেছিলেন কি না জানতে চাইলে সরফুদ্দিন বলেন, ‘আমি ভয়ে জিডি করিনি, যদি ওরা মেরে ফেলে। তাই চুপচাপ ছিলাম।’

 


মন্তব্য