kalerkantho


প্রশ্ন ফাঁসে ৫২ মামলা, গ্রেপ্তার ১৫৩

বড় পরিবর্তন আসছে পরীক্ষা পদ্ধতিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বড় পরিবর্তন আসছে পরীক্ষা পদ্ধতিতে

ফাইল ছবি

প্রশ্ন ফাঁস রোধে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ, সুধীসমাজসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চেয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেছেন, ‘প্রশ্ন ফাঁসের এখন যে পরিস্থিতি তা রোধ করা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এ জন্য অভিভাবকদের সবচেয়ে বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে। কারণ প্রশ্ন ফাঁস রোধে শুধু বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেই হবে না, পরীক্ষা পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনতে হবে। আর পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে চাইলে অনেক অভিভাবক আছেন, যাঁরা এ পরিবর্তন সহজে মেনে নিতে চান না।’

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ের এফডিসির এটিএন বাংলার হলরুমে ‘বিতর্ক বিকাশ-গ্র্যান্ড ফাইনাল, যুক্তির আলোয় খুঁজি মানুষের মুক্তি’ শীর্ষক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচি, এটিএন বাংলা ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ৮৮০টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ বছর নবম জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ১৭ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। ফাইনালে বরিশালের বাবুগঞ্জের রাশেদ খান মেনন মডেল উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। রানারআপ হয়েছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের ইসহাকপুর পাবলিক হাই স্কুল।

ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচির পরিচালক ড. শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, এটিএন বাংলার উপদেষ্টা (অনুষ্ঠান) নওয়াজেশ আলী খান প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “২০১৫ সালে আমরা যখন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রশ্নপত্রে এমসিকিউতে ১০ নম্বর কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিই, তখন অনেক অভিভাবক মনঃক্ষুণ্ন হন। কারণ হিসেবে তাঁরা আমাকে জানিয়েছেন, এতে তাঁদের সন্তানরা ‘জিপিএ ফাইভ’ থেকে বঞ্চিত হতে পারে।” তিনি অভিভাবকদের প্রতি তাঁদের সন্তানদের কাছ থেকে ভালো ফলাফলের চেয়ে নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন ভালো মানুষ গড়ে তোলার ওপর বেশি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আসন্ন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে আরো কঠোর হব। এতে প্রশ্নপত্র পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন না হলেও আগামী বছর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রশ্নপত্র পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার চেষ্টা করব। তবে সবকিছু হবে শিক্ষাবিদসহ সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে।’

শিক্ষামন্ত্রী জানান, চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় সারা দেশে ৫২টি মামলা হয়েছে এবং ১৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার পরও শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখনো সমস্যার মূলে যেতে পারেনি স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, এ জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন প্রশ্ন ফাঁসকে ‘মানসিক যন্ত্রণা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, এটা থেকে জাতিকে উদ্ধার করতে হবেই। এ জন্য কোচিং সেন্টার, টিউশনি বন্ধে আমরা শিগগিরই আইন করতে যাচ্ছি। এ নিয়ে একটি কমিটি কাজ করছে। এ কাজটি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে।


মন্তব্য