kalerkantho


এমপিও দুর্নীতি

শাস্তি পাচ্ছেন ১৭৫ কর্মকর্তা কর্মচারী

শরীফুল আলম সুমন   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



শাস্তি পাচ্ছেন ১৭৫ কর্মকর্তা কর্মচারী

বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও (বেতন-ভাতার সরকারি অংশ) দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। এ বিষয়ে গত ১৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি গোপন প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এরপর গত ১২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশে আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে তা মন্ত্রণালয়কে জানাতে বলা হয়েছে। 

সূত্র জানায়, দেশের ৯টি আঞ্চলিক শিক্ষা কার্যালয়ের পাঁচজন উপপরিচালকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁরা হলেন বরিশাল, ময়মনসিংহ, খুলনা, কুমিল্লা ও রাজশাহী কার্যালয়ের উপপরিচালক। এ ছাড়া ২০ জন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং ১৫০ জন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও কম্পিউটার অপারেটর এবং অফিস সহকারী এই তালিকায় রয়েছেন।

মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর মো. মাহবুবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা এ ব্যাপারে আমাদের কাজ শেষ করেছি।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও কার্যক্রম বিকেন্দ্রীকরণে দুর্নীতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাওয়া গোপনীয় প্রতিবেদনের ওপর করণীয় নির্ধারণে গত ২৮ জানুয়ারি এক সভা হয়। এতে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সুনির্দিষ্ট অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মাউশি অধিদপ্তর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে অবহিত করবে।

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এমপিও সফটওয়্যারটি আরো আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে হবে। একই সময়ের মধ্যে এমপিওভুক্তির সব কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করার জন্য একটি আধুনিক মনিটরিং পদ্ধতি তৈরি করতে হবে।

মাউশি অধিদপ্তরে পাঠানো চিঠিটিতে বলা হয়েছে, সভার সুপারিশগুলো শিক্ষামন্ত্রী অনুমোদন করেছেন। গত সোমবার মাউশি অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ এই চিঠিটি পাওয়ার পর কয়েক দফা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশি অধিদপ্তরের একজন উপপরিচালক বলেন, ‘কাউকে কাউকে বদলি এবং কিছু কর্মকর্তাকে ওএসডি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযুক্তদের নাম দেওয়া হয়েছে। তাই নিয়মের মধ্যে থেকে তাঁদের শাস্তি দেওয়া যেতে পারে। যাঁরা উপপরিচালক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তাঁদের বেশির ভাগ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তাঁদের সেখানে ফেরত পাঠানো যেতে পারে। একই সঙ্গে বিভাগীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করা উচিত।’    

২০১৫ সালে এমপিও বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়। এরপর ৯টি আঞ্চলিক শিক্ষা অফিস থেকে এমপিও দেওয়া শুরু হয়। একজন শিক্ষককে এমপিও পেতে কমপক্ষে চার জায়গায় ঘুষ দিতে হয়। স্কুল থেকে ফাইলপত্র তৈরিতে নিম্নমান সহকারীকে (কেরানি) প্রথম ঘুষ দিতে হয়। এরপর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘুষ দিতে হয়। টাকা দিলেই অনলাইন ফাইলে সঠিক মন্তব্য করা হয়, নয়তো নানা কারণ দেখিয়ে তা বাতিল করা হয়। এরপর ঘুষ দিতে হয় আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসে। এভাবে একজন শিক্ষককে এমপিও পেতে কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। কাগজপত্রে সামান্য সমস্যা থাকলে এই টাকা তিন-চার গুণ বেড়ে যায়। 

দেশে বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ২৮ হাজার। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী চাকরি করছেন। প্রতিদিন প্রায় ৪০ জন শিক্ষক-কর্মচারী অবসরে যান। এর বিপরীতে নতুন শিক্ষকদের এমপিও দেওয়া হয়। দুই মাস পর পর দেওয়া এমপিওতে সারা দেশে প্রায় আড়াই হাজার নতুন শিক্ষক এমপিওভুক্ত হন। এ ছাড়া প্রতি দুই মাস অন্তর এক হাজার থেকে দেড় হাজার শিক্ষক উচ্চতর গ্রেডসহ নানা সুবিধা পান। এসব কাজের কোনোটিই টাকা ছাড়া হয় না।


মন্তব্য