kalerkantho


‘শিশুকে বইমুখো করা বড়দের গুরুদায়িত্ব’

নাট্যজন গাজী রাকায়েত

শেখ শাফায়াত হোসেন   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘শিশুকে বইমুখো করা বড়দের গুরুদায়িত্ব’

বাবার হাত ধরে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরে বইমেলা দেখল ছোট্ট মেয়ে দ্যুতি। গতকাল শুক্রবার ছিল অমর একুশে গ্রন্থমেলার নির্ধারিত শিশু প্রহর। অসংখ্য শিশুর সঙ্গে দ্যুতি ছড়াল শিশু কর্নারে ঘুরে বেড়িয়ে। এখনো হরফে পড়তে শেখেনি শিশুটি। তাতে কি, বইয়ের সঙ্গে যোগসূত্র তৈরি হতে তো অসুবিধা নেই। তাই কন্যাসন্তানকে নিয়ে অমর একুশে গ্রন্থমেলায় চলে এসেছেন বাবা গাজী রাকায়েত। শুধু আসা নয়, সিসিমপুর স্টল থেকে মেয়েকে কয়েকটি গল্পের বই কিনে দিয়েছেন তিনি।

টেলিভিশন নাট্যনির্মাতাদের সংগঠন ডিরেক্টরস গিল্ডের সভাপতি গাজী রাকায়েত। প্রতিবছর বইমেলায় আসেন তিনি। তাঁর মতে, বইমেলায় বড় কোনো ঘাটতি নেই। তবে এখন মেয়েকে নিয়ে মেলায় ঘুরতে এসে উপলব্ধি হয়েছে শিশু কর্নার আরো দরকার। রাকায়েত বলেন, ‘শিশুদের কিভাবে বইয়ের দিকে ঝোঁকানো যায়, সেটা একটা বিরাট দায়িত্ব। ধরেন, আজকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র বিশাল একটা অবস্থানে পৌঁছেছে। কিন্তু এর পরও অনেক মানুষ বই পড়ছে না, এটা সত্য। সেই জায়গায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মতো আরো অন্য সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সরকারকে অনেক বেশি সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে রাকায়েত বলেন, ‘বইমেলায় কোন ধরনের বই কেমন এসেছে, সেটা বলা কিছুটা কঠিন। তবে এটা তো প্রাণের মেলা। আমাদের জাতিসত্তা, আমাদের দেশজ বিষয় এর সঙ্গে জড়িত। প্রতিটি দেশে এ ধরনের মেলা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের বইমেলার পেছনে অমর একুশের যে ভূমিকা, সেটা অন্য দেশের বইমেলায় নেই।’ তিনি বলেন, ‘এই বইমেলায় একটি বিষয় লক্ষণীয়, এর অর্ধেকটা জুড়ে আছে শিশুরা। মা-বাবার হাত ধরে শিশুরা মেলায় আসছে।’

গাজী রাকায়েত আরো বলেন, ‘বইয়ের ঘাটতি কোনো দিনও পূরণ হবে না। ইলেকট্রনিক মিডিয়া বলেন আর যেকোনো কিছুই আসুক না কেন, বই বই-ই। হয়তো সাময়িক একটা চাপ আসে মাঝেমধ্যে। কিন্তু বইয়ের প্রতি ঝোঁক বোঝা যায়। এই ফেসবুকের যুগে, বিশ্বায়নের যুগেও...।’

সিসিমপুরের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান গাজী রাকায়েত। তিনি বলেন, ‘সিসিমপুর আমার মেয়ের খুব প্রিয়। এখানে বাংলাদেশের সংস্কৃতি যেভাবে যুক্ত করা হয়েছে, সেটা খুবই প্রশংসনীয়।’



মন্তব্য