kalerkantho


‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই জেলায় নিহত ২

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই জেলায় নিহত ২

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ ও কুষ্টিয়ায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুজন নিহত হয়েছেন, যাঁদের ‘ডাকাত’ বলে দাবি করছে পুলিশ। কুষ্টিয়ায় নিহত ব্যক্তিকে তিন দিন আগে ঝিনাইদহ থেকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর পরিবারের অভিযোগ।

আমাদের সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, বুধবার গভীর রাতে উপজেলার ফুলদী বাগেরপাড়া গ্রামে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নজরুল ইসলাম (৩৭) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পুলিশ বলছে, নিহত নজরুল উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা এলাকার সিরাজুল হকের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে সোনারগাঁ, আড়াইহাজার, বন্দর, নরসিংদীসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, অপহরণ, হত্যাসহ অন্তত দুই ডজন মামলা রয়েছে; একটি মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিও তিনি।

সোনারগাঁ থানার ওসি মোরশেদ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, বুধবার গভীর রাতে উপজেলার বারদী ইউনিয়নের ফুলদী বাগেরপাড়া গ্রামে সাদেক মিয়ার বালুর মাঠে ১৫-২০ জনের একটি ডাকাতদল ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এই খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গেলে ডাকাতরা গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ডাকাতরা পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থল থেকে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি আরো জানান, এ ঘটনায় এএসআই ছামান মিয়া ও কনস্টেবল মমিন মিয়া আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, এক রাউন্ড গুলি, রামদা, ছোরা ও চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।

আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের মহিষাডাঙ্গা এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তৌহিদুল ইসলাম (৩৮) নামের একজন নিহত হয়েছেন। পুলিশ বলছে, নিহত তৌহিদুল ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেন মোল্লার ছেলে।

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ওসি রতন শেখ কালের কণ্ঠকে জানান, সড়কে গাছের সঙ্গে দড়ি বেঁধে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে এক দল ডাকাত—এমন খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল সদর উপজেলার উজানগ্রাম ইউনিয়নের মহিষাডাঙ্গায় অভিযানে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা গুলি ছুড়লে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও গুলি চালায়। পরে ডাকাতরা পিছু হটলে ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক ডাকাতকে পাওয়া যায়। তাঁকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি বন্দুক, গাছ কাটার একটি করাত ও মোটা দড়ি উদ্ধারের কথাও জানান ওসি। 

কুষ্টিয়া শহরের পদ্মা প্রিন্টার্সের মালিক শহিদুল ইসলাম মর্গে এসে লাশ দেখে জানান, নিহত ওই ব্যক্তি তাঁর ছোট ভাই তৌহিদুল ইসলাম। তৌহিদুল শৈলকুপায় ছোটখাটো ব্যবসা করতেন। তিন দিন আগে এক দল লোক বাড়িতে গিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাঁকে নিয়ে যায়। কিন্তু পরে যখন পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় তখন ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তারের কথা অস্বীকার করে। তিন দিন তৌহিদুলের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।



মন্তব্য