kalerkantho


মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি : আইজিপি

কোনো সহিংসতাকারীকে ছাড় নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি : আইজিপি

ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী

বাংলাদেশ পুলিশের নবনিযুক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেছেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন পুলিশ বাহিনী হবে নারীবান্ধব, জনবান্ধব, শিশুবান্ধব ও প্রগতিবান্ধব। দায়িত্ব গ্রহণের পরদিন গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া সেন্টারে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলায় তাঁর নেতৃত্বাধীন পুলিশ যেসব পদক্ষেপ নেবে তা তুলে ধরেন আইজিপি। সে ক্ষেত্রে বর্তমানের অন্যতম গুরুতর সমস্যা মাদক নিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বুধবার র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেওয়ার সময় বলেছিলেন মাদক নির্মূলের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে। এ ক্ষেত্রে পুলিশের নীতি জিরো টলারেন্স। তবে আইজিপি বলেন, মাদকের চাহিদা যাতে তৈরি না হয় সেই লক্ষ্যে মাদকাসক্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনারও ব্যবস্থা করতে হবে।

সামনের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় সব ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে পুলিশ সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে। কোনো সহিংসতাকারীকে ছাড় দেওয়া হবে না। জনগণ ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করলেই ব্যবস্থা।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, নির্বাচন পরিচালনা করা নির্বাচন কমিশনের কাজ। পুলিশের কাজ জানমালের নিরাপত্তা বিধান করা। পুলিশ আইনের মধ্যে থেকে পেশাগত কাজ করবে।

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করেও বিশৃঙ্খল কিছু ঘটলে তা মোকাবেলা করতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান আইজিপি। 

জঙ্গিবাদ দমন ও মাদক নির্মূল পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, জঙ্গিবাদ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে। জঙ্গি দমনে নিবেদিত পুলিশ সদস্যরা অসাধারণ ভূমিকা রাখছেন। ইন্টেলিজেন্স কো-অ্যাকটিভ পুলিশিংয়ের মাধ্যমে গোয়েন্দারা কাজ করছেন। এ বিষয়ে পুলিশ এখনো বদ্ধপরিকর। জঙ্গির পাশাপাশি মাদক নির্মূলেও সব কমিউনিটিকে নিয়ে কাজ করা হবে।

নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পুলিশ জনগণকে সেবা দিয়ে থাকে মন্তব্য করে আইজিপি বলেন, কখনো কখনো কিছু পুলিশ সদস্যের কিছু কাজে বিভ্রান্তিতে পড়তে হয়। কিন্তু কোনো ব্যক্তির অপেশাদার আচরণ তার; এর দায়িত্ব পুলিশ নেবে না। কোনো পুলিশ সদস্য অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে এবং পুলিশের নিজস্ব আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অধিকতরভাবে প্রয়োগ করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

থানায় সেবার মান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘পুলিশের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে মূল জায়গা হলো থানা। বিষয়টি নিয়ে আমরা বসেছি, সেবার মান বাড়াতে কয়েকটি পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। যা যা করলে থানায় সেবার মান বাড়ানো যাবে সে অনুযায়ী কাজ করার ব্যবস্থা করা হবে।’  

এ ছাড়া সাইবার অপরাধ কিংবা অনলাইনের মাধ্যমে দেশে কৃত্রিম সমস্যা সৃষ্টি করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করার চেষ্টা করলে তা দমনে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানান জাবেদ পাটোয়ারী।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, ‘এর আগে দেশের সাংবাদিক সমাজ যেভাবে পুলিশের কাজে সহযোগিতা করেছে, সেভাবেই আপনাদের সবার সহযোগিতা কামনা করছি। আমরা একসঙ্গে কাজ করব। একইভাবে আপনাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আমার কাছ থেকে এবং বাংলাদেশ পুলিশের কাছ থেকে আপনারা সর্বাত্মক সহযোগিতা পাবেন—এই প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।’

আইজিপি বলেন, ‘আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি, পুলিশিং একটি সেবা। বাংলাদেশ পুলিশ তার জন্মলগ্ন থেকে দেশের মানুষের জন্য কাজ করে চলেছে। এ জন্যই পুলিশের প্রতি জনপ্রত্যাশা অনেক বেশি।’

জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধে, দেশের যেকোনো ক্রান্তিকালে, দুর্যোগে, দুর্বিপাকে বাংলাদেশ পুলিশ মানুষের পাশে থেকে গণমানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছে। উন্নয়ন ও অগ্রগতির নানা সূচকে বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বেই ‘এমার্জিং টাইগার’ হিসেবে সুপরিচিত। দেশ আজ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিগণিত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে।

আইজিপি আরো বলেন, পুলিশিং সারা বিশ্বে একটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পেশা। বাংলাদেশের মতো একটি ক্রমবিকাশমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে পুলিশিং আরো বেশি চ্যালেঞ্জিং।

বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা : প্রথম কর্মদিবসে গতকাল সকালে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান আইজিপি। এ ছাড়া তিনি রাজারবাগ পুলিশ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান। এ সময় পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপিরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গতকাল দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আইজিপি। পরে ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।

এরপর অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান ও র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে পুষ্প অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আতিকুর ইসলাম, সিআইডির ডিআইজি মনিরুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আনোয়ার হোসেন, মো. আবু কালাম সিদ্দিকী, গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইদুর রহমান খানসহ খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ীর পুলিশ সুপারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে আইজিপি বঙ্গবন্ধু ভবনে যান এবং সেখানে রাখা মন্তব্য বইয়ে মন্তব্য লেখেন।

এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান চৌধুরী এমদাদুল হক, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন পান্না, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র কাজী লিয়াকত আলী লেকু, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিটু, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী গোলাম মোস্তাফা, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান বিশ্বাস, টুঙ্গিপাড়া পৌর মেয়র শেখ আহম্মেদ হোসেন মীর্জা, সাবেক পৌর মেয়র সরদার ইলিয়াস হোসেনসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিল।

বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আইজিপি সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু সমার্থক। যদি বাংলাদেশকে বলতে হয়, তাহলে বঙ্গবন্ধুকেও বলতে হবে। তিনি আজীবন সংগ্রাম করে এ দেশ স্বাধীন করেছেন। দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করে গেছেন।

জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস ও আস্থা নিয়ে পুলিশ বাহিনীর দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন। আমি সে দায়িত্ব আস্থা ও বিশ্বাসের সাথে পালন করে যাব।’

২০১৮ সাল পুলিশ বাহিনীর জন্য কোনো চ্যালেঞ্জ নয়। পুলিশ বাহিনী জন্ম থেকে চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন নতুন আইজিপি।



মন্তব্য