kalerkantho


মাদকের বিষ

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর নড়েচড়ে বসছে প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর নড়েচড়ে বসছে প্রশাসন

ছবিঃ কালের কণ্ঠ

রাজধানীসহ দেশজুড়ে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার নিয়ে গত বুধবার জাতীয় সংসদে আলোচনা এবং মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে (ডিএনসি) এক জরুরি সভার পর তিন দিনের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। ঢাকা ও ঢাকার উপকণ্ঠে টানা ৭২ ঘণ্টার এই অভিযানে অংশ নিয়েছে ছয়টি বিশেষ দল। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গতকাল রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় দুই হাজার পিস ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্যসহ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএনসি। নারায়ণগঞ্জের বন্দরে একটি বাড়িতে মিলেছে ইয়াবা তৈরির মেশিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৯ মাদকসেবীকে উদ্ধার করে কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে প্রতিদিনই মাদকবিরোধী  অভিযান অব্যাহত থাকলেও গতকাল সে অভিযান আরো জোরদার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

জানতে চাইলে ডিএনসির পরিচালক (অপারেশন ও গোয়েন্দা) সৈয়দ তৌফিক উদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, আজ (গতকাল) সকালেই জরুরি মিটিং করে ঢাকা অঞ্চলে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। শহরের প্রতিটি এলাকার মাদক স্পট ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তল্লাশি করা হচ্ছে। অভিযান পরিচালনা করতে ছয়টি টিম মাঠে নেমেছে। শনিবার পর্যন্ত এ দফায় অভিযান চলবে। তিনি আরো বলেন, বাড্ডায় একজনের কাছে রিভলবারও পাওয়া গেছে।

ডিএনসির ঢাকা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুর রহমান বলেন, নারায়ণগঞ্জের বন্দরের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা তৈরির কারখানা পাওয়া গেছে। বড় চালান পাওয়ার গোয়েন্দা তথ্য থাকলেও মিলেছে মাত্র ২০০ পিস এবং দুই কেজি কাঁচামাল। একটি মেশিনও পাওয়া গেছে।

ঢাকা মেট্রো ও উপ-অঞ্চলের সহকারী পরিচালক খোরশিদ আলম জানান, ভাটারায় অভিযান চালিয়ে আনোয়ার হোসেন নামে একজনের পকেটে ইয়াবা ও রিভলবার পাওয়া গেছে। এ ছাড়া খিলগাঁও, তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, মতিঝিলসহ  কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবা, গাঁজা, মদ, ফেনসিডিল, হেরোইনসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি এলাকা থেকে ১৯ মাদকসেবীকে উদ্ধার করে তেজগাঁওয়ে ডিএনসির কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সহেলী ফেরদৌস বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। নতুন আইজি যোগ দিয়েই মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্সের কথা বলেছেন।

গত বুধবার জাতীয় সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে মাদকের ছড়াছড়ি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, রমনায় ৭৪টি, লালবাগে ৯০টি, ওয়্যারলেসে ১৫০টি, মিরপুরে ১২৫টি, গুলশানে ১১২টি, উত্তরায় ৬৮টি, মতিঝিলে ১২২টি এবং তেজগাঁওয়ে শতাধিক মাদকের স্পট রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাৎক্ষণিক মাদকের বিরুদ্ধে আভিযান চালানোর ঘোষণা দেন।



মন্তব্য