kalerkantho


প্রথম স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণে ঐক্যের ডাক ট্রাম্পের

লটারি নয়, মেধার ভিত্তিতে অভিবাসী প্রবেশের সুযোগ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



লটারি নয়, মেধার ভিত্তিতে অভিবাসী প্রবেশের সুযোগ

ছবি: ইন্টারনেট

নিজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বিপরীতে গিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ ভাষায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণে ‘এক আমেরিকান পরিবার’ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাতে কংগ্রেস ও জাতির উদ্দেশে তিনি এ ভাষণ দেন। ভাষণে তিনি আমেরিকানদের প্রতি জাতীয় ঐক্য ও শক্তিশালী সীমান্তের আবেদন জানান।

কংগ্রেসের উভয় কক্ষের সামনে দেওয়া এই ভাষণে ট্রাম্প ‘নতুন আমেরিকান মুহূর্ত’ ঘোষণা দিয়ে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি ‘খোলা হাত প্রসারিত’ করার কথা বলেন। এ সময় তিনি রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক পার্টি—উভয় দলের প্রতি ‘দ্বিদলীয় সমঝোতার’ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি অভিবাসননীতি কঠোর করতে এবং সীমান্তে দেয়াল তৈরিতে উভয় পক্ষকে উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি ভাষণে আমেরিকার অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতি বেশি জোর দেন এবং নিজের সাফল্যের দিক তুলে ধরেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আজ রাতে আমি পার্থক্যগুলোকে সরিয়ে রাখতে, অভিন্ন ক্ষেত্র খোঁজে নিতে এবং ঐক্যের অনুসন্ধান করতে আমাদের সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে জনগণ যে সেবার জন্য আমাদের নির্বাচিত করেছে তাদের সেই প্রয়োজন মেটানো যায়। আজ রাতে আমি এমন এক ভবিষ্যতের কথা বলতে চাই, যা আমরা অর্জন করতে যাচ্ছি; এমন এক জাতির কথা বলতে চাই, যা আমরা হতে যাচ্ছি। আমাদের সবাইকে একটি দল হিসেবে, এক ব্যক্তি হিসেবে এবং একটি আমেরিকান পরিবার হিসেবে একত্র হতে হবে।’

দায়িত্ব নেওয়ার বছরপূর্তিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের কংগ্রেসে এই স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ দিতে হয়। এবার এমন একসময় ট্রাম্প এই ভাষণ দিলেন, যখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময় তাঁর শিবিরের সঙ্গে রাশিয়ার সংযোগ নিয়ে জোর তদন্ত চলছে। শুধু তাই নয়, এই তদন্তে হস্তক্ষেপের অভিযোগে ডেমোক্র্যাটরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিশংসনের আওয়াজও তুলছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন দুই দলকে কাছাকাছি আসার আহ্বান জানালেন, তখনো ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের মধ্যে বিরোধ স্পষ্ট। তা ভাষণের সময়ও স্পষ্ট হয়। প্রেসিডেন্টের ভাষণের বিভিন্ন পর্যায়ে রিপাবলিকান এমপিরা তুমুল উল্লাস প্রকাশ করলেও ডেমোক্র্যাটদের প্রায় সময়ই নিজের আসনে নীরবে বসে থাকতে দেখা গেছে।

দ্বিদলীয় সহযোগিতার এ বার্তা ট্রাম্প সামনের দিনেও অব্যাহত রাখবেন কি না তা স্পষ্ট নয়। তাই ট্রাম্পের এই আবেদন সাড়া পাবে কি না তার প্রথম পরীক্ষা হবে যুক্তরাষ্ট্রে তরুণ অনিবন্ধিত প্রায় ১৮ লাখ অভিবাসীর সুরক্ষা দিতে নেওয়া ডেফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভাল (ডাকা) প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি ডেমোক্র্যাটদের প্রতি ‘খোলা হাত প্রসারিত’ করবেন। তিনি ভাষণে ‘আশাবাদের জোয়ার’ ব্যক্ত করেন, যা যেকোনো পটভূমির, রঙের ও ধর্মবিশ্বাসী মার্কিন নাগরিকদের জন্য উপযোগী হবে। তিনি এমন একসময় ডেমোক্র্যাটদের প্রতি এমন ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ আহ্বান জানালেন, যখন সামনের বছরগুলোতে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের প্রয়োজন হবে ট্রাম্পের। বিশেষ করে ট্রাম্পের মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তৈরি ও ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়ে অবকাঠামো নির্মাণ পরিকল্পনায় অর্থ জোগানের নিশ্চয়তার প্রয়োজন হবে।

ভাষণে নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে ‘চেইন মাইগ্রেশন’ প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চাওয়ার কথা জানান ট্রাম্প। এ সময় বেশ কয়েকজন ডেমোক্রেটিক সংসদ সদস্য প্রেসিডেন্টের উদ্দেশে দুয়ো দেন। অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ নাগরিক হওয়ার পর সেই সূত্রে তার পরিবারের সদস্যদেরও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়াকেই ‘চেইন মাইগ্রেশন’ বলা হয়। শুরু থেকেই ট্রাম্প এ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে, তিনি চান ‘চেইন মাইগ্রেশন’ নয়, মেধার ভিত্তিতে অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে।

স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণে ট্রাম্প তাঁর মেয়াদের প্রথম বছরেই শেয়ারবাজারের ঊর্ধ্বগতি ও বেকারত্বের হার কমিয়ে আনাসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নের কৃতিত্ব দাবি করেন। গত বছরের শেষ দিকে রিপাবলিকানদের প্রস্তাবিত কর সংস্কার কর্মসূচি কংগ্রেসে অনুমোদিত হওয়ার পর এই উন্নতি দৃশ্যমান হচ্ছে বলেও বিশ্বাস তাঁর। তিনি বলেন, ‘এখন নতুন আমেরিকার ক্ষণ, আমেরিকান স্বপ্নে জীবনযাপন শুরু করার এর চেয়ে ভালো সময় আর কখনোই ছিল না।’

বিদেশনীতি : স্টেট অব ইউনিয়ন ভাষণে পররাষ্ট্র ইস্যুতেও কথা বলেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, পিয়ংইয়ংয়ের ‘বেপরোয়া’ পরমাণু অভিযান ‘খুব শিগগিরই’ যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী চীন ও রাশিয়ার তৈরি ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের দিকে সবাইকে চোখ রাখতে বলেন। তিনি বলেন, ‘মস্কো ও পেইচিং আমাদের স্বার্থের  জন্য, আমদের অর্থনীতির জন্য, আমাদের মূল্যবোধের জন্য চ্যালেঞ্জ।’ ভাষণে তিনি ইরানের ব্যাপারেও সতর্কতা উচ্চারণ করেন।

ঐতিহ্য ভাঙলেন : স্টেট ইউনিয়ন ভাষণের ঐতিহ্য ভেঙে প্রেসিডেন্ট দম্পতি আলাদাভাবে ক্যাপিটলে আসেন। পরে এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মেলানিয়ার মুখপাত্র স্টিফেনি গ্রিসহাম বলেন, অতিথিদের সঙ্গ দিতে গিয়েই তাঁকে আলাদা আসতে হয়েছে। প্রসঙ্গত, মেলানিয়া সম্প্রতি ট্রাম্পের সঙ্গে সুইজারল্যান্ড দাভোস সফর বাতিল করেন। মূলত ট্রাম্প পর্ন অভিনেত্রী স্টোরমি ড্যানিয়েলসকে ‘হাস মানি’ (মুখ বন্ধ করতে ঘুষ) দিয়েছিলেন—এই অভিযোগ ওঠার পর থেকে মেলানিয়া ও ট্রাম্পকে একসঙ্গে প্রকাশ্যে দেখা যায় না। সূত্র : এএফপি, রয়টার্স।

 

 


মন্তব্য