kalerkantho


জাতীয় টাস্কফোর্সের বৈঠক

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ উদ্‌যাপন ২২ মার্চ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ উদ্‌যাপন ২২ মার্চ

আগামী ১৬ থেকে ১৮ মার্চ, এর যেকোনো দিন জাতিসংঘ থেকে আসতে পারে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের অনেক প্রত্যাশার স্বীকৃতিপত্র; যার জন্য অধীর অপেক্ষায় রয়েছে সরকার। স্বীকৃতির বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্টের (পলিসি) পক্ষ থেকে। সিডিপি থেকে মূল্যায়নপত্র পাওয়ার পর উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের মাহেন্দ্রক্ষণ উদ্যাপন করা হবে আগামী ২২ মার্চ। গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় টাস্কফোর্সের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণে রোডম্যাপ বাস্তবায়নে গঠন করা হয়েছিল জাতীয় টাস্কফোর্স। টাস্কফোর্সের সভাপতি করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বাস্তবায়নবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদকে।

সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, মূল অনুষ্ঠানটি হবে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতিপত্র প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানানো হবে নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনসহ বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বদের। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাওয়ার মাহেন্দ্রক্ষণটি শুধু ঢাকায়ই সীমাবদ্ধ থাকছে না, দেশজুড়ে উদ্যাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব মনোয়ার আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জাতিসংঘের দেওয়া তিনটি শর্ত আমরা এরই মধ্যে পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি। যে কারণে সিডিপি থেকে আমাদেরকে প্রথম ধাপ পার হওয়ার স্বীকৃতিপত্র দেওয়া হবে ১৬ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যে। উন্নয়নশীল দেশে যাওয়ার প্রথম ধাপের মাহেন্দ্রক্ষণটি আমরা ২২ মার্চ উদ্যাপন করব। শুধু ঢাকা নয়, দেশজুড়েই এটি উদ্যাপন করা হবে।’

এদিকে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ কোথায় কোথায় চ্যালেঞ্জে পড়বে, তা নিয়েও গতকাল টাস্কফোর্সের সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এলডিসি থেকে উত্তরণ হলে বছরে রপ্তানি কমে যাবে ২৮০ কোটি ডলারের মতো, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ২২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে হারাবে জিএসপি। এ ছাড়া বৈদেশিক ঋণের সুদহার বাড়াসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কমে যাবে বাংলাদেশের আরো অনেক সুযোগ-সুবিধা। বিদেশি সংস্থার সহায়তায় ফেলোশিপ, স্কলারশিপ, প্রশিক্ষণ সুবিধাও থাকবে না উন্নয়নশীল বাংলাদেশে। এলডিসি থেকে উত্তরণ হলে বাংলাদেশের সামনে মোটা দাগে ১৩টি চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ। গতকালের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এলডিসি থেকে উত্তরণে কোথায় কোথায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বাংলাদেশ এবং কোথায় সম্ভাবনা রয়েছে তা খুঁজে বের করতে একটি বিস্তারিত সমীক্ষা করা হবে। সমীক্ষাটি করতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ জিইডিকে।

এসডিজি মুখ্য সমন্বয়ক ছাড়া বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব কাজী শফিকুল আযম, বাণিজ্যসচিব শুভাশিষ বসু, অর্থসচিব মুসলিম চৌধুরী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

সভায় উপস্থিত একাধিক সদস্য জানান, জাতিসংঘের সিডিপির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিপত্রটি যাবে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের হাতে। সেখান থেকে তা পাঠানো হবে বাংলাদেশে। ২২ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তা হস্তান্তর করা হবে। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, দেশের সাধারণ মানুষকে বিষয়টি অবগত করতে দেশজুড়ে দিনটি উদ্যাপন করা হবে।

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যুক্ত হলে বাংলাদেশের কী লাভ, সেটি জানানোর ব্যবস্থা করা হবে। গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে বিশেষ ক্রোড়পত্র। বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে দিনব্যাপী চলবে সেমিনার। ইআরডির কর্মকর্তারা বলছেন, এটি বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় অর্জন।

জাতিসংঘের শর্তানুযায়ী, ২০১৮ সালে কোনো দেশের মাথাপিছু জাতীয় আয় এক হাজার ২৩০ ডলার বা তার বেশি, মানবসম্পদ উন্নয়ন সূচকে ৬৬ বা তার বেশি এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে ৩২ বা এর কম হলে ওই দেশ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সুপারিশ পাওয়ার যোগ্য। বাংলাদেশ তিনটি শর্তই পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে।

 


মন্তব্য