kalerkantho


আজ শুরু এসএসসি পরীক্ষা

ফেসবুক বন্ধে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আজ শুরু এসএসসি পরীক্ষা

ফাইল ছবি

দেশজুড়ে আজ বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় দেশের প্রায় সাড়ে তিন হাজার কেন্দ্রে বসছে ২০ লাখ ৩১ হাজার ৮৮৯ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ১০ লাখ ২৩ হাজার ২১২ জন ছাত্র এবং ১০ লাখ ৮ হাজার ৬৮৭ জন ছাত্রী। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গতকাল বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়ে বলেছেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা ফেসবুক বন্ধ করতে বলিনি অথবা করতেও পারব না। সেই ক্ষমতাও আমাদের নেই।’

এসএসসিতে মোট পরীক্ষার্থী ১৬ লাখ ২৭ হাজার ৩৭৮ জন। মাদরাসা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষায় দুই লাখ ৮৯ হাজার ৭৫২ জন এবং কারিগরিতে এক লাখ ১৪ হাজার ৭৬৯ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।

আট সাধারণ বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি তত্ত্বীয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সকালের পরীক্ষা ১০টা থেকে দুপুর ১টা এবং বিকেলের পরীক্ষা ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ফেসবুক বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ফেসবুকের ব্যাপারে যাঁরা সরকারি দায়িত্ব পালন করেন, তাঁদের সঙ্গে আমরা আলাপ করেছি। বিটিআরসির (টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা) চেয়ারম্যানসহ অন্য যাঁরা সংশ্লিষ্ট তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা আমাদের সমস্যাটা বলেছি, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নানাভাবে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, এ ব্যাপারে আপনারা সাহায্য করতে পারেন।’

পরীক্ষা চলাকালে সীমিত সময়ের জন্য ফেসবুক বন্ধ রাখা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সেটাও তারা (বিটিআরসি) অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ ব্যাপারটি আমরা তাদের ওপর ছেড়ে দিয়েছি।’

কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। বিশেষ করে ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়েছে। পরীক্ষার দিন সকালে বিভিন্ন ফেসবুক পেইজ ও গ্রুপের প্রশ্নের সঙ্গে উত্তরও মিলছে। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এই প্রশ্নের পেছনে দৌড়াচ্ছে।

কোচিং সেন্টারগুলো পরীক্ষার সাত দিন আগে থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। যদি খোলা থাকে তবে বিষয়টা পুলিশকে আবারও জানাব যাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

প্রশ্নপত্র ফাঁস বা গুজব সৃষ্টিকারীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দুষ্কৃতকারীদের ধরিয়ে দেবেন বা প্রতিহত করবেন, যাতে সমাজে শান্তি বিনষ্ট করতে না পারে। শিক্ষক-অভিভাবকের প্রতি অনুরোধ জানাব, এমন পথে যাবেন না যাতে জীবন-ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়।’

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার একটি মামলার রায় রয়েছে, ওই সময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে পরীক্ষার্থীদের সমস্যা হলে মন্ত্রণালয় কী উদ্যোগ নেবে সে সম্পর্কে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা আছে। আমরা পরীক্ষা নিয়েছি ২০১৪ ও ’১৫ সালে। খুবই কঠিন অবস্থায় ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবেলা করেছি, বন্ধের দিনগুলোতে পরীক্ষা নিয়েছি।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা আশা করি, জনগণের কল্যাণের জন্যই রাজনীতি, এই যে ২০ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দেবে, তাদের পরিবার এবং দেশের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে পরীক্ষা ব্যাহত হয় এমন কোনো কাজ কেউ করবেন না।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যান।’

পরীক্ষার প্রথম দিন আজ বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র এবং দাখিলের কুরআন মাজিদ ও তাজবিদ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

 


মন্তব্য