kalerkantho


আজ থেকে প্রাণের মেলা

নওশাদ জামিল   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আজ থেকে প্রাণের মেলা

বইমেলার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের সংস্কৃতি জগতের সবচেয়ে বড় আয়োজন অমর একুশে গ্রন্থমেলা আয়োজনে পুরো প্রস্তুত বাংলা একাডেমি। বরাবরের মতোই রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন আজ বৃহস্পতিবার পর্দা উঠছে প্রাণের মেলার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিকেল ৩টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। এ ছাড়া তিনি ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। এরপর বিকেল ৪টা থেকে সর্বসাধারণের জন্য খুলে যাবে প্রাণের মেলার দ্বার।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণে গতকাল বুধবার বিকেলে ঢুকতেই দেখা গেল, নান্দনিকভাবে সেজে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। কারুকার্যময় স্টল ও প্যাভিলিয়নে নানা রঙের আলপনা ও প্রলেপ। রংবেরঙের স্টল থেকে কাঁচা রঙের ঝাঁজালো ঘ্রাণ এলেও তা ছড়িয়ে পড়ছে উৎসবের বার্তা নিয়ে।

আয়োজকরা জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানে সম্মানিত বিদেশি অতিথি লেখক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এগনিস মিডোস (যুক্তরাজ্য), ড. জয়েস অ্যাসউনটেনটেং (ক্যামেরুন), ইব্রাহিম এলমাসরি (মিসর), অরনে জনসন (সুইডেন) প্রমুখ। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ইব্রাহীম হোসেন খান। স্বাগত ভাষণ দেবেন একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।

গ্রন্থমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৭ প্রদান করা হবে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর হাতে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘আলোকচিত্রে বাংলা একাডেমির ইতিহাস’ এবং ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ : বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ’ গ্রন্থ দুটি তুলে দেওয়া হবে।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক গতকাল এক প্রশ্নের জবাবে কালের কণ্ঠকে জানান, মেলায় ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না—পুলিশের এমন বক্তব্যের পর তাদের সঙ্গে মেলা কর্তৃপক্ষ কথা বলেছে। পরে ঠিক হয়, হাতের ব্যাগ নিয়ে মেলায় ঢোকা যাবে, তবে এর আগে ভালোভাবে তল্লাশি করা হবে।

ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং অন্যান্যবারের মতো রাত সাড়ে ৮টার পরিবর্তে মেলা চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। শুক্র ও শনিবার সকাল ১১টা থেকে মেলা চলবে। এবার বাংলা একাডেমি চত্বরকে সদ্যঃপ্রয়াত কথাসাহিত্যিক শওকত আলীর নামে নামাঙ্কিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশে হাজারো মেলার মধ্যে বইমেলার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সময়ব্যাপী চলে এই একুশে গ্রন্থমেলা। দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের সাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ ঘটছে মূলত এই মেলাকে কেন্দ্র করে। বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতিবোধ ও ঐতিহ্য অনুপম সমন্বয়ের এই গ্রন্থমেলা হয়ে উঠেছে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সব মানুষের প্রাণের উৎসব। ফলে বাংলার একুশে মেলাও ইউনেসকোর ঐতিহ্য স্বীকৃতির অন্যতম দাবিদার এখন।

এবার বইমেলার দুটি মূল প্রবেশপথ থাকবে টিএসসি, দোয়েল চত্বর এলাকায়। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তিনটি পথ এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য থাকবে ছয়টি পথ।

মেলা আয়োজক কমিটির সদস্যসচিব জালাল আহমেদ বলেন, গতবারের চার লাখ বর্গফুটের জায়গায় এবারের মেলার আয়তন বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ বর্গফুট। তিনি বলেন, একাডেমি প্রাঙ্গণে ৯২টি প্রতিষ্ঠানকে ১৩৬টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৬৩টি প্রতিষ্ঠানকে ৫৮৩টি ইউনিট; মোট ৪৫৫টি প্রতিষ্ঠানকে ৭১৯টি ইউনিট এবং বাংলা একাডেমিসহ ২৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৫ হাজার ৫৩৬ বর্গফুট আয়তনের ২৪টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

শারীরিকভাবে অসুবিধাগ্রস্ত ও প্রবীণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে হুইলচেয়ারের সংখ্যা গতবারের চেয়ে এবার বৃদ্ধি পাবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে তিনটি এবং বাংলা একাডেমি অংশে দুটি ক্যান্টিন চালু থাকবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে উদ্যান ও একাডেমি উভয় অংশের স্টলগুলোতে টিনের ছাউনি দেওয়া হয়েছে। এবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পর্যাপ্ত মাটি ফেলে জমি ভরাট করা হয়েছে। প্রায় এক লাখ বর্গফুট এলাকায় ইট ও বালু দিয়ে অস্থায়ী রাস্তা/উন্মুক্ত প্রান্তর নির্মাণ করা হয়েছে। শিশু চত্বরে স্টলের সংখ্যা বেড়েছে। ইট বিছিয়ে শিশু চত্বরকে উন্নত করা হয়েছে। এক হাজার বর্গফুট জায়গায় টাইলস দিয়ে নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা ওজু ও টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 


মন্তব্য