kalerkantho


ভরা মৌসুমেও অমৌসুমের দাম সবজির

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



শীতকাল সবজির ভরা মৌসুম হিসেবে পরিচিত হলেও এবার ঠিক এ কথা খাটছে না। ক্রেতাকে অমৌসুমে যেভাবে বেশি দাম দিয়ে সবজি কিনতে হয়েছে এখনো সবজির দাম অনেকটা একই রকম। সরবরাহে সংকট কেটে গেলেও খুচরা বাজারে সবজির দামে এর খুব একটা প্রভাব পড়ছে না।

কয়েক দিন আগে যখন শীতের তীব্রতা বেড়ে গিয়েছিল তখন সবজির দাম নিয়ে ব্যবসায়ীদের ভাষ্য ছিল, অতিরিক্ত শীতে কৃষক মাঠ থেকে সবজি তোলার শ্রমিক পাচ্ছে না। তা ছাড়া কুয়াশার কারণে ট্রাক চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় ঢাকায় সবজি সরবরাহের ঘাটতিতে দাম বেড়ে গিয়েছিল বলে দাবি ছিল ব্যবসায়ীদের। কিন্তু চার-পাঁচ দিন ধরে শীতের তীব্রতা কম, কমেছে কুয়াশাও। বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় সবজি নিয়ে আসা ট্রাকের চলাচলও নিয়মিত। ফলে বেড়েছে সরবরাহ। কিন্তু দামের বেলায় একই রকম। দু-তিন পদের সবজি ছাড়া বাকিগুলো বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। রাজধানীর কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর ফার্মগেট কাঁচাবাজারের বিক্রেতা মাসুম মিয়া এক ক্রেতার কাছে এক কেজি লম্বা বেগুনের দাম চাইলেন ৭০ টাকা। তবে ক্রেতা দাম শুনে অন্য দোকানের দিকে যেতে চাইলে বিক্রেতা ডাকতে ডাকতে বললেন, ‘এক দাম ৬০ টাকা হলে নিতে পারবেন।’ অথচ এই বেগুন শীতের আগেও ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অন্য যত পদের সবজি ছিল ওই দোকানে অধিকাংশের দামই ৫০ টাকার ওপরে চাইলেন বিক্রেতা।

সব কিছুর দাম এত বেশি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতা মাসুম দাবি করেন, পাইকারি বাজারেই দাম বেশি। অনেকটা কাড়াকাড়ি করেই পণ্য কিনতে হচ্ছে। তাই দাম বেশি। একই বাজারের আরো দু-তিনজন বিক্রেতার সঙ্গে কথা বললে তাঁরাও একই দাবি করেন।

এ ছাড়া রাজধানীর সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের বিক্রেতা আনিসুর রহমানকে মাঝারি আকারের প্রতিটি লাউ বিক্রি করতে দেখা গেছে ৬০-৭০ টাকায়। এত দাম কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগের দিন এই লাউ ৮০ টাকায় বিক্রি করেছি। আজকে (গতকাল) ৬০-৭০ টাকা নিচ্ছি।’

সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারে আসা ওয়াহিদুজ্জামান নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘এরা বাড়ানোর বেলায় ফন্দি খুঁজে, যুক্তি দেখায়। আবার একবার কোনো কিছুর দাম বেড়ে গেলে সেটা কমিয়ে আনতেও তাদের অনেক সময় লাগে। মনে হয় ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতার বেশি কষ্ট হচ্ছে।’

আবার এক শ্রেণির ক্রেতা আশপাশের পাইকারি বাজার থেকে একটু কম দামে পণ্য কেনার চেষ্টা করে। কিন্তু এখন পাইকারি বাজারে গিয়েও লাভ হচ্ছে না তাদের। এ রকমই এক ক্রেতা মিজানুর রহমান ভূঁইয়া। গতকাল কারওয়ান বাজারে যাওয়া একই ক্রেতা বলেন, ‘এই বাজারেও দাম চড়া। আকারভেদে একেকটা কপির দাম চাইছে ৩৫-৫০ টাকা। আবার বাসার পাশেও প্রায় একই রকম দাম।’

সবজির পাইকারি বিক্রেতারা জানায়, কুয়াশা কমে যাওয়ায় সরবরাহ অনেক বেড়েছে। কারণ কিছু ট্রাক এখন সময়মতো আসতে শুরু করেছে। দামও কমছে, তবে ধীরে ধীরে। দু-তিন দিনের মধ্যে এসব পণ্যের দাম আরো অনেক কমবে। কারওয়ান বাজারের এক আড়তদার মোস্তফা হোসেন বলেন, ‘ধীরে ধীরে বাজার স্বাভাবিক হচ্ছে। কারণ আগের চেয়ে পণ্য আসা বেড়েছে। পরিবহনের সমস্যা কেটে গেলেই বাজার পড়ে যাবে।’

রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতে শুধু আলু ও পেঁপের কেজি ২০-২৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। অন্য সবজিগুলোর দাম ৫০ টাকার বেশি। বাজারভেদে প্রতি কেজি বেগুন ৬০-৬৫ টাকা, শিম ৫০-৬০ টাকা, বরবটি ৭০-৮০ টাকা, শিমের বিচি ১৪০-১৬০ টাকা, মটরশুঁটি ৮০-১০০ টাকা, লতি ৫০-৫৫ টাকা, ফুলকপি ৩৫-৫০ টাকা, বাঁধাকপি ২৫-৪০ টাকা, দেশি ও আমদানি করা পেঁয়াজ ৬০-৬৫ টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রকারের শাক আঁটিপ্রতি ৮-১২ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে দিন-দুয়েকের ব্যবধানে কিছুটা কমেছে টমেটোর দাম। প্রতি কেজি টমেটো ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৫০-৬০ টাকা।



মন্তব্য