kalerkantho


রূপনগর খালে অবৈধ স্থাপনা

এক মাসের মধ্যে উচ্ছেদের নির্দেশ হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



এক মাসের মধ্যে উচ্ছেদের নির্দেশ হাইকোর্টের

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় রূপনগর খালের সীমানায় থাকা সব অবৈধ স্থাপনা এক মাসের মধ্যে উচ্ছেদ করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গৃহায়ণ ও গণপূর্তসচিব, ওয়াসার চেয়ারম্যান ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে যৌথ জরিপের মাধ্যমে খালের সীমানা নির্ধারণ করে এ উচ্ছেদ কার্যক্রম চালাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে খালের মূল নকশা ঠিক রেখে জনসাধারণের চলাচলের জন্য ওয়াকওয়ে নির্মাণ করতে বলা হয়েছে। এ নির্দেশ কতটুকু কার্যকর হয়েছে সে বিষয়ে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রবিবার এ আদেশ দেন। রূপনগর খাল নিয়ে ঢাকার জেলা প্রশাসকের পাওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ আদেশ দেওয়া হয়। আদালতে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস। রূপনগর খাল নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গত বছর ২৬ অক্টোবর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এক আদেশে জেলা প্রশাসককে আদালতে প্রতিবেদনে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদেশে মিরপুরের রূপনগর খালের পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত করে এমন কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া রূপনগর খালের জলসীমা নির্ধারণ এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা আদালতকে জানাতে বলা হয়। এ নির্দেশে গত বছর ২০ নভেম্বর আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন জেলা প্রশাসক।

রূপনগর খাল নিয়ে জেলা প্রশাসকের দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, রূপনগর খালটি দুটি অংশে বিভক্ত। এর মধ্যে রূপনগর খাল (আরামবাগ খাল) এবং রূপনগর খাল (নিম্ন অংশ) নামে পরিচিত। প্রথম অংশটি মিরপুর কমার্স কলেজ ও বিসিআইসি চিড়িয়াখানা রোড থেকে শুরু হয়ে ইস্টার্ন হাউজিং লি. পল্লবী দ্বিতীয় পর্ব হয়ে ১৬ নম্বর রোডের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রূপনগর খালের নিম্ন অংশে মিলিত হয়েছে। এই খালের দৈর্ঘ্য দুই কিলোমিটার ও প্রস্থ ৬০-৭০ ফুট, যা মিরপুর সার্কেলের আওতাধীন। খালটি জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অধিগ্রহণকৃত হলেও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ঢাকা ওয়াসা বরাবর হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, মোহাম্মদপুর সার্কেলাধীন রূপনগর খালের নিম্ন অংশে দুয়ারীপাড়া মৌজার মহানগর ৭০১ নং দাগে প্রায় ৩০-৪০ ফুট প্রস্থ এবং ৭০০ ফুট দৈর্ঘ্যে সরেজমিনে দৃশ্যত খাল হিসেবে নির্ধারণ করা আছে। এর ধারাবাহিকতায় উত্তর অংশে ৩০-৪০ ফুট প্রস্থ ও ১৫০ ফুট দৈর্ঘ্যে আরএস রেকর্ড মোতাবেক খাল থাকলেও মহানগর রেকর্ডে ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ডভুক্ত হয়েছে, যা সরেজমিনে ভরাটকৃত অবস্থায় রয়েছে। প্রতিবেদনে দখল হয়ে যাওয়া ঢাকা মহানগরের খালগুলো বৃহৎ প্রকল্পের মাধ্যমে খননকাজ পরিচালনার সুপারিশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, খালসমূহ অবৈধ দখলমুক্ত করে খালের দুই পারে বৃক্ষরোপণসহ ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা প্রয়োজন।



মন্তব্য